বগুড়ার নন্দীগ্রামে হাট-বাজারে বেড়েছে ধানের দাম

riceবগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ার নন্দীগ্রামে আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে হাট-বাজারে প্রতিমণ ধানে প্রায় ২শ’ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে কৃষকেরা দুশ্চিন্তা কেটে আনন্দের হাসি হাসছে। স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্র জানিয়েছে, খাদ্য উৎপাদনের অন্যতম এউপজেলায় আগাম রোপণ করা ইরি-বোরো ধান কাটা মাড়াই কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

চলতি মৌসুমে একটি পৌরসভাসহ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ২১হাজার ৪৫১হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১লাখ ২৪হাজার, ৬২১মেট্রিকটন।

নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে বলে কৃষি অধিদপ্তরের দাবি। পোকামাকড়-রোগবালাই কম, নন ইউরিয়া সারের ব্যবহার, আধুনিক সেচ, কৃষক প্রশিক্ষণ ও মনিটরিংসহ উচ্চফলনশীল জাতের আবাদ বেশি হওয়ায় এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। অন্যদিকে, আবহাওয়া অনুকুলে না থাকাসহ প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে গত দুই-সপ্তাহে হাট-বাজারে ধানের দাম না থাকায় কৃষকেরা হতাশ হয়ে পড়েছিল।

আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে বর্তমানে হাট-বাজারে প্রতিমণ মিনিকেট ও পারি জাতের ধানে প্রায় ২০০টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে কৃষকেরা এমন মন্তব্য করেছেন। যেকারণে কৃষকদের লোকসান গুনতে হচ্ছেনা। পৌর এলাকার ফোকপাল গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন, আনসার আলী, উপজেলার ডেরাহার গ্রামের জাকারিয়া, ভাদুম গ্রামের জহুরুল ইসলাম জানান, ধান কাটার শুরুতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ধানের বাজারে মন্দা দেখা দেয়।

পরবর্তীতে আবহাওয়ার পরিবর্তন হলে ধানের বাজার ঊর্ধমূখি হয়েছে। হাট-বাজারে প্রতিমণ মিনিকেট ৭৫০টাকা থেকে ৭৮০টাকা ও পারি জাতের ৫৮০টাকা থেকে ৬০০টাকা দরে বিক্রয় করেছি। যদিও ধান কাটাতে শ্রমিকদের অধিক মূল্য দিতে হয়েছে। তারপরেও বাজারে ধানের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় কৃষকদের আর লোকশান গুনতে হবেনা। তারা জানান, প্রতিবিঘা জমিতে মিটিকেট ২২মণ থেকে ২৪মণ ও পারি জাতের ২০মণ থেকে ২২মণ করে ফলন হয়েছে।

প্রতিবিঘা জমিতে কৃষকদের খরচ পড়েছে সাড়ে ৫হাজার টাকা থেকে ৬হাজার টাকা। চাষিদের প্রতিবিঘা নিজস্ব জমিতে ধান আবাদ করে প্রায় ১০হাজার টাকা থেকে ১১হাজার টাকা লাভ হচ্ছে বলে কৃষকেরা জানিয়েছেন। বর্গা চাষিরা প্রতিবিঘা জমিতে এআবাদ করে তাদের জমির বছর পত্ত্বনির টাকা তুলছেন। খরালি ও বর্ষালি আবাদ করে বর্গা চাষিরা লাভের মুখ দেখবেন বলে এমনটি আশা প্রকাশ করেছেন বর্গা চাষিরা। গতকাল সোমবার রনবাঘা হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চাষিরা ন্যায্যমূল্যে তাদের কষ্টার্জিত চাষাবাদি ধান বেচাকেনা করছেন।

ধান আড়তদার হায়দার আলী, রেজাউল করিম, শাহীন শাহ, এরশাদ আলী, মিন্টু মিয়া জানান, এবার এউপজেলার কৃষকেরা প্রায় ৮০শতাংশ জমিতে মিনিকেট ধানের আবাদ করছে। ধান কাটার শুরুতেই প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে ও হাট-বাজারে ধানের ব্যাপক আমদানি থাকায় ধানের দাম কমে যায়। বাজারে প্রতিমণ ধানের দাম ছিল মিনিকেট ৫৭০থেকে ৫৮০টাকা। বর্তমানে প্রায় ২শ টাকা বাড়িয়ে ৭৫০টাকা থেকে ৭৮০টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

হাট-বাজারে ধানের দাম আরোও বাড়তে পারে বলে আড়তদাররা এমন মন্তব্য করেছেন। বর্তমানে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় হাট-বাজারে প্রতিমণ ধানে প্রায় ২০০টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এপ্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি অফিসার মুহাম্মদ মুশিদুল হক বলেন, গতবছরের তুলনায় এবারো ইরি-বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে। হাট-বাজারে ধানের ন্যায্যমূল্য পেয়ে কৃষকেরা বেশ আনন্দিত।

news portal website developers eCommerce Website Design
Close ads[X]