বগুড়ায় দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান

এম নজরুল ইসলাম,(বগুড়া) : কালবৈশাখীর ঝড়ে বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় জোয়াল মাটাই নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও চৌমুহনী আদর্শ কেজি স্কুলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে টিনের ছাউনীও উড়ে গেছে। ফলে শিক্ষার্থীদের খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান। যেকারণে ভোগান্তিন শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার পরিবেশ নিয়েও উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও শিক্ষকরা।

জানা গেছে, উপজেলার চামরুল ইউনিয়নের জোয়ার মাটাই নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ১৯৯৯সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। পাঠদানের স্বীকৃতি পায় ২০০৩সালের ১জানুয়ারি। মঞ্জুরীপ্রাপ্ত হয় ২০০৬সালের ১জানুয়ারি। গত ৪এপ্রিল কালবৈশাখীর ঝড়ে নন এমপিও ভুক্ত এশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩টি শ্রেণী কক্ষের টিনের ছাউনী উড়ে যায়। বৃষ্টির পানিতে ভিজে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নষ্ট হয়ে গেছে।

অর্থের অভাবে ক্ষতিগ্রস্থ টিনের ছাউনী মেরামত করতে না পারায় বাধ্য হয়েই প্রায় ১মাস যাবত ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেনীর প্রায় ১৫০জন শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের সামনে গাছতলায় খোলা আকাশের নিচে পাঠদান দেয়া হচ্ছে। প্রচন্ড রোদ, বৃষ্টি ও প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করেই শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে যাচ্ছেন। যার ফলে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনছুর রহমান ফজলু বলেন, ঝড়ে আমাদের বিদ্যালয়ের টিনের ছাউনী উড়ে গেছে। বিদ্যালয়ের এসমস্যা সমাধানে আমরা সরকারীভাবে সাহায্যের জন্য আবেদন করেছি। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি লাঘবে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এদিকে ২১এপ্রিল রাতে কালবৈশাখীর ঝড়ে উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের চৌমুহনী আদর্শ কেজি স্কুলের টিনের ছাউনী উড়ে যায়।

ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় পার্শ্ববর্তী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যাক্ত শ্রেণীকক্ষে বর্তমানে চলছে প্লে থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত ১২০জন কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান। ১৯৯৪সালে এলাকার দানশীল ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের প্রচেষ্টায় এশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের দেয়া অর্থ থেকে নামমাত্র বেতন নিয়ে ৯জন শিক্ষক ভালো ফলাফলের লক্ষ্যে সকল বাধা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছে। ঝড়ে শেণীকক্ষের টিনের ছাউনী উড়ে গিয়ে ও ক্ষতিগ্রস্থ এবং শ্রেণীকক্ষগুলো বৃষ্টিতে কর্দমাক্ত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কর্তৃপক্ষ। তারপরেও সুনামের সহিত পাঠদান অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষকরা।

এটা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রতি প্রবল আগ্রহ ও অভিভাবকদের আন্তরিকতার কারণে। শিশুদের এ দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ক্ষতিগ্রস্থ টিনের ছাউনী মেরামত করতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা। এলাকাবাসী, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা এ দু’টি ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দ্রুত মেরামত করে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবী জানিয়েছেন।

news portal website developers eCommerce Website Design
Close ads[X]