নজিপুর সরকারি কলেজে শিক্ষক সঙ্কটে পাঠদান ব্যাহত!

Patnitala pic 27.02.16পত্মীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি : প্রায় ৭হাজার শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক রয়েছে মাত্র ১৭জন। শিক্ষকের ১৬টি পদই শূন্য। এতে পাঠদানের কার্যক্রম মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। অবস্থা এতই শোচনীয় যে, সপ্তাহে কলেজের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ২টি ক্লাস হয়।

করুণ এই অবস্থা নওগাঁর পত্মীতলা উপজেলা সদর নজিপুর সরকারি কলেজের। কলেজের শিক্ষক সঙ্কটের কারণে শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট/কোচিংয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এতে প্রকট আকার ধারণ করছে শিক্ষা কার্যক্রমের মান নিয়ে ও অবিভাবকদের মনে প্রশ্ন উঠেছে।

কলেজ কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, কাজী আব্দুল মজিদ ১৯৭৩ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৫ সালে এর সরকারিকরণ হয়। বর্তমানে এখানে উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক (পাস) ও স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ের শিক্ষাদান করা হয়। মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৭হাজার। এখানে শিক্ষকদের ৩৩টি পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৭ জন।

কলেজ কার্যালয় সুত্র আরো জানায়, এখানে ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে একটি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে স্নাতক (সম্মান) কোর্স চালু হয়।

বর্তমানে যে সকল বিষয়ে এক জন শিক্ষকও কর্মরত নেই সে গুলো হচ্ছে- উদ্ভিদবিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, প্রাণিবিজ্ঞান, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপনন, স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যূদয়ের ইতিহাস, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি।

এছাড়া অন্যান্য বিষয়ের শূন্য পদ গুলো হচ্ছে- বাংলা বিভাগের জন্য এক জন প্রভাষক, ইংরেজি বিভাগের দুই জন প্রভাষক, অর্থনীতি বিভাগে দুই জন প্রভাষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে দুই জন প্রভাষক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিক বিভাগে এক জন প্রভাষক, দর্শন বিভাগে এক জন সহকারী অধ্যাপক,  হিসাববিজ্ঞান বিভাগে এক জন প্রভাষক, ব্যবস্থাপনা বিভাগে এক জন সহকারী অধ্যপক ও এক জন প্রভাষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে এক জন প্রভাষক, রসায়ন বিভাগে এক জন প্রভাষক, প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগে এক জন প্রভাষক, গণিত বিভাগে এক জন প্রভাষক, ভূগোল বিভাগে এক জন প্রভাষক।

আর গ্রন্থাগারিক, শরীর চর্চা শিক্ষক, হিসাব রক্ষক ও নিম্নমান সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক পদ গুলোতে প্রায় ১০বৎসর ধরে শুন্য রয়েছে।

স্নাতক (পাস) কোর্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মাসুদ রানা, কাওছার আলম, সুমন, সাইফুল, জনি আলমসহ আরো অনেকেই জানায়, মাসে ১-৩টি ক্লাস হয়।

একাদশ মানবিক বিভাগের ১ম বর্ষের ছাত্রী শারমিন, জেসমিন, মর্জিনা, রেহেনা ও ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ছাত্রী স্মৃতি রাণী ও রুবি আক্তার সহ অনেকেই জানান, শিক্ষক না থাকায় ক্লাস হয়৤ তাই নিয়মিত কলেজে না এসে প্রাইভেট বা কোচিংয়ের উপর নির্ভর হতে বাধ্য হয়েছি, তাছাড়া ভাল ফলাফল করা সম্ভব নয়।

অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুর রব চৌধুরী বলেন, শিক্ষক সঙ্কটের কারণে শিক্ষার কার্যক্রম চালানো ব্যাঘাত ঘটছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়েছে। তা সমস্যা সমাধানের জন্য উর্ধ্বতন কর্র্র্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কোন সুফল পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ধামইরহাট-পত্মীতলা আসনের সাংসদ ও জাতীয় সংসদের হুইপ শহিদুজ্জামান সরকার বলেন, বিসিএস পরীক্ষার ফলাফলের পর নতুন নিয়োগ দেওয়া হবে।

news portal website developers eCommerce Website Design