তুষের আগুনে পুড়ছে যশোর আ.লীগ

Bangladesh Awami League jessore map

Bangladesh Awami League jessore mapস্টাফ রিপোর্টার, যশোর : তুষের আগুনে পুড়ছে যশোর আওয়ামী লীগ। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বহিস্কৃত ও বিতর্কিতদের প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করায় তৃর্ণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে আগুন দাউ দাউ করে জ¦লে পুড়ে ছারখার হচ্ছে। আগুনের দাবানলে দলের ভরাডুবির আশঙ্কা করছেন তৃর্ণমূলের নেতাকর্মীরা।

জানা গেছে, তৃর্ণমূলের মতামতের ভিত্তিতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জেলা আওয়ামী লীগ। এতে করে তৃর্ণমূল নেতাকর্মীরা নিজেদের মূল্যায়ন হবে এমনটাই আশা করেছিলেন। কিন্তু তৃর্ণমূলের সেই আশা গুড়ে বালি হয়ে গেছে। দলের জেলা সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার রুদ্ধতার বৈঠক করেও কোন লাভ হয়নি। এ দুই নেতা নিজেদের পচ্ছেন্দের লোককে প্রার্থী করার জন্য উঠে পড়ে লাগে। এক পর্যায়ে দুই নেতা পৃথক দুটি তালিকা করে কেন্দ্রে নিয়ে যান। এ তালিকায় আওয়ামী লীগের সাথে বেঈমান, বিশ্বাস ঘাতক, বহিস্কৃত, খুনি মামলার আসামি, দুর্নীতিবাজসহ বিতর্কিতদের নাম নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে প্রার্থী করার জন্য ধর্না দেন। এসব দুর্নীতিবাজ লোকদের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তৃর্ণমূল আওয়ামী লীগের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

তারা বলছেন, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে নির্দেশনা দিয়েছেন তা থেকে সরে এসব বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রার্থী করলে দলের ভরা ডুবি হবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সোহরাব হোসেনকে ১২ নং ফতেপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলের জেলা সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন। সোহরাব হোসেন এলাকায় বিতর্কিত হিসেবে পরিচিত। তিনি সম্প্রতি যশোর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের দেওয়া গরীব মানুষের জন্য দেওয়া কম্বল আত্মসাৎ করেন। এ কারণে সোহরাব হোসন সংবাদ শিরোনামও হয়েছেন।

নেতাকর্মীরা জানায়,  সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহরাব হোসেন বিগত উপজেলা নির্বাচনের সময় দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদারের বিপক্ষে ভোট করেন। তিনি সে সময় দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে গিয়ে ভাড়াটে আওয়ামী লীগ বলে পরিচিত সাবেক এক সংসদ সদস্যর ছেলের পক্ষে ভোটের মাঠে নামেন। এ কারণে তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়।

শুধু তাই নয়, গত পৌর নির্বাচনের সময় ওই বহিস্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা আবারও দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে ভোট করেন। তিনি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এস এম কামরুজ্জামান চুন্নুর পক্ষে ভোট করেন। আগেই দল থেকে বহিস্কার হওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে পারেননি জেলা আওয়ামী লীগ।

শুধু ফতেপুর নয় সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে বিতর্কিত, বেঈমান, বিশ্বাস ঘাতক, বহিস্কৃত, খুনি মামলার আসামি, দুর্নীতিবাজ প্রার্থী করার জন্য দলের শীর্ষ নেতারা যে পায়তারা চালাচ্ছে এ কারণে তৃর্ণমূলের মধ্যে আগুন দাউ দাউ করে জ¦লছে। এতে করে সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ভরাডুবির আশঙ্কা করছেন তারা।

এ ব্যপারে জানার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনের ফোনে কয়েকবার ফোন দেওয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

news portal website developers eCommerce Website Design