নাছিরপন্থিদের আতঙ্কে চসিক কর্মকর্তারা!

nasirচট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর শুরু হয়ে গেছে অত্যাচারের খড়গ। নবনির্বাচিত মেয়র আ জ ম নাছির পন্থী আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগই শুরু করেছে এই অত্যাচার। তাদের অভিযোগ নির্বাচনের আগে আ জ ম নাছির উদ্দিনের বিপক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

জানা যায়, নির্বাচনের পরদিন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে নবনির্বাচিত মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের বাসভবনে ফুল দিতে যান কর্মকর্তারা। তারা মেয়রের বাড়িতে প্রবেশের মুখেই নগর যুবলীগ নেতা একরামুল হকের তোপের মুখে পড়েন। তিনি চসিক কর্মকর্তাদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। মেয়রকে কেন ফুল দিতে এসেছে তা জানতে চান।

কর্মকর্তারা জানান, যুবলীগ নেতা একরাম তাদেরকে গায়ে হাত তোলা ছাড়া বাকি সব করেছেন। মান সম্মানের কথা ভেবে তারা এর কোন প্রত্যুত্তর দেননি। এই ঘটনাটি ছাড়াও ছাত্রলীগ-যুবলীগের গুটিকয় কর্মী কর্পোরেশনের অন্যান্য কর্মকর্তাদেরও নানাভাবে কাবু করার চেষ্টা করছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা একরাম জানান, চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা অধ্যাপক মো. শহীদুল্লাহ মেয়র নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনজুর আলমের পক্ষে কাজ করেছেন। তাই তিনি এ কাজটি করেছেন। এ বিষয়ে নবনির্বাচিত মেয়রের অনুমতি রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, রেগে গিয়ে আমি এ কাজ করেছি। অবশ্যই পরে বুঝতে পেরেছি আমার ভুল হয়েছে।

সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম কাপাসগোলা স্কুলের সাইফুর রহমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষকদের ২১ মাসের এমপিওর প্রায় ৪০ লাখ টাকা সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব বিভাগে জমা না দিয়ে ব্যাংকে ফেলে রেখেছিলেন।

টাকাগুলি ফেরত যাওয়ার উপক্রম হলে মেয়র মনজুর আলম তাকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেন। পরে তাকে ওএসডি করা হয়। এই ঘটনার জের ধরে যুবলীগ নেতা একরাম কর্মকর্তাদের সাথে এ রকম আচরণ করেছে বলে একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এদিকে, মেয়র প্রার্থী মনজুর আলমের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণার চালানোর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা অধ্যাপক মো. শহীদুল্লাহ জানান, নির্বাচনের সময় তার আপন ভাই প্রায় মাস খানেক গুরুতর অসুস্থ থেকে মৃত্যুবরণ করেন। তাই প্রতিদিন অফিস শেষে তাকে ভাইয়ের জন্য সময় দিতে হয়েছে। কারো পক্ষে প্রচারণা চালানোর সময় সুযোগ কোনটাই তার ছিল না। তাছাড়া প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোরও সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, নবনির্বাচিত মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন এ ব্যাপারে তেমন কোন প্রতিক্রিয়া না দেখালেও অনুসারি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা নানাভাবে চসিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি জনসমক্ষে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজের ঘটনাও ঘটিয়ে চলেছেন। এনিয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে ক্ষোভ ও আতংক বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে নবনির্বাচিত চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। কিন্তু শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আমি ঢাকায় অবস্থান করছি। ফেরার পর ঘটনার সত্যতা জেনে এ ব্যাপারে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোন রকম অন্যায়-অত্যাচার সহ্য করা হবে না বলে জানান তিনি। ঢাকাটাইমস

news portal website developers eCommerce Website Design