তারেককে পাত্তাই দিলেন না যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক

London-BNP1ওয়ান নিউজ ডেস্ক : বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আস্থা রাখতে পারলেন না যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ। গত কমিটিতে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ থাকার পরও গত ১৯ মে এমএ মালেককে সভাপতি এবং তাকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষিত হয়।

কমিটি ঘোষণার পর ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে দেয়ার জন্য তারেক রহমান সভাপতি-সম্পাদককে দায়িত্ব দেন। দায়িত্ব পাওয়ার দুই মাসের মাথায় যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হলো তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

নেতাকর্মীরা বলছেন, দলের সাধারণ সম্পাদক কয়ছর আহমদের ওপর তারেক রহমান আস্থা রেখেছিলেন একটি সুন্দর কমিটি উপহার দেয়ার। কিন্তু তিনি তারেক রহমানের আস্থা রাখতে পারলেন না। অন্যদিকে কমিটি ঘোষণার পরপরই হতাশ হয়ে কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি ও যুক্তরাজ্য বিএনপির দুইবারের আইন বিষয়ক সম্পাদক সলিসিটর বিপব পোদ্দার।

আবার সৌদি আরবে ওমরা পালনে থাকা সংগঠনের সভাপতি এমএ মালেক বলেছেন, ‘এভাবে কমিটি হওয়ার কথা ছিল না।’

জানা যায়, কয়ছর এম আহমেদ প্রভাব খাটিয়ে যে কমিটি করলেন তাতে দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি শীর্ষ নেতৃত্ব কিছুটা নারাজ। ১০১ সদস্যের কমিটিতে কেবল সাধারণ সম্পাদকের নিজের জেলা সুনামগঞ্জ থেকেই পদ পেয়েছেন ৩৭ জন। আর নিজের উপজেলার ২২ জনকে কমিটিতে স্থান দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তিনি। উপদেষ্টা কমিটির ৩১ জনের মধ্যে ১২ জনও সাধারণ সম্পাদকের নিজ জেলা সুনামগঞ্জের।

গত ১২ মে জোনাল কমিটির নেতাদের সমন্বয়ে তারেক রহমানের উপস্থিতিতে যুক্তরাজ্য বিএনপির তৃণমূল প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় প্রতিটি জোনের সভাপতি-সম্পাদকের কাছ থেকে তারেক রহমান একান্তে আসন্ন কমিটি নিয়ে তাদের মতামত শুনেন। প্রতিনিধি সভায় তারেক রহমান বলেছিলেন- জোনাল কমিটি বা অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বে থাকা কোনো নেতা যুক্তরাজ্য বিএনপির কমিটিতে পদ পাবেন না।

তারেক রহমান তখন এক নেতার এক পদের নীতি অনুসরণের কথা বললেও তা মানা হয়নি বিএনপির সদ্যঘোষিত কমিটিতে। ‘নিজের পছন্দের লোক’ না হওয়াতে অনেক সিনিয়র নেতাকে পদাবন্নতি পেতে হয়েছে। কোনো জোনাল কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে যুক্তরাজ্য বিএনপিতে পদ না দেয়ার নির্দেশনা থাকলেও দীর্ঘ পাঁচ বছর যিনি কেমডেনে বসবাস করেছেন এবং বর্তমানে লুটনের বাসিন্দা সেই শামীম আহমেদকে করা হয়েছে লন্ডনের (অঞ্চল-১ এর) সাংগঠনিক সম্পাদক। যা রীতিমতো হাস্যকর।

নবগঠিত কমিটিতে যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাবেক মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার আবু সায়েমকে করা হয়েছে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। ব্যারিস্টার সায়েম ইউরোপ বিএনপিকে শক্তিশালী করতে তারেক রহমানের নির্দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। ইউরোপে বিএনপিকে সুসংগঠিত করতে তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আর তাকেই রাখা হয়নি যুক্তরাজ্য বিএনপির সম্মানজনক কোনো পদে।

যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক কমিটির উপদেষ্টা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিনেট সদস্য, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নসরুলাহ খান জুনায়েদকে রাখা হয়েছে মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো বর্তমান কমিটির দ্বিতীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদ পেয়েছেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। তিনি কালে-ভদ্রে টিভি টক-শোতে উপস্থিত থাকলেও দলীয় কোনো কর্মকাণ্ডে কখনোই উপস্থিত থাকেন না। সরকারবিরোধী কোনো আন্দোলন সংগ্রামে মিছিল সমাবেশে তাকে কখনো দেখাও যায়নি। আইন পেশা ও টেসকোর চাকরি নিয়েই তিনি সব সময় ব্যস্ত থাকেন।

মওদুদের মতো নিস্ক্রিয় এক ব্যক্তি কোন খুঁটির জোরে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে কৌতুহলের অন্ত নেই। মওদুদের এই পদায়ন কেউ মেনে নিতে পারছেন না। কি এমন অদৃশ্য জাদুর কাঠির স্পর্শে মওদুদ এমন পদ পেয়েছেন তা কারো বোধগম্য নয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক এক প্রভাবশালী নেতা জানান, যিনি কখনো কোনো সভা-সমাবেশে উপস্থিত হন না। যিনি এক সময় গণফোরাম করতেন এবং পরে ব্যারিস্টার সালামের হাত ধরে আইনজীবী নেতা হতে চেয়েছিলেন- যুক্তরাজ্য বিএনপিতে তার এমন পদায়ন নানা রহস্যের জন্ম দেয়।’

যুক্তরাজ্য যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, তরুণ দল, জাসাসের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা নেতারা যুক্তরাজ্য বিএনপির কমিটিতে পদ বাগিয়ে নিলেও বাদ পড়েছেন দলের ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতারাই। যুক্তরাজ্য বিএনপির প্রয়াত সভাপতি কমর উদ্দীনের কমিটির প্রথম যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান চৌধুরী, বিগত কমিটির সক্রিয় ও জনপ্রিয় দুই সাবেক ছাত্রনেতা প্রথম যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমদ চৌধুরী, সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেলকে রাখা হয়েছে সদস্য পদে।

এছাড়া তরুণ সংগঠক, নিবেদিতপ্রাণ সক্রিয় রাজনীতিক আবেদ রাজা, নুরুল ইসলাম, করিম উদ্দিন, সাদিক মিয়া, এডভোকেট খলিলুর রহমান, মিসবাহুজ্জামান সোহেল, টিপু আহমেদ, আব্দুল বাছিত বাদশার মতো নেতাদেরও সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। এবারের কমিটিতে স্থান পাননি সাবেক কমিটির সহ-সভাপতি তৈমুছ আলী, আক্তার হোমেন টুটুল, তাজুল ইসলাম, আহমদ আলী, মুজিবুর রহমান মুজিব, সহ-সাধারণ সম্পাদক হেলাল নাসিমুজ্জামান, লিটন আফিন্দীসহ অনেক সম্পাদকীয় পদধারীই। সূত্র : বাংলামেইল

news portal website developers eCommerce Website Design