কম্বল আত্মসাতকারী আ.লীগ নেতা ইউপি নির্বাচনের প্রার্থী তালিকায়

Bangladesh Awami League jessore map

Bangladesh Awami League jessore mapস্টাফ রিপোর্টার, যশোর : যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক সোহরাব হোসেনকে ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী করার জন্য কেন্দ্রে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন। এ নিয়ে দলের তৃর্ণমূলে নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে বহিস্কৃত নেতাকে মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য শীর্ষ নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তারা বলছেন, দলের সাথে বেঈমানদের ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী করা হলে ত্যাগী নেতারা রাজনীতি থেকে সরে দাড়াবেন। বহিস্কৃত নেতাদের প্রার্থী করে জেলার শীর্ষ নেতারা পুরস্কৃত করার চেষ্টা করছেন। এ কারণে তারা দলীয় ভরাডুবির আশঙ্কা করছেন। তারা অবিলম্বে বহিস্কৃত নেতাদের পাশাপাশি তাদের পুরস্কৃত করার নেতাদের বিচার দাবি করেছেন।

জানা গেছে, তৃর্ণমূলের মতামতের ভিত্তিতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় যশোর জেলা আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে যশোর সার্কিট হাউজে দলের জেলা সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার রুদ্ধতার বৈঠকে বসেন । এতে ভোটাভুটির সিদ্ধান্ত নেয় দুই নেতা। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত না মেনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসরাম মিলন তার পচ্ছেন্দের প্রার্থীর নামের তালিকা নিয়ে ঢাকায় চলে যান। এরফলে ভেস্তে যায় তৃর্ণমূলের মতামত। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন যে তালিকা করেছেন সেই তালিকায় বিতর্কিত ব্যক্তিদের নাম উঠে এসেছে। বিশেষ করে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক সোহরাব হোসেনের নেতার নাম থাকায় এই বিতর্কিত সৃষ্টি হয়েছে। সোহরাব হোসেনকে সদর উপজেলার ১২ নং ফতেপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে শহিদুল ইসলাম মিলন ঘোষণা করেছেন। এ কারণে তৃর্ণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
Untitled-1 copy
তারা জানায়, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহরাব হোসেন বিগত উপজেলা নির্বাচনের সময় দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদারের বিপক্ষে ভোট করেন। তিনি সে সময় দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে গিয়ে ভাড়াটে আওয়ামী লীগ বলে পরিচিত সাবেক এক সংসদ সদস্যর ছেলের পক্ষে ভোটের মাঠে নামেন। এ কারণে তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়।

শুধু তাই নয়, গত পৌর নির্বাচনের সময় ওই বহিস্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা আবারও দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে ভোট করেন। তিনি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এস এম কামরুজ্জামান চুন্নুর পক্ষে ভোট করেন। আগেই দল থেকে বহিস্কার হওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে পারেননি জেলা আওয়ামী লীগ।

সর্বশেষ সোহরাব হোসেন যশোর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ দুস্থদের মধ্যে কম্বল বিতরণ করতে দেন। কিন্তু সেই কম্বল বিতরণ না করে তিনি তা আত্মসাত করেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদ প্রকাশের পর লোক দেখানোর জন্য তার কয়েক জন্য আত্মীয়র মাঝে ওই কম্বল দিয়ে সংবাদপত্রে খবর বের করেন। গরীবের কম্বল আত্মসাত কারী নেতাকে দলীয় মনোনয়নের জন্য নাম দেওয়ায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন কি কারণে বহিস্কৃত নেতাকে দলীয় মনোনয়ন দিতে চান জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনকে কয়েক বার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

news portal website developers eCommerce Website Design