কিলিং টার্গেট বরগুনা, তৎপর পুলিশ

picওয়ান নিউজ বিডি, বরগুনা : প্রশাসনের তৎপরতায় ভীতি কাটছে বরগুনার হিন্দু সম্প্রদায়ের মন থেকে। মন্দিরে মন্দিরে টহল বাড়ানো হয়েছে। পোশাকধারী ছাড়াও সাদা পোশাকের পুলিশও সতর্ক রয়েছে। পাশাপাশি মন্দির কমিটিগুলোকে উদ্বুদ্ধ করে নিজস্ব পাহার বসানোরও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

পুলিশের এ তৎপরতার কারণে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে রোববার সকালে কালিবাড়ি মন্দিরের পুরোহিত সঞ্জয় চক্রবর্তী জানান। পুলিশ কর্মকর্তাসহ পর্যায়ক্রমে ডিএসবি ও গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা বর্তমানে তার খোঁজ-খবর রাখছেন বলেও জানান।

এর আগে ২ জুলাই বরগুনার কালিবাড়ি মন্দিরের পুরোহিত সঞ্জয় চক্রবর্তীকে হত্যার হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠায় পুরোহিত হত্যা সংগঠন নামের একটি সংগঠন।

লিখিত চিঠিতে বিভিন্ন হুমকি মূলক কথা লেখা ছিল। শেষে লেখা হয়, ‘কিলিং মিশনে আছি বরগুনায়।’ চিঠির এ কথায় ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুরোহিতদের হত্যাকারীদের কোনো টিম বা চক্র বর্তমানে বরগুনায় অবস্থান করার ইঙ্গিত দেয়। দেশের অন্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এই হুমকিদাতারাই যে জড়িত, তা নিয়ে সন্দেহ করছে সচেতন মহল। আর তাতেই ভীতি ছড়িয়ে পড়ে জেলার পুরো হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে।

তাদের দাবি, এ ধরনের হুমকিকে উড়োচিঠি হিসেবে উড়িয়ে না দিয়ে বিষয়টি আমলে নেয়া উচিত প্রশাসনের। সেই সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা দরকার।

শনিবার দুপুরে বরগুনা সদর থানায় পুরোহিত সঞ্জয় চক্রবর্তীর করা সাধারণ ডায়রির প্রেক্ষিতে সতর্ক হয় পুলিশ। রাতেই মন্দিরে মন্দিরে পুলিশি টহল টিম মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি মন্দির কমিটিগুলোকে উদ্বুদ্ধ করা হয়। তাদের মধ্যে পাহারা দল গঠনের পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিয়াজ হোসেন বলেন, রাতে জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা বিভিন্ন মন্দির ঘুরেছেন। মন্দির ও তার আশপাশ এলাকা পুলিশি নজরদারিতে আনা হয়েছে। শুধু পোশাকধারী নয়, পোশাকের বাইরেও মন্দিরগুলোতে পুলিশি পাহারা বসানো হয়েছে।

হুমকির শিকার পুরোহিত সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, রাতে পুলিশি পাহারা জোরদার করায় কিছুটা আশ্বস্ত বোধ করছি। পর্যায়ক্রমে পুলিশ কর্মকর্তাসহ ডিএসবি ও গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা তার সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখছেন। এভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বরগুনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শুখরঞ্জন শীল বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ধর্মপ্রাণ মানুষ অবাধে যাওয়া আসা করে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে হিন্দু সম্প্রদায় মন্দিরগুলোতে যেতে ভয় পাচ্ছে। তাদের ভীতি দূর করতে প্রশাসনকে আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।

বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক বলেন, মন্দিরগুলোতে স্থায়ী নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে সহায়তা করবে।

news portal website developers eCommerce Website Design
Close ads[X]