শেষ মুর্হতে মধুমেলায় কেনা কাটার ধুম, বন্ধ হলো অশ্লীলতা

রাজীব হোসেন, সাগরদাঁড়ি থেকে : আধুনিক বাংলা সাহিত্যের রুপকার সনেট প্রবর্তক মহাকবি মাইকেল মধূসূদন দত্তের ১৯৩ তম জন্মবার্ষিকী । যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ জানুয়ারী জন্ম গ্রহন করেছিলেন বাংলা সাহিত্যের ক্ষনজন্মা মহাপুরুষ,  অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক আধুনিক বাংলা কাব্যের রূপকার মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

কবি মধুসূদন দত্তের ১৯৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গত ২১ জানুয়ারী শনিবার থেকে সাগরদাঁড়িতে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা শুরু হয়েছে। কবির জন্মদিন ঘিরে প্রতিবছর সাগরদাঁড়িতে এ মেলা বসে। আজ বৃহস্পতিবার  মেলা প্রাঙ্গণ সরেজমিনে ঘুরে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় দেখাগেছে, পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর মত পরিস্থিতি দেখা যায়।যশোরের বাসিন্দাদের পাশাপাশি দেশ ও দেশের বাইরে থেকে এসেছেন অনেকে।

সরসকাঠির বাসিন্দা রুবেল হোসেন বলেন, ‍ আত্মীয়-স্বজন নিয়ে ঘুরতে এসেছি। প্রতিবছর এই মধুমেলার সময় আসি, খুব ভাল লাগে।” স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মেলা ঘুরতে আসার ফাঁকে প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র কেনা হয়ে যায় ।

মিতু আক্তার ওয়ান নিউজকে বলেন, “মূলত ঘুরতে এসেছিলাম; কিন্ত ঘরের কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসও কেনা হয়ে গেছে। “এবার মধুমেলায় পুতুলনাচ ,জাদুর নামে উলঙ্গ নৃত্য না থাকায় মেলার সুন্দর পরিবেশ বজায় আছে, এ সুযোগে শান্তিতে ঘুরে বেড়ানো যাচ্ছে। তবে মেলায় আগের বছর গুলোতে কৃষিমেলা থাকতো কিন্তু এবার নাই, এ জন্য মনটা একটু খারাপ হয়ে গেল কারন কৃষিমেলাটা আমাদের কাছে খুব ভাল লাগতো।  মেলায় নিরাপত্তাও বেশ ভাল, কোনো অব্যবস্থাপনা চোখে পড়ে নাই।”

আর মাত্র ১ দিন বাকী। শেষ দিকে মেলায় ক্রেতা-দর্শণার্থীর ভীড় বাড়বে এমনটা সাবাবিক। বৃহস্পতিবার  মানুষের ঢল নামে মেলায়। ক্রেতা-দর্শণার্থীর পদচারনায় মুখরিত হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। তবে এদিন মেলায় ঘুরে বেড়ানো ও কেনাকাটাতেই ব্যস্ত ছিলেন দর্শণার্থীরা। তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না স্টল-গুলোতে। ক্রেতাদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন বিক্রেতারা।

সপ্তাহেন শেষ দিনে শীতের মিষ্টি রোদে সকাল থেকেই মানুষের ভীড় দেখা যায় মেলায়। মানুষের ভীড়ের ভোগান্তি এড়াতে আগেভাগেই পরিবার পরিজন নিয়ে মেলায় হাজির হন অনেকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং শেষ বিকেলে মেলা প্রাঙ্গণে দেখা যায় মানুষের উপচেপড়া ভীড়। এদিন মেলায় দর্শণার্থীদের কেনাকাটার প্রতি ঝোঁক ছিল বেশি। মেলায় আগতদের  হাতেই দেখা গেছে পণ্যসামগ্রীর প্যাকেট। অনেকের হাতে একাধিক প্যাকেটও দেখা গেছে। মূলত মেলার শেষ দিকে এ কারনেই বিক্রি বেড়েছে বলে একাধিক ক্রেতা-বিক্রেতা জানান।

কুষ্টিয়া থেকে পরিবার নিয়ে মেলায় আসেন ব্যবসায়ী পারভেজ, তিনি একটি স্টলের পাশে অনেকগুলো প্যাকেট হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। তাকে বাইরে রেখে সাথে আসা বাসার মহিলা সদস্যরা ভিতরে কেনাকাটায় ব্যস্ত ছিলেন। তিনি জানান, মেলায় ঘুরতে আসলেও তারা কেনাকাটায় বেশি সময় দিচ্ছেন। বিশেষ করে মহিলারা বাসার প্রয়োজনীয় অনেক কিছু কিনছেন।  এছাড়া কসমেটিক্স, থ্রিপিস, কম্বল, শিশুদের খেলনার স্টলগুলোতেও ছিল ক্রেতাসমাগম। ব্লেজার, টিশার্ট, জুতা-স্যান্ডেলসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যের স্টলগুলোও ছিল ক্রেতামুখর। বিক্রি বেশ ভালো বলে জানান বিক্রেতারা।

নূর আলীসহ কয়েকজন বয়স্ক ব্যাক্তিদের সাথে আলাপ করে জানা যায়  মধুমেলায় পুতুলনাচ জাদু  প্রদর্শনি বন্ধ থাকাই আমরা খুব খুশি আত্মীয়-স্বজন ও স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মেলায় ঘুরতে পারছি  তবে যাত্রা বন্ধ করলে আরো ভালো হতো। যুব সমাজ বিনোদনের নামে দিন দিন ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছিলো তা বন্ধ হয়েছে । সচেতন মহল এই অশ্লীলতা বন্ধের জন্য উর্দ্ধোতন কর্তৃপক্ষের ধন্যবাদ জানিয়েছে ।

news portal website developers eCommerce Website Design
Close ads[X]