ধামইরহাটে ১৮ হাজার হেক্টর জমির ধান মাড়াই শুরু

রাইহান বাবু, ধামইরহাট (নওগাঁ) : নওগাঁর ধামইরহাটে চলতি ইরি বোরো মওসুমে এবার প্রায় ১৮ হাজার ৬শত হেক্টর জমির ইরি বোরো ধান মাড়াই শুরু হয়েছে। সঠিক সময়ে সার কীটনাশক প্রয়োগ ও ধান চাষের অনুকূল পরিবেশ থাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকগণ ধান মাড়ায়ের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। তবে ধানের দাম না থাকায় অনেকটা হতাশ হয়ে পড়ছেন।

জানা গেছে,নওগাঁর আদি বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে খ্যাত ধামইরহাট উপজেলায় এবার ১৮ হাজার ৬শত হেক্টর জমিতে কৃষকগণ ইরি বোরো ধান চাষ করেছে। ১৭ হাজার ২শত ৩৫ হেক্টর জমিতে উফশী জাতের এবং ১ হাজার ৩শত ৭০ হেক্টর জমিতে হাইব্রীড জাতের ধানের চারা রোপন করা হয়েছে।

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ৩শত ৫৭টি বিদ্যুৎ চালিত গভীর নলকূপের মাধ্যমে ৭ হাজার ৬ শত ৭০ হেক্টর জমিতে পানি সেচ প্রদান করা হয়েছে। অবশিষ্ট জমি বিদ্যুৎ চালিত এসটিডব্লিউ ১৭৭টি (অগভীর নলকূল) ও ডিজেল চালিত শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে সেচের ব্যবস্থা করা করেছে কৃষকগণ। জিরাশাইল,ব্রিধান-২৮,ব্রিধান-২৯,পারিজা প্রভৃতি জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। কৃষকগণ শুরু থেকে সঠিকভাবে বীজতলায় চারা গজানো ও ক্ষেতে চারা রোপন করে। পরবর্তীতে ধান গাছের পরির্চ্চা ও সঠিক সার কীটনাশক প্রয়োগ ও পানি সেচ দেয়া হয়। এবার ধানগাছে রোগ বালাই তেমন নেই বললেই চলে।

তবে এবার ঘন ঘন বৃষ্টি হয়ার কারণে জমিতে পানি সেচ দিতে কৃষকদেরকে বেগ পেতে হয়নি। তবে কয়েক দিন পূর্বে কালবৈশাখী ঝড়ের প্রভাবে অনেক ক্ষেতের ধান গাছ মাটিয়ে নুয়ে পড়ে। এতে ফলন কিছুটা কম হয়। মালাহার গ্রামের কৃষক বদিউল আলম বলেন,প্রাকৃতিক কোন দূর্যোগ তেমন না হয়ার এবার ইরি বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। হাটনগর গ্রামের কৃষক আবু সাঈদ বলেন,আশা করা যাচ্ছে এবার হেক্টর প্রতি প্রায়  ৬ মে.ট্রন ধান  ফলন হতে পারে। এদিকে সরু ধান হিসেবে পরিচিত জিরাশাইল চালের ভাত খাওয়ার জন্য কৃষক দিন গুনছেন।

বাজারে ধান কেনা বেচা শুরু হয়েছে। বর্তমান বাজারে প্রতি ৪০ কেজি ধান ৫ শত থেকে ৫শত ৩০ টাকা দরে কেনা বেচা চলছে। কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করে বলেন ধানের ন্যায্য মূল্য না পেলে তাদেরকে ক্ষতির সম্মুখিন হতে হবে। তাছাড়া ধানের উৎপাদন খরচ আগের থেকে বেড়ে গেছে। সরকারীভাবে ম্যৌসুমের শুরু থেকে কৃষকদের নিকট থেকে ন্যায্যমূল্যে সরকারী খাদ্য গুদামে ধান ক্রয় করলে তারা উপকৃত হবেন বলে অভিজ্ঞ মহল মত পোষন করেছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. মো.জামাল উদ্দিন বলেন,ধান চাষের অনুকূল পরিবেশ এবং অন্যান্য বারের তুলনায় এবার ধান গাছের তেমন কোন রোগ বালাই নেই বললেই চলে।

সঠিক সময়ে কৃষকগণ সার,কীটনাশক,পানি সেচ ও ধান গাছের পরির্চ্চা এবং উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরলস পরিশ্রম ও কৃষকদের বিভিন্ন বিষয়ে সঠিক দিক নির্দেশনা প্রদান করায় সার্বিকভাবে এ উপজেলায় এবার ইরি বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে কৃষকগণ ধান মাড়াই কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। হেক্টর প্রতি প্রায় ৬ মে.ট্রন ধান ফলন পাওয়া যাচ্ছে। তবে ধানের দাম কম হয়ায় কৃষকগণ কিছুটা চিন্তিত।

news portal website developers eCommerce Website Design