পঞ্চগড়ে বানিজ্যিকভাবে উৎপাদন হচ্ছে মসলা জাতীয় কৃষিপণ্য তেঁজপাতা

teastpataনুরে হাবিব সোহেল, বোদা(পঞ্চগড়) : পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে মসলা জাতীয় কৃষিপণ্য তেঁজপাতার চাষ দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন রান্নায় অপরিহার্য এই মসলা জাতীয় তেঁজপাতা এখন মূল্যবান কৃষিপণ্য। এ কারণে অনেকে বাসা বাড়ির পাশাপাশি বানিজ্যিকভাবে তেঁজপাতার বাগান করে চাষীরা লাভবানও হয়েছেন।

এক সময় নিজেদের ও প্রতিবেশিদের রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্যই শুধু দুয়েকটি তেঁজপাতা গাছ বাসা বাড়িতে দেখা যেত। সম্প্রতি তেঁজপাতার বহুমুখি ব্যবহার শুরু হওয়ায় এর চাহিদাও সমানভাবে বেড়েছে।

এজন্য এ এলাকার চাষিরা কয়েক বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে তেঁজপাতার গাছের বাগান করছেন। লাভ ভালো হওয়ায় নতুন চাষীরাও ঝুঁকছেন তেঁজপাতা চাষে। অল্প জমিতে পরিকল্পনা অনুযায়ী বাগান করে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন কৃষক আর্থিক ভাবে লাভবান হয়েছেন। বোদা উপজেলার বেংহারি ইউনিয়নের সোনাচান্দি গ্রামের বাবলু জানান, চার বছর আগে ১০ বিঘা জমিতে সিঙ্গাপুরি জাতের তেজ পাতার বাগান করে লাভবান হওয়ায় পরবর্তিতে আরো ৩ বিঘা জমিতে বাগান করেন।

এখন তার ১৩ বিঘা জমিতে তেজপাতার বাগান আছে। এবার ফলন ভালো হয়েছে, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা বিশেষ করে রাজশাহী থেকে তেজপাতা ক্রয় করতে পাইকাররা আসছেন। পাশাপাশি মা গাছ থেকে তেজপাতার গুটি কলমের চারা টবে তৈরী করে জুলাই মাসের মাঝামাঝিতে তা বিক্রি করেন। তিনি আরোও জানান,কয়েক বছর পূর্বে তেজপাতার গাছ থেকে গুটি কলমের সাহায্যে চারার বাগান গড়ে তোলেন।

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, এবার প্রায় ৯৭  বিঘা জমিতে একশরও বেশি তেঁজপাতার বাগান গড়ে উঠেছে। তেঁজপাতার একাধিক জাঁত থাকলেও সিঙ্গাপুরি জাঁতের তেঁজপাতার চাহিদা বেশি। উৎপাদিত তেঁজপাতার অধিকাংশই ব্যাপারীদের মাধ্যমে প্যাকেটজাত গুড়া মসলা, ডাল ভাজা, বাদাম ভাজা, চানাচুর প্রস্তুতকারক কম্পানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানান, মসলা জাতীয় তেঁজপাতা চাষ এই উপজেলায় দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোন চাষীকে এ বিষয়ে কারিগরী কোন প্রশিক্ষণ দেয়া না হলেও অচিরেই তাদের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেয়া হবে।

news portal website developers eCommerce Website Design