দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল

কেশবপুরের বিরল প্রজাতীর বন বিবির মিষ্টি তেঁতুল গাছটি বিলুপ্তির পথে!

By ওয়ান নিউজ বিডি

November 22, 2016

জাহিদ আবেদীন বাবু, (যশোর) কেশবপুর : যশোরের কেশবপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিরল প্রজাতীর ৫‘শ বছর বয়সি বন বিবির মিষ্টি তেঁতুল গাছটি অযত্ন অবহেলায় বিলুপ্ত হতে চলেছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা অর্চনাসহ বহুবিধ গুণের কারণে গাছটি এলাকায় অলৌকিক গাছ হিসেবে পরিচিত। এলাকার ভূমি দস্যুদের অত্যাচার নির্যাতনের শিকারে গাছটি গত ৫ বছর আগে উপড়ে গিয়েও বেঁচে আছে। এলাকাবাসীর দাবি চিরজীবী এ গাছটি সরকারিভাবে সংরক্ষণ করার।

জানা গেছে, কেশবপুর সদর ইউনিয়নের মূলগ্রাম আটঘোরা সড়কের পাশে সরকারি ২২ শতক খাস জমির ওপর ঐতিহ্যবাহী বিরল প্রজাতীর ৫‘শ বছর বয়সি বন বিবির মিষ্টি তেঁতুল গাছটি অবস্থিত। গাছটির নামানুসারে সড়কটি নিলেমালা তেঁতুল তলা সড়ক নামে পরিচিত। অতীতে গাছটি আশপাশের প্রায় ২ বিঘা এরিয়া নিয়ে বিস্তৃত ছিল। কিন্তু গাছটির চারপাশের ভূমি দস্যুরা সরকারি জমি দখল করাসহ গাছটির ওপর অত্যাচার নির্যাতন করায় গত ৫/৬ বছর আগে উপড়ে পড়ে। এরপরও অলৌকিকভাবে গাছটি বেঁচে আছে। বর্তমান গাছটি ৪ কাঠা জমির মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এ গাছের তেঁতুলের স্বাদ আলাদা, মিষ্টি। পতিত হওয়ার পরও গাছটি সজিবতা ফিরে পাচ্ছে। এজন্য এলাকাবাসী গাছটি সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছে।

মূলগ্রামের বাসিন্দা আশোক বিশ্বাস বলেন, প্রাচীন কাল থেকেই মূলগ্রাম, কোমরপোল, গৌরীপুর, খৈত্রপাড়াসহ দূর-দূরান্তের  হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এ গাছের গোড়াই মানদ ও পূজা অর্চনা করে আসছে। প্রবাদ রয়েছে, এ গাছের ডাল কাটলে মানুষের ক্ষতি হয়। এমনকি লোকের মৃত্যুও হতে পারে। গত বছর রিশি সম্প্রদায়ের লোকেরা এ গাছের ডাল জ্বালানী হিসেবে নিয়ে যায়। কিন্তু রাতে স্বপ্ন দেখায় এ গাছের ডাল যে আগুনে পোড়াবে তার মৃত্যু হবে, তাই প্রাণের ভয়ে সেই কাঠ আবার রেখে আসা হয়। এ গাছের ফল নিয়ে অনেকেই রোপণ করেছে, কিন্তু বাঁচে না। এ গাছে গভীর রাতে জ্বীনের আগমন ঘটে থাকে।

মূলগ্রামের শতবর্ষী আনার সরদার জানান, তিনি দাদার মুখে শুনেছেন ত্রিপুরাপুর খেয়াঘাট থেকে একটি নদী মূলগ্রামের ভেতর দিয়ে মধ্যকুল হয়ে কালিগঞ্জ খেয়াঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। দিনে একবার পাল তোলা নৌকায় চড়ে মানুষ এ নদী দিয়ে চলাচল করতো। এ নদীর পাড়েই বন বিবির তেঁতুল গাছটি লাগানো ছিল। কালের আবর্তে বর্তমান সে নদীর কোনো অস্তিত্ব নেই। কে গাছটি লাগিয়েছিল তা তার দাদাও জানতেন না। তবে গাছটি ৫‘শ বছরের পুরনো হবে। এর নাম বন বিবির তেঁতুল গাছ হলো কেন এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হয়তো বা বনের মধ্যেই গাছটি জন্মে ছিল বলে এর নামকরণ করা হয় বন বিবির তেঁতুল গাছ।

সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলাউদ্দীন বলেন, গত বছর কর্মসৃজন কর্মসূচীর শ্রমিক দিয়ে এ গাছের গোড়াসহ চারপাশ মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়েছিল। যার কারণে গাছটি সজিবতা ফিরে পেয়েছে। সরকারের সহযোগিতায় ঐতিহ্যবাহী বিরল প্রজাতীর ৫‘শ বছর বয়সি এ বন বিবির মিষ্টি তেঁতুল গাছটি রক্ষাসহ অরক্ষিত ভূমি উদ্ধার করা সম্ভব।

উপজেলা ফরেস্টার আলী আহমদ চৌধুরী বলেন, আমি এ থানায় যোগদান করার পর এলাকার জনগণ গাছটি সংরক্ষণের দাবি জানায়। তখন সরেজমিনে গাছটি পরিদর্শন করি। এ সময় বয়স্ক লোকদের কাছ থেকে গাছটির ইতিকথা জানার চেষ্টা করি। যেহেতু গাছটি সরকারি ২২/২৩ শতক জমির ওপর পতিত অবস্থায় রয়েছে। অদ্যাবধি তার মৃত্যু ঘটেনি। আমরণ বা চিরজীবী গাছ হিসেবে সরকারিভাবে এর সংরক্ষণ করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিটন আলী বলেন, এ উপজেলায় সবেমাত্র যোগদান করেছি। গাছটির কথা আমি শোনেনি। সুযোগ পেলে সরেজমিনে পরিদর্শন করে সরকারি জমি উদ্ধারসহ যাতে গাছটি সংরক্ষণ হয় তার ব্যবস্থা নেয়া হবে।