বগুড়ায় বরবটি চাষ করে পেয়ারা বেগম স্বাবলম্বী

BOGRA paiara bagomনজরুল ইসলাম, বগুড়া: বগুড়ায় বরবটি চাষ করে সংসারের যাবতীয় খরচ চালিয়ে নিচ্ছেন গৃহবৃধূ পেয়ারা বেগম। শুধু চাষই নয়, নিজ উদ্যেগে বরবটিগুলো পাইকারদের কাছে বিক্রয় করছেন তিনি। বিক্রিত টাকা দিয়ে সংসারের খরচ চালানোর পাশাপাশি ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচও মেটাচ্ছেন। নিজ সংসারে আলোকিত হয়ে সফলভাবে নিজের কৃষি কাজকে এগিয়ে নিচ্ছেন পেয়ারা বেগম।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, বগুড়া সদর উপজেলার শেখেকোলা ইউনিয়নের মহিষবাথান গ্রামের ফজলার রহমানের স্ত্রী পেয়ারা বেগম। বিয়ের আগে ও পরে ফজলার রহমান অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার চালাতেন। কিন্তু ফজলার ও পেয়ারা বেগমের সংসারের ২ বছরের মাথায় প্রথম সন্তানের জন্ম হওয়ার পর থেকে দিন যতটায় গড়িয়েছে ততটায় অভাব দেখা দিয়েছে তাদের সংসারে। অভাব অনটনের সংসারে পেয়ারা বেগম বাড়ির ছাদে (স্থানীয় নাম চালে) ও আশেপাশে বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষ শুরু করেন। সেই সবজি স্থানীয় হাটে বাজারে বিক্রির অর্থের একটি অংশ সংসারে এবং বাকিটা জমিয়ে রাখতেন। এভাবে দিন ফুরিয়ে যেতে থাকে তাদের। ৬ বছরের সংসারে এক ছেলে আর দুই মেয়েকে নিয়ে অভাবটা ফুটে উঠতে থাকে। সংসারের খরচ বৃদ্ধির সাথে বাজার মূল্যের তালমিল পান না। জমিয়ে রাখা টাকা দিয়ে স্বামীর সাথে পরামর্শ করে প্রতিবেশির এক বিঘা জমি বর্গা নিয়েছেন। বিভিন্ন প্রকার সবজির পাশাপাশি বরবটি চাষ করেন। গ্রীষ্মকালিন বরবটি চাষ করে আয়ের মুখ দেখেন। নিজের জমির কাজের পাশাপাশি অন্যের জমিতেও শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন পেয়ারা বেগম। ধান কাটতে পারেন। ছাষবাসের সব কাজই তার জানা।

স্বাবলম্বী পেয়ারা বেগম জানান, কৃষি অফিসের সহযোগিতায় চারা রোপন, জমি নিরানি, সার প্রয়োগ, পানি সেচ, মাচাং তৈরীসহ প্রয়োজনে কীটনাশক প্রয়োগ করতে জানেন। ১ বিঘা জমিতে বরবটি চাষ করতে তার খরচ হয় ১৫-২০ হাজার টাকা। উৎপাদন শেষে তা বাজারে বিক্রি করে ৪০ হাজার টাকা। এক মৌসুমে বরবটি থেকে ২০ হাজার টাকায় আয় করেন। বরবটির ক্ষেতে তিনি পুই শাক, লাল শাক, জমির পাশ দিয়ে কচু শাকও আবাদ করেন।

তিনি বলেন, শুরুতে খড়ের ঘরে থাকা হলেও এখন তার ঘরে টিনের চালা করেছেন। ইট দিয়ে আধাপাকা ঘর তৈরী করা হয়েছে। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ যুগিয়েছি। ছেলে ও মেয়ে এইচএসসি পাশ করার পর বগুড়ার একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় চাকুরী করছে। কৃষি কাজের পাশাপাশি বাড়িতে একটি গরু, ২ টি ছাগল ও ১০ টি মুরগী পালন করছেন তিনি।

পেয়ারা বেগম এপ্রতিবেদককে বলেন, ধান কাটা মৌসুমের সময় মজুরী ২০০-২৫০ টাকা কিন্তু অসময়ে ৩৫০ টাকা করে মজুরী পাওয়া যায়। পেয়ারা বেগমের স্বামী ফজলার রহমান জানান, রোজগারকৃত অর্থ দু’জনে যৌথভাবে খরচ করা হয়ে থাকে। আমার স্ত্রী নিজ উদ্যোগ নিয়ে বরবটির বাগান করেছে। বরবটি বিক্রির সময় হলে সে নিজেই বিক্রি করে। পাইকার ব্যবসায়িরা বাড়িতে এসে অনেক সময় কিনে নিয়ে যায়।

news portal website developers eCommerce Website Design