বিদ্রোহী না ঠেকালে নৌকার ভরাডুবির আশঙ্কা

municipality election - pourosova nerbaronসরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি : জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি ও জাতীয় পার্টিতে একক প্রার্থী থাকলেও আ’লীগের বিদ্রোর্হী প্রার্থী থাকায় বিপাকে পড়েছে ক্ষমতাশীন আ’লীগ দল। এ নিয়ে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব আছে কোন প্রার্থীকে ভোট দিবেন তারা। বিদ্রোহী প্রার্থী না ঠেকালে গত পৌর ও উপজেলা নির্বাচনের মতো এ নির্বাচনেও নৌকার ভরাডুবি হবে এমনটাই আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

জানা যায়, দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে আ’লীগ একক প্রার্থীর উপর গুরুত্ব দিয়েছে। সে আনুযায়ী দলটি একক প্রার্থীও নিশ্চিত করেছে। এদিকে সাবেক পৌর আ’লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা আ’লীগের সদস্য এ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তিনি জেলা আ’লীগের উপদেষ্টা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সদস্য তেজগাঁও কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদের ছোট ভাই এবং উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক ও তেজগাঁও কলেজের উপাধ্যক্ষ হারুন-অর-রশিদের বড় ভাই বলে জানা যায়। এ জন্যই দলীয় ও সাধারন ভোটারদের মাঝে দ্বিধা-দ্বন্দ্বটা বেশী। সেই সাথে পৌর এলাকায় বইছে নানা আলোচনা-সমালোচনার বাতাস।

অপর দিকে বিএনপি একেএম ফয়েজুল কবীর তালুকদার শাহীনকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করে। এ ছাড়াও বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী রহুল আমিন সেলিম ওরফে বেলজিয়াম সেলিম ও শহিদুল্লাহ ওরফে শহিদ ভিপি স্বতন্ত্র প্রার্থী হোন। গত ৬ ডিসেম্বর যাচাই-বাছাইয়ে উভয় প্রার্থীরই মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় বিএনপি’র একক প্রার্থী নিশ্চিত হয়।

আবার জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী হিসেবে এনামুল হক জোয়ার্দ্দারকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এ দলের অন্য কোন বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। জাসদ (ইনু) একক প্রার্থী হিসেবে গোলাম মোস্তফা জিন্নাহ্কে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এ নির্বাচনে বিদ্রোর্হী প্রার্র্থী নিয়ে বিপাকে পড়েছে ক্ষমতাশীল দল আওয়ামীলীগ। এ কারনে যতই দিন যাচ্ছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাই এলাকার ভোটাররা কোন্ প্রার্থীকে ভোট দিবেন এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন। সবার আগে এই মূহুর্তে বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকানো উচিত।

তা না হলে গত পৌর ও উপজেলা নির্বাচনের মতো এ নির্বাচনেও নৌকা প্রতীকের ভরাডুবি নিশ্চিত, এমনটাই আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। এ বিষয়ে এ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী নন, একটা বিশেষ কৌশল অবলম্বনের জন্য প্রার্থী হয়েছেন। যদি কোন কারনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী রোকনুজ্জামানের প্রার্থীতা বাতিল হয়। তখন তার প্রার্থীতা বহাল থাকবে। এ নির্বাচনে মহাজোট প্রার্থী মনোনয়নে কি করে তা দেখার অপেক্ষায় আছেন। সব ঠিক থাকলে আগামী ১৩ ডিসেম্বর প্রত্যাহারের দিন শেষ মুহুর্তে তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেবেন বলে তিনি জানান।

আওয়ামীলীগ নেতাদের নিকট তার মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন দেয়া আছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গত মঙ্গলবার আওয়ামীলীগ প্রার্থী রোকনুজ্জামান রোকনের পক্ষে সাতপোয়া পূর্ব পাড়ায় ভোট চাইতে গিয়েছিলেন। এ নিয়ে কোন দ্বিধাদ্বন্দের কোন কারন নেই।

news portal website developers eCommerce Website Design