ইতিহাস ঐতিহ্যের লীলাভূমি কেশবপুরের মীর্জানগর হাম্মামখানা

keshabpur jessoreআব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ: বাংলার সুবেদার শাহ শুজার শ্যালকপুত্র মীর্জা সফসি খান ১৬৪৯ খ্রি: যশোর ফৌজদার নিযুক্ত হন। ৩শ’ ৬১ বছরের প্রাচীন স্থাপত্য কেশবপুরের মীর্জানগর হাম্মামখানা। দেশের দুর দুরান্ত থেকে পর্যটকরা এখানে আসলেও সুষ্ঠুব্যবস্থাপনা ও সুযোগ সুবিধা না থাকায় তারা ভ্রমন পিপাশা মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে। সরকারিভাবে মীর্জানগর হাম্মামখানাটি রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেয়ার দাবি এলাকার মানুষের।

যশোরের কেশবপুর উপজেলা সদর থেকে ৭ কিঃ মিঃ পশ্চিমে কপোতাক্ষ ও বুড়িভদ্রা নদীর সঙ্গমস্থল ত্রিমোহিনী নামক স্থানে বাস করতেন তিনি। তার নাম অনুসারে এলাকাটির নাম হয় মীর্জানগর। ত্রিমোহিনী কেশবপুর রাস্তার পাশ্বে মীর্জা নগরের নবাব বাড়ি এখন ভগ্নস্তুপ বিশেষ এই হাম্মামখানা ঘিরে এখনো মানুষের মুখে মুখে প্রচালিত আছে বহু কাহিনী ও ঘটনা।

বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে নুরল্লা খাঁ ফৌজদার নিযুক্ত হন। তিনি বুড়িভদ্রা নদীর দক্ষিন পাড়ে কিল্লাবাড়ি স্থাপন করে সেখানে বসবাস করতেন। সুবিস্থৃত পরিখা খনন করে আট দশ ফুট উচু প্রাচীর বেষ্টীত করে এটাকে মতিঝিল নামকরন করেন। এর একাংশে বতকখান, জোনানাসহ হাম্মামখানা (গোসল খানা) ও দূর্গের পূর্বদিকে সদর তোরন নির্মান করেছিলেন। কামান দ্বারা দূর্গটি সুরক্ষিত ছিল। মীজানগরের কামানের ১টি যশোরের মনিহারে মোড়ে সংরক্ষিত আছে। হাম্মাম খানা বাদে আজ কিছুই অক্ষত নেই।

চার কক্ষ বিশিষ্ট এবং একটি কুপ সমেত হাম্মাম খানাটি মোগল স্থপত্য শৈলীর অনুকরনে নির্মিত হয়।স্থাপনটি চার গম্বুজ বিশিষ্ট এর পশ্চিম দিকে পরপর দু’টি কক্ষ। পূর্ব দিকের কক্ষ দু’টি উচু চৌবাচ্চা হিসাবে ব্যবহার করা হত। পূর্ব পাশে দেয়াল বেস্টনীর ভেতরে রয়েছে ৯ফুট ব্যাসের পোড়া মাটির ইটের তৈরি র্নিমিত সুগভীর কুপ যে কুপ হতে পানি টেনে তুলে এক ছাদের দু’টি চৌবাচ্চায় জমা করে রোদ্রে গরম করে দেয়াল অভ্যান্তরে গ্রহিত পোড়ামাটির নলের মাধ্যমে স্নান কক্ষে সরবরাহ করা হত।

স্থপনাটির দক্ষিন পাশ্বে একটি চৌবাচ্চা এবং সুড়ঙ্গ রয়েছে যা তোষাখানা ছিল বলে ধারনা করা হয়। ১৯৯৬ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এটিকে পুরার্কীতি হিসাবে ঘোষনা করে। যশোরের কেশবপুরের মীর্জানগর হাম্মামখানায় দশনার্থী ও পর্যটকদের ভীড় লক্ষ্য করা যায়। আজও বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটক ও ভ্রমণ বিলাসী মানুষ ছুটে আসেন তার হাম্মামখানা দেখতে।

হাম্মামখানাটির অনুকুলে ১ একর ৯৩ শতাংশ জমি থাকলেও বর্তমান সেই জমি অবৈধ্য দখলদারদের কবলে।

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, ওই গ্রামের কারী মোহাম্মাদ মতিয়ার রসুল ও তার পুত্র শহিদুল ইসলাম ২ বিঘা ২০ শতক, মৃত গোলাম হায়দারে পুত্র শেখ সালাম ২২ শতক, গোলাম মোস্তফার কন্যা বকুল ৮ শতক তার পুত্র লতিফ ৮ শতক, আলীম ২ শতক,শেখ আব্দুল হামিদের পুত্র আব্দুল হান্নান ৮ শতক, গোলাম রব্বানীর পুত্র হায়দার ২০ শতক, মালেক গাজী ও করিম ৭ শতক অবৈধ দখল করে আসছে।

এলাকাবাসি উক্ত জমি অবৈধ দখলমুক্ত করে সরকারিভাবে রক্ষনাবেক্ষনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সাগরদাঁড়ি মধুপল্লীর কাষ্টোডিয়ান মহিদুল ইসলাম জানান, উক্ত জমি নিয়ে মামলা চলছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওখানে কোন কিছু করা যাচ্ছে না।

news portal website developers eCommerce Website Design
Close ads[X]