বগুড়ায় যুবদল সভাপতিকে গ্রেফতারের পর পায়ে গুলি

boguraবগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়া শহর যুবদলের সভাপতি, পৌর কাউন্সিলর ও পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মাসুদ রানা মাসুদ গ্রেফতারের পর পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পুলিশ দাবি করেছে, শনিবার গভীর রাতে শহরতলির ছোট কুমিড়া গ্রামে শ্যালকের বাড়ি থেকে তাকে নাশকতার মামলার ওয়ারেন্টমূলে গ্র্রেফতারের চেষ্টা করা হয়। তখন ককটেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যেতে থাকলে পুলিশ আত্মরক্ষায় শর্টগান দিয়ে গুলি করলে তিনি পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। ওই বাড়ি থেকে একটি পাইপ গান, ২টি কার্তুজ ও ২২টি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। আহত মাসুদকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পুলিশ প্রহরায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে স্বজনরা দাবি করেছেন, পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে তার পায়ে গুলি করেছে। বাড়িতে কোন ককটেল বা আগ্নেয়াস্ত্র ছিল না।
বগুড়ার এএসপি (মিডিয়া) গাজিউর রহমান সাগর জানান, শহরতলির ছোট কুমিড়া গ্রামের মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে মাসুদ বগুড়া পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, শহর যুবদলের সভাপতি ও পুলিশের তালিকাভূক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে থাকা ৩৪টি মামলার মধ্যে ৫টিতে ওয়ারেন্ট হয়েছে। ২০ দলীয় জোটের গত তিন মাসের হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে মাসুদ শহরতলির চারমাথা, এরুলিয়া ও মাটিডালি এলাকায় পেট্রলবোমা হামলা, নাশকতার পরিকল্পনা ও নেতৃত্বদান করেন। শনিবার রাত পৌণে ৩টার দিকে গোপনে খবর পেয়ে সদর থানার ওসি আবুল বাশারের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা একই এলাকায় তার শ্যালকের বাড়িতে অভিযান চালান। দরজায় নক করলে মাসুদ টের পেয়ে পুলিশের উপর ককটেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা আত্মরক্ষায় শর্টগান দিয়ে ৫ রাউন্ড গুলি করলে পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাসুদ পড়ে যান। তখন তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার ঘরে তল্লাশী করে খাটের নিচ থেকে একটি পাইপগান, ২টি কার্তুজ ও ২২টি ককটেল পাওয়া গেছে। সদর থানার ওসি জানান, মাসুদকে পুলিশ প্রহরায় শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সাবেক শিবির নেতা মাসুদকে কিছুদিন আগেও শহরের মালতিনগরের একটি বাড়ি থেকে বিপুল সংখ্যক ককটেল ও তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেফতার করা হয়েছিল। বগুড়ার ছিলিমপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শাহ্ আলম জানান, তার বাম পায়ে একটি গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
এদিকে শহর যুবদল সভাপতি মাসুদ রানা মাসুদ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধার প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে চাইলে জেলা বিএনপি ও যুবদলের শীর্ষ নেতারা কেউ ফোন ধরেননি। জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রাজু কোন মন্তব্য করতে চাননি। তবে মাসুদের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, পুলিশ শনিবার গভীর রাতে ছোট কুমিড়ায় শ্যালম আলমের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে কোন আগ্নেয়াস্ত্র বা ককটেল পাওয়া যায়নি। পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে তার পায়ে গুলি করেছে।

 

news portal website developers eCommerce Website Design