top3

শিক্ষককে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠালেন প্রশিক্ষক!

By ওয়ান নিউজ বিডি

May 20, 2016

ওয়ান নিউজ, শেরপুর : নারায়ণগঞ্জে এক শিক্ষককে কান ধরে ওঠ-বস করিয়ে লাঞ্ছনার ঘটনায় সারা দেশে তোলপাড়ের মধ্যেই শেরপুরের নকলা উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক স্কুলের এক শিক্ষককে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন এক প্রশিক্ষক। আহত বড়ইতার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শহীদুল ইসলাম নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত বুধবার নকলা উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় রিসোর্স সেন্টারের প্রশিক্ষক লুৎফর রহমান লিটন শিক্ষক শহীদুল ইসলামকে লাঞ্ছিত ও মারধর করেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নকলা উপজেলার শিক্ষক সমিতি প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে আগামী ২৮ মের মধ্যে শিক্ষক লাঞ্ছনার বিচার দাবি করা হয়।

প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষক সমিতির উপদেষ্টা নকলা মডেল সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ এফ রফিকুল আলম, সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন, সহসভাপতি আবদুল আওয়াল, সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন, সহকারী শিক্ষক ফোরাম সভাপতি ওমর ফারুক, সাধারণ সম্পাদক নুরুদ্দিন শাহিনসহ বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে আগত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা।

আহত শিক্ষক শহীদুল ইসলাম জানান, গত ১৭ মে উপজেলা রিসোর্স সেন্টারে তাঁর স্ত্রী মোদির পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সরুফা বেগমসহ আরো বেশ কয়েকজন শিক্ষিকা প্রেষণে ইংরেজি প্রশিক্ষণের জন্য যান। এ সময় রিসোর্স সেন্টারের প্রশিক্ষক এবং স্থানীয় প্রভাবশালী লুৎফর রহমান লিটন শিক্ষিকাদের কাছে প্রশিক্ষণ বাবদ টাকা দাবি করেন। কিন্তু টাকা দিতে অস্বীকার করায় শিক্ষিকা সরুফা বেগমসহ কয়েকজনকে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে বের করে দেন প্রশিক্ষক লিটন।

শিক্ষক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘ওই ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহেদ উদ্দিনের কাছে আমি বিচার দিই। গত বুধবার বিকেলে উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ে আমাকে ও প্রশিক্ষক লিটনকে ডাকা হয়। আমি শিক্ষা কার্যালয়ে উপস্থিত হলে লিটন, তাঁর ভাই ও অন্যান্য লোকজন শিক্ষা কর্মকর্তার সামনেই আমার ওপর হামলা চালান। আমাকে মারধর করেন।’

পরে সেখানে উপস্থিত লোকজন শিক্ষক শহীদুল ইসলামকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অহেদ উদ্দিন জানান, ‘প্রশিক্ষক লিটন শিক্ষক শহীদুল ইসলামকে মারধরের সময় আমাকে গালাগাল করেন।’

এ ব্যাপারে কথা বলতে প্রশিক্ষক লুৎফর রহমান লিটনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।