গাইবান্ধায় জামাই আদরে বেড়েগেছে তালের কতর

gaibandhaসুমন কুমার বর্মন, গাইবান্ধা : ভাদ্র মাসের গরমে পেকেছে পিঠা তৈরির সুস্বাধু রসালো ফল তাল। এ ফল দিয়ে বানানো পিঠা জামাইকে খাওয়াতেই বেড়ে গেছে তালের কদর। তাই জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের ফুটপাতসহ বিভিন্ন অলি গলিতে জমে উঠছে তালের বাজার।

কথায় আছে, ভাদ্র মাসে তালের পিঠা খেতে লাগে ডাবল মিঠা। রসালো তালে বানানো পিঠা দিয়ে জামাইকে খুশি করতেই গাইবান্ধায় বেড়ে গেছে তালের কদর। এই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা। তারা ক্রেতা বুঝে বিশ টাকার তাল পঞ্চাশ টাকায় বিক্রি করছেন।

গাইবান্ধার সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা আনসার আলী জানান, বারমাসে তের পার্বণের বাংলাদেশে সব সময় প্রায় সব ধরণের ফল পাওয়া যায় । কিন্তু ভাদ্র মাস ছাড়া অন্যকোন মাসে তাল পাওয়া যায়না।

আনসার আলীর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম জানান, তার একমাত্র মেয়ে আফরোজাকে প্রায় দুই বছর আগে বিয়ে দিয়েছেন। জামাইকে তাল দিয়ে বানানো পিঠা, বরা, রুটি, পায়েসসহ তালের রসভরি বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্ন খাবার খাওয়াতে হবে। কারন ভাদ্র মাসে খাওয়াতে না পারলে এ বছরেও সম্ভব হবেনা।

সদর উপজেলার পৌর শহরে তাল কিনতে আসা উপজেলার মালিবাড়ি ইউনিয়নের মুর্সিদের বাজার এলাকার সাইফুল ইসলাম জানান, জামাই আসছে বাড়ীতে। তাই শনিবার সন্ধ্যায় তাল কেনার জন্য আসেন গোবিন্দগঞ্জ পৌর বাজারে। এ সময় দেখা হলে তিনি জানান, গত বছরের চেয়ে এবার তালের দাম দ্বিগুন বেশি। দুটি তাল কিনেছেন ৯০ টাকা দিয়ে। অথচ গতবার এ তাল বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়।

গাইবান্ধা জেলা সদরের বড় মসজিদ এলাকার ফলের দোকানগুলোতে সুন্দর করে তাল সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ফল ব্যবসায়ী সুজন মিয়া জানান, গ্রাম থেকে প্রতিটি তাল ১০ থেকে ২৫ টাকায় কিনে আনা হয়েছে। ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে ১৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। পাশের দোকানের আইয়ুব আলী নামে এক ক্রেতা  জানান, ৪০ টাকা দরে দুটি তাল ক্রয় করেন।

তিনি আরও জানান, তার জামাই সেনাবাহিনীতে চাকরী করেন। ভাদ্র মাসে দাওয়াত খেতে আসার ছুটি নেই। তাই  তালের নানা রকম পিঠা বানিয়ে সেখানেই নিয়ে যাবেন।

news portal website developers eCommerce Website Design