রংপুর বিএনপিতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা

bnp logoওয়ান নিউজ বিডি, রংপুর : জেলার সকল উপজেলা, ইউনিয়ন ও এলাকা ভিত্তিক ওয়ার্ড পর্যায়ের মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে রংপুরে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে চাপাক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। ফলে বিএনপির দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন, ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে হঠাৎ করে বর্ধিত কমিটি গঠন ও দলীয় কোন্দল নিরসনে ব্যর্থতার কারণে যে কোনো সময় বড় ধরণের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন সাধারণ নেতাকর্মীরা।

দলীয় সূত্রমতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে চলমান আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ায় ২০ দলীয় ও জোট নেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সারাদেশে দল পুনর্গঠনের জন্য মেয়াদোত্তীর্ণ সকল উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।

এদিকে রংপুর জেলা ও মহানগর নেতাদের কাছে পাঠানো নির্দেশনাবলীতে দলের সক্রিয়, ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের নিয়ে কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। অপরদিকে, দলীয় চেয়ারপারসনের নির্দেশ পাওয়ার পর রংপুর জেলা বিএনপির নেতাদের দৌঁড়ঝাপ শুরু হয়ে গেছে।

তৃণমূলের অভিযোগ জেলার সিনিয়র নেতারা তাদের পছন্দের লোকদের নিয়ে কমিটি গঠনের তোড়জোর প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন।

সূত্রমতে, গত ১৪ আগস্ট কাউনিয়া উপজেলা বিএনপির বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয় জেলার সভাপতি এমদাদুল হক ভরসার হারাগাছের বাসভবনে। এখানে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও একজন সহ-সভাপতি ছাড়া উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উল্লেখযোগ্য কোনো নেতা উপস্থিত ছিলেন না। তবে সেই সভায় হাতেগোনা অর্ধশত কর্মী উপস্থিত ছিল।

এদিকে, ১৬ আগস্ট রংপুর সদর উপজেলার বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। খলেয়া ইউনিয়নের ভিন্নজগতে পিকনিট পার্টির আদলে আয়োজি সভায় প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। একই ভাবে ১৭ আগস্ট পীরগাছা কলেজ হলরুমে পীরগাছা উপজেলার বর্ধিত সভা হয়। এখানে তৃণমূলের অধিকাংশ নেতারা আন্দোলন সংগ্রাম পরবর্তী সময়ে খোঁজ খবর না নেয়ায় ঘটনায় জেলার দায়িত্বশীল নেতাদের ওপর চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন।

এছাড়া গত ১৮ আগস্ট মিঠাপুকুর উপজেলা বিএনপির বর্ধিত সভা হয়। সভায় উপজেলা পর্যায়ের আগের কমিটির কোনো নেতাকর্মী ছিলেন না। এখানেও ৫০/৬০ জন নেতাকর্মী নিয়ে দায়সারাভাবে বর্ধিত সভা শেষ করে জেলার নেতারা।  ১৯ আগস্ট গঙ্গাচড়া উপজেলায় বর্ধিত সভা হয় স্থানীয় মিলন সিনেমা হলরুমে। এখানে উপস্থিত হাজার খানেক নেতাকর্মীর উত্তেজনা, ক্ষোভ প্রকাশের ভাষায় দিশেহারা হয়ে পড়েন জেলা নেতারা। দায়সারা ভাবে ২০ আগস্ট তারাগঞ্জ উপজেলার বর্ধিত সভা হয়।

বদরগঞ্জ মডেল হাইস্কুল হলরুমে ২১ আগস্ট উপজেলার বর্ধিত সভা হয়। ২২ আগস্ট পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির বর্ধিত সভা হয় দলীয় কার্যালয়ে। এই বর্ধিত সভাগুলোতে গঙ্গাচড়া ব্যতীত অন্যসব উপজেলাগুলোতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতাদের উপস্থিতি দেখা যায় নি। আর যারা সভায় উপস্থিত ছিলেন তাদের অনেকেই বক্তব্যের সময় জেলা সভাপতি ও সম্পাদকের কঠোর সমালোচনা করে তাদেরঅতিথি পাখি হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

এদিকে, তৃণমূল পর্যায় থেকে অভিযোগ উঠেছে, জেলার গুটিকয়েক নেতা কেন্দ্রীয় দপ্তরের নির্দেশ অমান্য করে উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটি গঠনে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দলের তৃণমূলের ত্যাগী ও রাজপথে সক্রিয় নির্যাতিতদের বাদ দিয়ে পকেট কমিটি গঠন করার হঠকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তাদের এ রকম বিএনপি ধ্বংসের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে বিএনপির তৃণমূলে থাকা মাঠ পর্যায়ের ত্যাগী ও সংক্রিয় নেতাকর্মীরা।

সদর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল হক জুয়েল, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সহ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফি কামাল, পীরগাছার ইটাকুমারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সদ্যপুস্করণী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক হাফিজুর রহমান মেম্বার, চন্দনপাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিস হোসেন খোকা, মমিনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরু মিয়াসহ তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মীদের অভিযোগ, তাদের মতামত ছাড়াই হঠাৎ করে বর্ধিত সভা করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় গোপনে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব দলীয় কর্মকাণ্ডে অধিকাংশ নেতাকর্মীর ছিলনা উপস্থিতি। কোথাও কোথাও উপজেলা পর্যায় আগের কমিটির সভাপতি সম্পাদক ছাড়াই বর্ধিত সভা করা হয়েছে। ইউনিয়ন ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে করে বিএনপির দলীয় কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে।

তৃণমূল ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের দাবি দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মতামত ও কাউন্সিলরদের ভোটে উপজেলা, ইউনিয়ন এবং ওর্য়াড কমিটি গঠন করার। জেলা কমিটির অনুগত পছন্দসই নেতাদের নিয়ে মনগড়া পকেট কমিটি গঠনের পায়তারা করলে কোনো ছাড় দিবেন না বলেও হুশিয়ারী দেন তৃণমূলের নেতারা।

এব্যাপারে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা চেষ্টা করছি ত্যাগী নেতাকর্মীর মধ্য থেকেই কমিটি গঠনের। কিন্তু এখন সবাই যদি কমিটিতে থাকতে চায়, তাহলেও বিপদ। তবে কিছু কিছু জায়গায় কয়েকজন ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, জেলা সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা বলেন, ‘বিএনপির মতো এতো বড় দলে একটু মান অভিমান থাকতেই পারে। তাই বলে তা কখনো সংঘর্ষের আকারে যাবে এটা মানা যায় না।’ এসময় তিনি বলেন, ‘যেখানে ঝামেলা আছে, তা ঠিক হয়ে যাবে।’

এদিকে, দলীয় কোন্দল চরমে যাওয়ার প্রতিচ্ছবি কয়েকদিনের মধ্যে প্রকাশ ঘটতে পারে বলে আভাস দেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। শিগগিরই রংপুর সদর উপজেলাসহ গঙ্গাচড়া, মিঠাপুকুর, পীরগাছা, পীরগঞ্জ, কাউনিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে পাল্টা কামিটি গঠনের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তারা। তাদের দাবি দ্বন্দ্ব-বিভেদ আর কোন্দল ভুলে গিয়ে দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের নিয়ে উপজেলা ও ইউনিয়ন এমন কি ওয়ার্ড কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে আগামীতে সরকার পতনের আন্দোলনে রাজপথ দখলে আনতে হবে। তবেই দলীয় কমাণ্ডের নির্দেশ ও প্রত্যাশা সফলতার মুখ দেখবে।
c

news portal website developers eCommerce Website Design