সাপাহারের ঐতিহ্য ও কালের সাক্ষী লক্ষী মন্দির

mondirজাহাঙ্গীর আলম মানিক, সাপাহার (নওগাঁ) : নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলা সদর হতে প্রায় ০৭কিঃমিঃ দক্ষিন পশ্চিমে কোচকুড়লিয়া গ্রাম। এই গ্রামে কালের স্বাক্ষি হয়ে আজো দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক লক্ষী মন্দির। প্রাচীন স্থাপত্য র্কীতির এক অনুপম  নিদর্শন মন্দিরটি কবে নির্মিত হয়েছে তার সঠিক ইতিহাস জানা মানুষ ওই এলাকায় খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তবে  সঠিক তদারকি ও সংস্কার অভাবে কালের স্বাক্ষি মন্দিরটি আজ ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে। এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রবীন ব্যক্তিদের নিকট থেকে জানা যায় বৃটিশ শাসনামলে দিনাজপুরের রাজা জগদিশ নাথ রায় বহাদুর মুর্শিদাবাদের জমিদার শ্রী বিনয় কৃষ্ণের মাতা শ্রীমতি সদয়া লক্ষী দেবীকে তার অংশিদারিত্বের সূত্রে অত্র এলাকায় তার জমিদারির ২আনা সম্পত্তি প্রদান করেন। পরে লক্ষী দেবি উক্ত সম্পত্তি ও তার জমিদারি পরিচালনার জন্য তার পুত্র বিনয় কৃষ্ণ বন্দোপাধ্যায়কে ওই এলাকায় পাঠান।

বিনয় কৃষ্ণ বন্দো পাধ্যায় উক্ত জমিদারি রক্ষনাবেক্ষনের জন্য কোচকুড়লিয়া গ্রামে একটি কাচারী বাড়ী নির্মাণ করেন এবং তার মায়ের আদেশে সেখানে অবস্থিত প্রাচীন আমলের ওই মন্দীরটিকে পুনঃসংস্কার করে প্রতি বছর আশ্বিন মাসের শেষ দিনে দেবী লক্ষীকে তুষ্ট করার জন্য সেখানে এক পুজা অর্চনার ব্যাবস্থা করেন। পুজা অর্চনার সাথে সাথে সেখানে সেই পুজা উপলক্ষে মন্দির চত্বরে একদিনের এক বিশাল মেলার ও আয়োজন করেন। সে সময়ে লক্ষী দেবী তার পুত্রের প্রতি সন্তষ্ট হয়ে সুষ্ঠ ভাবে পুজা অর্চনা ও মেলার স্বার্থে ওই মন্দিরের নামে ২৪একর সম্পত্তি উইল করে দেন।

এর পর ১৯৩৫ সালে তে-ভাগা আন্দোলন দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়লে মন্দিরের সেবায়েতগন সহ ওই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় সকলে প্রাণ ভয়ে ভারতে পালিয়ে আশ্রয় নেয়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ওই এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি মন্দিরের নামে উইলকৃত সম্পত্তির কাগজ তৈরী ও জবর দখল/অনুমতি দখল মুলে  নিজ নিজ নামে রেকর্ড করে অদ্যবদি ভোগদখল করে যাচ্ছে। পরবর্তীতে ভারত থেকে পালিয়ে যাওয়া হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকেই আবার দেশে ফিরে এসে কালের স্বাক্ষী মন্দিরটিতে কোন রকমে তাদের পুজা অর্চনা শুর” করেন।

আর্থিক সংকট ও হিন্দু সম্পদায়ের দৈন্যতার কারনে বর্তমানে সেখানে আর আগের মতো জাক জমকভাবে কোন পুজো অনুষ্ঠান বা মেলা কোনটিই বসেনা। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন মন্দিরের নামীয় সম্পত্তি পুনঃর”দ্ধারে মন্দিরের সেবায়েত শ্রী মনম্মথ বর্মন মন্দিরের পক্ষে বাদী হয়ে আদালতে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলা দু’টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

অপর দিকে ১৯৯৫ সালের দিকে রাতে অন্ধকারে কতিপয় দুর্বৃত্ত মন্দিরটির চুড়ায় অবস্থিত মুল্যবান গম্বুজটি ভেঙ্গে চুরি করে মন্দিরের মুল সৌন্দর্যকে বিনষ্ট করে এবং গোড়ার নিচের মাটি সরে গিয়ে মন্দিরটির গোড়া ভেঙ্গেপড়ার উপক্রম হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৭সালের দিকে ওই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন মন্দিরটি পুনঃসংস্কার করার জন্য তৎকালিন সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে আবেদন করলে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে কিছু গম,চাল মন্দিরের নামে বরাদ্দ হয়। সেই বরাদ্দের চাল গম দিয়ে তারা মন্দিরটির চুড়ায় একটি কৃত্রিম নকল গম্বুজ তৈরী ও গোড়ায় মাটি কেটে ভরাট করে গোড়া সংস্কার করেন।

প্রাচীন স্থাপত্য পুরাকৃর্তির নিদর্শন বিশালাকৃতির মন্দির উচ্চতা ৬০ফুট এবং চতুর দিকের ব্যাস ১০ী ১৫ফুট। উল্লেখ্য ঐ মন্দিরের সামনে একটি দিঘী রয়েছে মন্দিরের নামানুসারে দিঘীটির নাম লক্ষী দিঘী। এর উত্তর দিকে আরো একটি ছোট মন্দির রয়েছে সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন স্বরসতি দেবীর পুজা অর্চনা করেন। এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন লক্ষী মন্দিরের নামীয় সকল সম্পত্তি পুনঃর”দ্ধার করে আগের মত সেখানে পুজা ও মেলার আয়োজন করে ধর্মীয় ভাবগাম্ভির্যকে ধরে রাখার জন্য সংশিষ্ট মহলের দৃষ্টি কামনা করেছেন।

news portal website developers eCommerce Website Design
Close ads[X]