মনজুর আলমের অনেক দুঃখ ও ক্ষোভের কথা

monjurওয়ান নিউজ ডেস্ক: ভোট শুরুর সোয়া তিন ঘণ্টার মধ্যেই নির্বাচন বয়কট ও রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর যুগপৎ ঘোষণায় তিনি সৃষ্টি করেছেন চাঞ্চল্য। মাত্র সোয়া তিন ঘণ্টায় তিন লক্ষাধিক ভোট পেয়েছেন তিনি। প্রতি মিনিটে দেড় হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন চট্টগ্রামের এই বিদায়ী মেয়র এম মনজুর আলম। নগরবাসী বলছেন, আরেকটু ভেবেচিন্তে ভোটের মধ্যে থাকলে হয়তো অন্য রকম ফল হতেও পারত। গতকাল তার বাসভবনে এ প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয় মেয়র মনজুরের সঙ্গে। তিনি বললেন, ‘মাত্র তিন ঘণ্টায় তিন লক্ষাধিক ভোট প্রমাণ করে, চট্টগ্রামে আমার জনপ্রিয়তা। ভোটারদের এমন নীরব বিপ্লবের ইঙ্গিত পেয়েই সকাল থেকে কেন্দ্র দখলের মহোৎসব শুরু করে আওয়ামী লীগ। দুর্ভাগ্য, কেন্দ্রে থাকা এজেন্টদের সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালনকারী নেতাদের কমিউনিকেশন গ্যাপ ছিল। তাই সোয়া তিন ঘণ্টার মধ্যেই নির্বাচন থেকে সরে আসার ঘোষণা দিতে হয়েছে আমাকে। আসলে আমাদের নির্বাচনী কৌশলে কিছু ভুল ছিল।’

চট্টগ্রাম সিটিতে ভোটকেন্দ্র ছিল ৭১৯টি। বুথ ছিল চার হাজার ৯০৬টি। বিভিন্ন কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টসহ সাড়ে ছয় হাজার নির্বাচনী কর্মী ছিল এম মনজুর আলমের। ভোটারদের ‘নীরব বিপ্লবে’র ব্যাপারটি ভাবিনি আমরা। পোলিং এজেন্টদের সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনার

দায়িত্বে থাকা বড় নেতাদের যোগাযোগে সমন্বয় ছিল না বলে মনে করেন মনজুর আলম। তিনি বলেন, ‘আমি একের পর এক কেন্দ্র দখলের ফোন পেয়ে ধরে নিয়েছিলাম, সব শেষ। নির্বাচনে যারা অভিজ্ঞ, এ সময় তাদের পরামর্শ জরুরি ছিল আমার জন্য।’

মনজুর আলমের নির্বাচন পরিচালনা কার্যক্রমে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান ও মহানগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ছিলেন সরাসরি সম্পৃক্ত। তারা এ ব্যাপারে কেন দিকনির্দেশনা দেননি_ এমন প্রশ্নে মনজুর বলেন, ‘নির্বাচনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনেক খেটেছেন তারা। নোমান ভাইয়ের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। খসরু ভাইকেও সিদ্ধান্তের কথা জানাতে ফোন করেছি। দেওয়ানহাটের নির্বাচনী কার্যালয়ে আসার পর তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। তারা ধরে নিয়েছিলেন, এ নির্বাচনের ফল হবে একান্ত একপেশে। তাই নেতাকর্মীদের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সোয়া ১১টাতেই নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্ত দিই।’ তৃণমূলের কর্মীরা বলছেন, এ সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। এজেন্টদের সঙ্গে আলোচনা করে আরেকটু সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত দিলে ফল অন্য রকম হতো। আপনি কী মনে করেন? এমন প্রশ্নের মনজুর আলম বলেন, ‘হয়তো হতো। আমি সবকিছু আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি। নেতাকর্মীদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি চাইনি। আওয়ামী লীগ কেন্দ্র দখলের মহোৎসব চালালেও আমার কোনো কর্মীর মাথা ফাটেনি।’

দলের প্রতি এত আনুগত্য থাকলে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিলেন কেন? এ প্রশ্নে মনজুর বলেন, ‘রাগে, ক্ষোভে ও দুঃখে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছি। আমার মনে হচ্ছে, আমি যে ঘনারার রাজনীতিবিদ, তাদের দিন ফুরিয়ে গেছে। তা ছাড়া বয়সও হয়েছে। জীবনের বাকি সময়টা সমাজসেবা করে কাটাতে চাই।’ কিন্তু দল বলছে, আপনি আবার ফিরবেন বিএনপির রাজনীতিতে। দলীয় সভানেত্রী খালেদা জিয়া যদি অনুরোধ করেন, সিদ্ধান্ত পাল্টাতেও পারেন। কথা শেষ না হতেই মনজুর আলম বললেন, ‘ম্যাডাম বললেও আমি আর রাজনীতিতে ফিরব না। আমার পরিবারের সদস্যরাও চায় না, আমি আর রাজনীতি করি। রাজনীতির পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। তবে এ কথাও ঠিক, রাজনীতিবিদ ছাড়া দেশ চলবে না।’

প্রতি মিনিটে দেড় হাজারের বেশি ভোট পাওয়া প্রসঙ্গে মনজুর আলম বলেন, ‘চার হাজার ৯০৬টি বুথে প্রতি মিনিটে দেড় হাজারের বেশি ভোট পড়া অস্বাভাবিক নয়। আসলে আমার প্রাপ্ত ভোট আরও বেশি ছিল। বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলরদের প্রাপ্ত ভোট হিসাব করলে এ কারচুপি বেরিয়ে আসবে। আমি নির্বাচন কমিশন থেকে রেজাল্টশিট সংগ্রহ করব। এজেন্টদেরও তথ্য দিতে বলেছি।’ নির্বাচন ও রাজনীতি বয়কট করার পর কেন এমন তথ্য সংগ্রহ করছেন, তাহলে কি আপনি অনুতপ্ত? মনজুর আলমের জবাব, ‘কিছুটা তো খারাপ লাগছে। মানুষের এত ভালোবাসা নোংরা রাজনীতির কাছে হেরে গেল। মানুষের নীরব সমর্থনের কথা বুঝতে পারলাম না আমরা কেউই।’

news portal website developers eCommerce Website Design
Close ads[X]