ঐতিহ্যবাহী তীলের খাজার কারখানা গড়ে উঠেছে রাজশাহীর চারঘাটে

rajশহীদুল ইসলাম, (রাজশাহী) চারঘাট : শীতের আমেজে নতুন সংযোগ ঐতিহ্যবাহী তীলের খাজা। চাঁপাই নবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী তীলের খাজা সারা রাজশাহী অঞ্চল জুড়ে খ্যাত। সেই চাঁপাই নবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী তীলের খাজা আরও উন্নত করে তৈরি হচ্ছে রাজশাহী জেলার চারঘাটের হলিদাগাছীতে। চাঁপাই নবাবগঞ্জের লাহারপুর গ্রাম থেকে আসা শ্রী গুরুপদ সরকার একজন খাজা ব্যবসায়ী। শ্রী গুরুপদ সরকারের সাথে একান্ত আলাপে তিনি জানান যে, তার পূর্বপুরুষদের  ঐতিহ্যবাহী তীলের খাজার ব্যবসা তিনি ধরে রেখেছেন। তিনি নিজেই খাজা তৈরী করেন। গত ৪ বছর ধরে প্রতি বছর অক্টোবর থেকে জানুয়ারী পর্যন্ত চারঘাটের হলিদাগাছীতে ঐতিহ্যবাহী তীলের খাজা তৈরি কররেন। মূলত তিনি এবং তার দুই ছেলে কৃষ্ণ ও গোপাল এবং একজন স্থানীয় ভ্যানচালকসহ মোট চার জনে খাজার কারখানা গড়ে তুলেছে।

rajshaiতীল, চিনি ও পানি দিয়েই তৈরী হয় তীলের খাজা। ৪ কেজি চিনির মধ্যে সুবিধমত পানি মিশিয়ে প্রায় আধা ঘন্টা আগুনে উত্তপ্ত করে মিশ্রণকে গাঢ় করা হয়। এরপর পাত্রে রেখে প্রায় ১৫মিনিট  থামিয়ে তাপমাত্রা কমিয়ে পেষ্ট করা হয়। এরপর সিংগটিতে টাংগিয়ে ১৫/২০ বার চিনি টানা হয়, তারপর হাতে  লই দিয়ে (দুইজন মিলে প্রায় ১৫/২০টি ভাঁজ দেওয়া) পরিস্কার পলিথিনের উপর লম্বা (প্রায় ১০/১২ফুট) করে রেখে দিতে হয়।  প্রায় ১০ মিনিট পর সুবিধামত কেটে ভাজা তিলের উপর কাটা খাজাগুলোকে গড়ানো হয়। এরপর কাটা খাঁজাগুলোকে পলিথিনে প্যকেট করা হয়। এভাবে তিনি প্রতিদিন গড়ে ৫০ কেজি খাঁজা তৈরী করেন।

এতে ৪২ কেজি চিনি ও ৯ কেজি তিল প্রয়োজন হয়। কেজি প্রতি উৎপাদন খরচ হয় প্রায় ৮০ টাকা এবং পাইকারী বিক্রয় হয় ৯৫ টাকা, এতে প্রতিদিন গড়ে আয় হয় প্রায় সাড়ে সাত শত টাকা অর্থাৎ মাসে ২২ হাজার টাকা। এতেই  শ্রী গুরুপদ সরকারের ৬ সদস্যবিশিষ্ট সংসার চলে। এই খাজা দূর্গাপুর, তাহেরপুর ও বানেশ্বর বাজারসহ চারঘাট ও পুঠিয়ার বিভিন্ন বাজারে পাইকারী ও খুচরা বিক্রয় করার জন্য সরবরাহ করে।

news portal website developers eCommerce Website Design