সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্য নবরত্ন মন্দির

tampalরফিক মোল্লা, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জে মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই ছিল কৃষি নির্ভরশীল। কৃষিকে পুঁজি করেই চলত তাদের জীবন জীবীকা। এদের মধ্যে আবার কিছু মানুষ তাদের পেশাকে পরিবর্তনের  মাধ্যমে তেল ব্যবসায় চলে আসে। পরবর্তীতে তাদের নাম কৃষিজীবীর বদলে তেলজীবী বা কুলু নামে ডাকা হতো। তক্ষনকার সময় যারা কাপর তৈরীর মাধ্যমে যারা জীবীকা নির্বাহ করতো তাদের বলা হতো জোলা। বর্তমানে তাদের সম্প্রদাযের নাম পরিবর্তন করে কারিগর বা তাঁতী বলে ডাকা হয়। ইংরেজ শাসন আমলে নিষিদ্ধ হওয়া তাঁতী কাপড় তৎকালীন সময়ের জোলারা তৈরী করে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করার কারণে তাদের হাতের আঙ্গুল কর্তন করার কারনে অনেকেই পালিয়ে এসে যমুনা নদীর দুই তীরে বসতি গড়ে তোলে। মুলত তারাই ছিল  বর্তমান সিরাজগঞ্জ, পাবনা, টাঙ্গাইল জেলার কারিগরদের পুর্ব পুরুষ।

প্রাচীনকাল থেকে এ তিনটি সম্প্রদায়ের মধ্যে যেমন ছিল ভ্রাতৃত্ব তেমনি দ্বন্দও কম ছিলনা । তাই মাঝে মধ্যে ঘটত নানা অপ্রীতিকর ঘটনা। তিন সম্প্রদায়ের মধ্যে কুলু সম্প্রদায় বসতি গড়েছিল সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল এলাকায়। ষোড়শ শতকে বসতিগড়ে তারা নিয়মিত বসবাসের মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তার লাভ করতে সক্ষম হয়। তাদের বসতির আদি নিদর্শন এখনও সকলের চোখের দৃষ্টি কারে । যার নাম নবরত্ন মন্দির। বিভিন্ন তথ্য সুত্রে জানা যায়, দিনাজপুরের মথুরার রাজা প্রাণনাথ যখন কান্দজী মন্দির নির্মান করেন তার শেষের দিকে এ মন্দির নির্মান করা হতে পারে । কান্দজি মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা প্রাননাথ ছিলেন একজন ভু-স্বামী আর নবরতœ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা রামনাথ ভাদুরী ছিলেন তৎকালীন রাজা সরকারের রাজস্ব আদায় বিভাগের একজন পদস্থ কর্মকর্তা। একবার রাজা প্রাণনাথের বিপুল পরিমানের রাজস্ব বাকী পরে যায়। বাকীপরা ওই রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব ভার পান রামনাথ ভাদুরী।

প্রাননাথ তখন কান্দজির মন্দির নির্মাণে ব্যস্ত। ভাদুরী তখন দিনাজপুরে গিয়ে রাজস্ব টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করলে প্রাণনাথ তখন কিছুদিনের সময় প্রার্থনা করেন। বিশেষ বিবেচনায় তখন তাকে সময় দেওয়া হলো আর চুক্তি হলো তিনি এমন একটি মন্দির নির্মানের জন্য খরচের টাকাসহ নির্মান সামগ্রী প্রদান করবেন। চুক্তি অনুযায়ী দিনাজপুরের কান্দাজির মন্দির নির্মান শেষে ঐ নির্মাণ শ্রমিকরাই নকশা অনুযায়ী সাত তলা বিশিষ্ট এ মন্দির নির্মাণ করেন। তখন থেকে এ মন্দিরের নামকরণ করা হয় নবরত্ন মন্দির। ভুমিকম্পের কারণে এটির কয়েক তলা মাটির নীচে দেবে যায়। কথিত আছে মন্দির নির্মাণের জন্য যে সকল ইট পাথর ব্যবহার করা হয়েছে তা দীর্ঘদিন অক্ষত রাখার জন্য প্রতিদিন ২৫-৩০মণ সরিষার তৈলের মধ্যে ভিজে নেওয়া হতো। এতে করে সে সময় তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়ে পাঁচ পয়সার সরিষার তৈল পাঁচআনায় দাম ওঠে। আর অধিক লাভের আশায় অনেকেই তখন সরিষা ভেঙ্গে তেল বিক্রির ব্যবসায় নিজেদের আত্ম নিয়োগ করেন।

যা পরবর্তীতে আর তারা নিজেদের অতীত পেশায় ফিরে আসতে পারেনি। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, মন্দিরটির অতীত সৌন্দর্য্য ছিল অত্যান্ত শৈল্পিক। মন্দিরের গায়ে ছিল অসংখ্য দেব দেবীর মুর্তি আর ফুল পাতার নকশাঁ। আর দেবদেবীদের চোখের মণি তৈরী করা হয়েছিল রুপা দিয়ে কালের পরিবর্তনের সাথে সাথে মন্দিরটির অনেক পরিবর্তন ঘটেছে খুলে গেছে মন্দিরের গা থেকে অনেক মুল্যবান সম্পদ । কিন্তু মন্দিরের নাম শুনে এখনও অনেক পর্যটক প্রতিদিন আসে এক নজর দেখার জন্য। সিরাজগঞ্জ বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকা থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দুরে হাটিকুমরুল গ্রামে অবস্থিত ঐতিহাসিক এ নবরতœ মন্দির।

news portal website developers eCommerce Website Design