হিসাব কষছেন খালেদা-তারেক

khalada zia and tareq rahmanওয়ান নিউজ বিডি ডেস্ক : সিটি করপোরেশনের তিনটি নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ, অর্ধবেলায় নির্বাচন প্রত্যাহার, বর্জন, প্রার্থীদের বিপুলসংখ্যক ভোট পাওয়া, বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে না থাকা ও বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে নেতাকর্মীরা ভোটকেন্দ্রে অবস্থান না নেয়া, পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়ার পরও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারা, শেষ মুহূর্তে বিএনপির নেতাদের অবস্থা,

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিএনপির নির্বাচন বর্জন পূর্বপরিকল্পিত ও সাজানো নাটক অ্যাখ্যা দেয়া, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এসব মিলিয়ে এখন লাভ ক্ষতির হিসাব কষছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তাদের বিবেচনায় লাভ ও লোকসানের বিষয়টি বিবেচনা করে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবেন। এরপর খালেদা জিয়া দলের সিনিয়র নেতা ও ২০ দলীয় জোটের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। সেখানে বসেই ঠিক করবেন পরবর্তী ঘোষণা কি দেবেন। আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি দেবেন নাকি আরো সময় নেবেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, বিএনপি ও জোটের নেতাদের অনেকই এই মুহূর্তে দলের ও জোটের তরফ থেকে বড় ধরনের আন্দোলনে যেতে চাইছে না। তাদের বিবেচনা হচ্ছে সরকার সিটি নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর যতটা স্বস্তিতে থাকার কথা ছিল, সেটা নেই।

কারণ তারা যে ভোট কারচুপি করেছে এটা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রিন্ট মিডিয়ার রিপোর্টে বের হয়ে এসেছে। আর প্রিন্ট মিডিয়ার সঙ্গে বিএনপির করা অভিযোগের হুবুহু মিলে যাওয়ায় সরকার কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে পড়েছে। আর এটা সরকার কাউকে বুঝতে দিতে চাইছে না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের অন্য মন্ত্রীদের কথায় সেটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিএনপি যাতে নির্বাচন বর্জন ও প্রত্যাহার করা নিয়ে কোনো ধরনের আন্দোলন করতে না পারে সেই জন্য সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।

সরকারের নীতি নির্ধারক মহলের একটি সূত্র জানায়, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। এই কারণেই বিএনপি এখনো নতুন করে কোনো আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারছে না। কারণ তারা জানে যে জনগণ তাদের সঙ্গে নেই। সেটাই থাকলে সরকারের বিপক্ষে ভোট দেয়ার জন্য বিএনপির নেত্রীর কথায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মাঠে নামতো।

কিন্তু সেটা তারা নামেনি। ভোটারদের অনেকেই ভোট কেন্দ্রেই যায়নি। তবে বিএনপি পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে নির্বাচন বয়কট ও প্রত্যাহার করায় তাদের প্রতি জনগণের আস্থা নেই। এই কারণে এখন তার আন্দোলনের কোনো কর্মসূচি দিলে জনগণ তাতে সাড়া দেবে না।

বিএনপি চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, আমাদের হিসাব ছিল সরকারি দলের নেতাকর্মীরা আমাদের দলের পোলিং এজেন্টদের বাধা দিলেও তারা শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে। ভেতরে প্রবেশ করতে না দিলেও তারা যেভাবেই হোক প্রবেশ করবে। কিন্তু তারা সেটা করতে পারেনি।

এই কারণে তাদের বের করে দেয়া ও ভেতরে প্রবেশ করতে না দেয়া যেরকম ঘটনা তারা সরকারের বিরুদ্ধে গড়ে তুলতে পারত সেটা তারা পারেনি। বাইরে থেকে পোলিং এজেন্ট নেয়াতে অনেকেই ভয়ে চলে গেছে। নেতারাও তেমনভাবে যায়নি। এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন এটাও বিবেচনা করছেন মির্জা আব্বাস বিএনপির ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক।

সেটা হওয়ার পরও তার পক্ষে জন সমর্থন তেমন ছিল না। কারণ বিএনপির মেয়র তিন প্রার্থীর মধ্যে তিনি সবচেয়ে কম ভোট পেয়েছেন। তার কম ভোট পাওয়ার মধ্য দিয়ে এটাও প্রমাণিত হয়েছে মহানগরীর বিএনপির মধ্যে এখনো কোন্দল জোরালো রয়েছে। সাংগঠনিকভাবে বিএনপিকে আরো সুসংগঠিত করতে হবে।

সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ধারণা ছিল অন্তত সব কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টরা যাবে। কিন্তু সেটা যায়নি। রাজনৈতিক কৌশলে তারা হেরেছে না জয়ী হয়েছে সেই হিসাব মেলানোর চেষ্টা করছেন। তবে ঘোষিত ফলাফলের ভোটের অংক তাদের অনেকটা বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছ। তারা জনগণকে এখনও আশ্বস্ত করতে পারেননি যে এত ভোট তারা পায়নি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, এখনো পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এটা সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য ম্যাডাম দলের সিনিয়র নেতা ও ২০ দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে বসবেন। সেটা বসেই কর্মসূচি ঠিক করবেন।

সহসাই কর্মসূচি আসছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপাতত হরতাল ও অবরোধ দিলে জনগণের মধ্যে ভোট নিয়ে সরকারের প্রতি যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে সেটা মিলিয়ে যাবে মনে করে তারা এখনো কোনো কর্মসূচি দেয়নি। আরও সময় নিতে চাইছে।

বিএনপির সিনিয়র একজন নেতা বলেন, বিএনপি এটাও চিন্তা করছে এখনই নতুন করে আন্দোলনের ডাক দিলে সেটা ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না। বরং আবারো এখন আন্দোলন শুরু করলে এটা হিতে বিপরীত হতে পারে। অন্যদিকে আগামী ৫ মে থেকে শুরু হচ্ছে ও লেভেল এবং লেভেল পরীক্ষা। এই সময়ে তাদের অনেকেই কোনো কর্মসূচি না দিতেও পরামর্শ দিয়েছেন।

তাদের আন্দোলনের কারণে গত জানুয়ারি ও ফেব্র“য়ারি মাসে ‘ও’ লেভেল ও ‘এ’ লেভেলের অনেক পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেনি। এতে করে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিক্ষাবর্ষও পিছিয়ে গেছে। আর এই কারণেই দেখা গেছে ওইসব অভিভাবকরা যারা বিএনপিকে সমর্থন করতেন তারাও তাদের প্রতি সমর্থন তুলে নিয়েছেন।

একই ঘটনা ঘটেছে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে যারা বিএনপি সমর্থন করতেন তারাও সময়মতো পরীক্ষা দিতে না পারায় বিএনপির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। এবার আন্দোলনের ক্ষেত্রে এসব বিষয়গুলোও বিবেচনা করছেন।

ব্রিটিশ কাউন্সিলের সূত্র জানায়, হরতাল অবরোধের কারণে জানুয়ারি ও ফেব্র“য়ারিতে অনেকেই পরীক্ষা  দিতে পারেননি। পরে আর তাদের পরীক্ষা নেয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। এই পরীক্ষা গোটা বিশ্বব্যাপী একই সময়ে হয়ে থাকে। এই কারণে তাদের অপেক্ষা করতে হবে নতুন করে পরীক্ষা দেয়ার জন্য। ব্রিটিশ কাউন্সিলের একজন কর্মকর্তা বলেন, এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিন্তু আমাদের করণীয় নেই।

হরতালের মধ্যে স্টুডেন্টদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা পরীক্ষা নিতে পারি না। তিনি আরো বলেন, এবারও যদি পরীক্ষার সময়ে এই ধরনের কোনো কর্মসূচি থাকে তাহলে পরীক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন বিপর্যন্ত হবে কিন্তু আমাদের করণীয় কিছুই থাকবে না।

এই ব্যাপারে আদর্শ ঢাকা আন্দোলন, শত নাগরিক কমিটির নেতা, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিমকোর্ট বারের সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আমরা আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করার ক্ষেত্রে ‘ও’ লভেল ও ‘এ’ লেভেল পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করছি। একমাসের বেশি সময় পরীক্ষা হবে। এরমধ্যে কিভাবে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা যাবে সেটা দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপি কিছুটা সময় নিতে পারে নতুন করে আন্দোলন শুরু করতে। তবে রোজার পরে নয়।

রোজার আগেই কর্মসূচি দিয়ে এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হবে। দলের ভেতরে এ নিয়ে দ্বিমত রয়েছে। কোনো কোনো নেতা মনে করছেন, এখন বিএনপি নতুন করে আন্দোলন শুরু করলে আবারো আন্দোলন ব্যর্থ হবে। বরং হরতাল অবরোধের কোনো কর্মসূচি না দিয়ে এখন স্বাভাবিক রাজনীতি নিয়ে থাকা উচিত।

news portal website developers eCommerce Website Design
Close ads[X]