পছন্দের কলেজে ভর্তির স্বপ্নভঙ্গ

HSC admission logoওয়ান নিউজ বিডি, মেহেরপুর : জেলার কুতুবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৫৫ শিক্ষার্থীর পছন্দের কলেজে ভর্তির স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশংসাপত্র বিক্রিরও অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ এবং অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অগোচরে ওই কলেজেই ভর্তির জন্য এসএমএস করিয়েছেন শিক্ষকরা। ফলে অন্য কলেজে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে না এবারের পাস করা শিক্ষার্থীরা।

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় কুতুবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৬০ জন পরীক্ষার্থীর মাধ্যে পাশ করে ৫৫ জন। তবে এ সকল শিক্ষার্থীর ভাল কলেজে ভর্তির সুযোগ ছিনিয়ে নিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। পাশ করা সকল শিক্ষার্থীর রোল নম্বর দিয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এসএমএমের মাধ্যমে ভর্তির আবেদন করা হয়। এতে প্রথম পছন্দ হিসেবে উল্লেখ করা হয় কুতুবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজকে।

ভুক্তভোগী ছাত্রী গাড়াবাড়ীয়া গ্রামের তোতা মিয়ার মেয়ে চম্পা খাতুন জানান, তার জীবনের একটি বড় স্বপ্ন ছিল মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজে লেখাপাড়া করবে। কিন্তু তিনি ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে না। শিক্ষকরা তার ভর্তির জন্য প্রথম পছন্দ দিয়েছে কুতুবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এতে তার মহিলা কলেজে ভর্তির স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।

এ ঘটনায় চম্পা খাতুনসহ তার পরিবারের সদস্যরা চোখে শুধুই অন্ধকার দেখছেন। বিষয়টি নিয়ে চম্পার পরিবারের লোকজনসহ আরো কয়েকজন অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রী প্রতিষ্ঠানে গিয়ে প্রতিবাদ জানায়। এ নিয়ে সহকারী অধ্যক্ষ রেজাউল ইসলামের সঙ্গে বাক বিতণ্ডা শেষে কোনো সমাধান করতে না পেরে বাড়ি ফিরে আসেন তারা।

চম্পাসহ অনেক ছাত্রছাত্রীর ভালো কলেজে পড়ার স্বপ্ন ছিনিয়ে নেয়ায় তারা এখন কান্নায় বুক ভাসাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযোগে জানা গেছে, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় কুতুবুপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র সহগলপুর গ্রামের নাইম হোসেন কয়েকদিন আগে প্রশংসাপত্র নেয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইদুর রহমানের কাছে মোবাইল করেন।

নাইমকে তিনি ৮শটা নিয়ে আসতে বলেন। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে ভর্তির টাকা জোগাড় করতেই যখন নাজেহাল অবস্থা তখন প্রশংসাপত্রের টাকার বিষয়টি যেন মাথায় বজ্রপাতের শামিল। শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের সদস্যদের কাকুতি-মিনতির পর ৪শ টাকায় রাজি হন সাইদুর রহমান। তবে টাকা নিয়ে প্রশংসাপত্র দিলেও রশিদ দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন তিনি।

জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান জানান, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্যদের সিদ্ধান্তে টাকা নিয়েই প্রশংসাপত্র দেয়া হচ্ছে।

পরিচালনা পর্যদের সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ের উন্নয়নের লক্ষ্যে টাকা নেয়া হয়েছে। এটি কমিটির সিদ্ধান্ত। সরকারি নীতিমালায় টাকা নিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রশংসাপত্র বিতরণের সরকারি নির্দেশনা কেন মানা হচ্ছে না সে প্রশ্নের সদুত্তোর দিতে পারেননি প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি। প্রতিষ্ঠানের পাশ করা ছাত্রছাত্রীরা যাতে তাদের কলেজে ভর্তি হয় সেজন্য এসএমএস করা হয়েছে বলে স্বীকার করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি।

গাংনী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মনিরুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে শিক্ষাবোর্ড অভিযোগ করা হবে।

অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল আমিন জানান, যারা ছাত্রছাত্রীদের জীবন নিয়ে নগ্ন খেলায় মেতেছে তাদের সাজা হওয়া উচিৎ। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যা যা করা দরকার তাই করা হবে।

news portal website developers eCommerce Website Design
Close ads[X]