জন্মভূমি ছেড়ে যাওয়া অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায়

pn boডিজার হোসেন বাদশা, পঞ্চগড়: মাতৃভূমি ছেড়ে চলে যাওয়া যে কতটা কষ্টের-বেদনার তা আরেকবার দেখিয়ে গেলেন পঞ্চগড়ের ১০৫ জন। আপনজনকে ছেড়ে যাওয়ার সময় চোখের জলে দেবীগঞ্জের পিচঢালা পথ যেন ভিজলো আবারও!

পঞ্চগড়ের অধূনালুপ্ত ৩৬টি ছিটমহলের ২টি ছিটমহল থেকে চতুর্থ দফায় ২১টি পরিবারের ১০৫ জন নতুন ভারতীয় নাগরিক ভারত গেলেন।

বৃহস্পতিবার(২৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার দহলা খাগড়াবাড়ি ও বোদা উপজেলার দইখাতা ছিটমহলের নতুন ভারতীয়রা দেবীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ মাঠের চেকিং ও লোডিং পয়েন্ট থেকে ৩টি বাস ও ৫টি ট্রাকে মালামালসহ ভারতের উদ্দেশে রওয়ানা দেন।

পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ গোলাম আজম ও দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.সফিকুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনারের প্রথম সেক্রেটারি রমা কান্ত গুপ্ত’র কাছে ১০৫জন নতুন ভারতীয় নাগরিককে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ হস্তান্তর করেন।

এ সময় জন্মভূমি ছেড়ে যাওয়া এই নতুন ভারতীয়দের অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় জানান স্বজনেরা। চারদিকের বাতাস ভারী হয়ে উঠে তাদের বুক ফাঁটা কান্নায়।

গত ২২ ও ২৩ ও ২৪ নভেম্বর তিন দফায় পঞ্চগড় সদর, বোদা, দেবীগঞ্জ উপজেলর ৮টি ছিটমহল থেকে ৩৪৭জন ভারতে যাওয়ায় এ নিয়ে চার দফায় পঞ্চগড়ের সদ্য বিলুপ্ত ১০টি ছিটমহল থেকে ৪৫২ জন নতুন ভারতীয় নাগরিক নিজ দেশে ফিরে গেলেন।

পরে জেলা প্রশাসন, বিজিবি ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যানবাহন, মালামালসহ তাদের নিয়ে নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া বিজিবি বিওপির পথে রওয়ানা দেন।

দুপুরে ডাঙ্গা পাড়া বিওপি’র বিজিবি নতুন ভারতীয়দের ভারতের খালপাড়া বিএসএফ ক্যাম্প ও কোচবিহার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হস্তান্তর করবেন।

নতুন ভারতীয়দের গ্রহণ করতে ভারতের কোচবিহার প্রশাসন চিলাহাটি-হলদিবাড়ী সীমান্তে ভারতের খালপাড়া বিএসএফ ক্যাম্প ও বাংলাদেশের ডাঙ্গাপাড়া বিজিবি ক্যাম্প এলাকার নোম্যান্স ল্যান্ডে ১৫০ গজের একটি নতুন রাস্তা তৈরি করেছেন। এছাড়াও বিএসএফ তাদের সীমানার অভ্যন্তরে একটি তোরণ ও মঞ্চ তৈরি করেছেন।

চলতি বছরের ৬ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত জনগণনায় পঞ্চগড় জেলার সদ্য বিলুপ্ত  ৩৬ ছিটমহলের ৪৮৭ জন ছিটমহলের নাগরিক ভারতে যাওয়ার জন্য আবেদন করেন।

জনগণনার পর দেবীগঞ্জ উপজেলার কোটভাজনি ছিটমহলে একটি ও দহলা খাগড়াবাড়ি ছিটমহলে তিনটি নবজাতক ভূমিষ্ঠ হওয়ায় ভারতে যাওয়ার মোট সংখ্যা ৪৯১ জনে দাঁড়ায়।

তবে, ভারতীয় ট্রাভেল পাস পাওয়া ৪৯১ জনের মধ্যে ৫ জন আবারও তাদের মত পাল্টিয়ে বাংলাদেশেই থাকার আবেদন করেছেন।

অপরদিকে, জমি-জমা বিক্রি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ৩৪জন ট্রাভেল পাসধারী আগামী ৩০ নভেম্বর বুড়িমাড়ি-চেংরাবান্ধা চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাবেন বলে জেলা প্রশাসন নিশ্চিত করেছেন।

news portal website developers eCommerce Website Design