অনন্ত হত্যা তদন্তের সক্ষমতা নেই পুলিশের!

bijoyওয়ান নিউজ, সিলেটে : ব্লগার অনন্ত বিজয় দাস হত্যার তদন্তে সিলেট বিমানবন্দর থানা পুলিশের সক্ষমতা নেই বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গৌসুল হোসেন। তবে তিনি দাবি করেন, পুলিশের অন্য তদন্ত সংস্থার সহায়তা নিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। আর অতিরিক্তি উপ-পুলিশ কমিশনার মো. রহমত উল্লাহ এই অক্ষমতার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘মামলার তদন্ত পুলিশের অন্যকোনও সংস্থাকে দেওয়া হবে কি না, তার সিদ্ধান্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নেবেন।’

তাহলে গত তিনদিন কী তদন্ত হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গৌসুল হোসেন বলেন, ‘আমরা এখনও কোনও অপরাধী বা হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে চিহ্নিত করতে পারিনি। এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। যেসব প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া যাচ্ছে, তাদের কেউই হত্যাকারীদের ব্যাপারে কোনও তথ্য দিতে পারছেন না। আমরা তাই মনে করি ফেসবুক, ইন্টারনেট এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সূত্র ধরেই অপরাধীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হতে পারে।’

গৌসুল হোসেন আরও জানান, ‘কিন্তু আমাদের থানা পুলিশের কাছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পুরো তথ্য নিয়ে তা ধরে অপরাধীদের চিহ্নিত করার কোনও প্রযুক্তি বা সুবিধা নেই। আমরা কিছু তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে পেয়েছি। তবে তা যাচাই করে দেখতে পারছি না। এ কারণে জেলা গোয়েন্দা বিভাগের সহায়তা চেয়েছি।’ তিনি জানান, ‘এরইমধ্যে থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) নুরুল আলমকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত মামলার তদন্ত হয়তো আমরা করতে পারব না বা করব না। মামলা ডিবিতে চলে যেতে পারে । আমাদের সঙ্গে যদি পুলিশের সাইবার অপরাধ বা বিশেষায়িত কোনও দলকে যুক্ত করা হয়, তাহলে হয়তো আমরা তদন্ত চালিয়ে যেতে পারব।’

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. রহমত উল্লাহ বলেন, ‘এটা সত্য যে আমরা এখনও অনন্ত হত্যা মামলায় জড়িত কাউকে চিহ্নিত করতে পারিনি। তবে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।’ তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘হ্যাঁ এই হত্যাকাণ্ডটি সাধারণ কোনও হত্যাকাণ্ড নয়। তাহলে চিহ্নিত করা সহজ হতো। এই হত্যাকাণ্ড অপরাধীরা নিখুঁত পরিকল্পনার মাধ্যমে করেছে। তাই সময় লাগছে।’

থানা পুলিশের এই মামলা তদন্তে সক্ষমতা প্রসঙ্গে মো. রহমত উল্লাহ বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি, থানা পুলিশকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে। কারণ থানা পুলিশের কাছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে যারা অপরাধ করে, তাদের চিহ্নিত করার মতো তেমন কোনও ডিভাইস বা প্রযুক্তি নেই।’ মামলা তাহলে পুলিশের অন্যকোনও তদন্ত সংস্থার হাতে দেওয়া হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয়। থানার তদন্ত কর্মকর্তা যদি অক্ষমতা প্রকাশ করেন, তাহলে দেখা যাবে। তিনি এখনও বলেননি যে, তিনি পারবেন না। আর আমরা তাকে বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা থেকে সহায়তার ব্যবস্থা করছি।’

সিলেট গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র দেবাষীশ দেবু জানান, ‘সিলেট বিমানবন্দর পুলিশ আসলে এই মামলার তদন্তে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কিছুই করতে পারেনি। তারা বলছে, এই মামলার তদন্তের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তদন্ত দল দরকার।’ তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি কোনও অপরাধ হলে পুলিশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের অল্প সময়ের মধ্যে ধরে ফেলে। কিন্তু এই মামলার ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম হচ্ছে।’ যদি থানা পুলিশ না পারে, তাহলে পুলিশের যে তদন্ত সংস্থা পারবে, তাদের মামলার তদন্ত দিয়ে দ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিতসহ আটক করার দাবি জানান তিনি।

আর অনন্তর ভগ্নিপতি সমর বিজয় শেখর বলেন, ‘আমরা এখনও অন্ধকারে আছি। গত তিনদিনে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাসায় এসেছেন। কিন্তু তারা তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে কিছু জানাননি। তারা আমাদের সান্ত্বনা আর আশ্বাস দিয়েছেন। পুলিশ কমিশনার কামরুল আহসান বুধবার আমাদের বাসায় এসে বলেছেন, তারা চেষ্টা করছেন, অপরাধীদের শনাক্ত করে আটক করতে। ’

সিলেট শহরের সুবিদবাজারের নূরানী আবাসিক এলাকায় মঙ্গলবার নিজ বাসার অদূরে ব্লগার অনন্তকে কুপিয়ে হত্যা করে মুখোশধারী চার যুবক। মামলার বাদী অনন্তর ভাই রত্নেশ্বর দাস মামলার এজাহারে বলেছেন, ‘উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠী’র চারজন মুখোশধারী অনন্তকে হত্যা করেছে।’ তিনি ব্যাংকে চাকরি করার পাশাপাশি লেখালেখি করতেন। একজন প্রগতিশীল চিন্তাধারার লোক ছিলেন অনন্ত। বিভিন্ন ব্লগে লেখালেখির মাধ্যমে মুক্তবুদ্ধির চর্চা করতেন। এ কারণে কোনও ‘উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠী’[ তাকে খুন করতে পারে বলে এজাহারে সন্দেহ করা হয়েছে।

সিলেট বিমানবন্দর থানার ওসি গৌসুল হোসেন জানান, ‘ধর্মীয় উগ্রবাদীদের আমরাও সন্দেহ করছি। কারণ অতীতে ব্লগারদের যেখাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে অনন্তকেও একইভাবে হত্যা করা হয়। ’ বাংলা ট্রিবিউন

news portal website developers eCommerce Website Design