অবশেষে প্রশংসা পত্র ছাড়াই চলে যেতে হল স্কুল ছাত্রী আয়শার

আল-আমিন মিয়া, নরসিংদী : টানা ১৫ দিন প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামের দ্বারে দ্বারে ঘুরে অনেক অনুরোধের পরেও মন গলাতে পারেনি পলাশ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পাশকরা স্কুল ছাত্রী নুসরাত জাহান আয়শা ও তার ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত মা রহিমা বেগম। অবশেষে প্রশংসা পত্র ছাড়াই তাদের চলে যেতে হল সিরাজগঞ্জের নিজ গ্রামে। নুসরাত জাহান আয়শা পলাশ গড়পাড়া এলাকায় তার নানা বাড়িতে বসবাসরত অবস্থায় পলাশ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা করে জেএসসি পরিক্ষায় উত্তির্ণ হয়। তার পিতা সামিম মিয়া সিরাজগঞ্জ এলাকায় কাপড়েরর ব্যবসা করেন, সেই সুবাধে তাদের সেখানে যেতে হচ্ছে।

স্কুল ছাত্রীর মা রহিমা বেগম জানান, মেয়েকে গ্রামের বাড়ির স্কুলে ৯ম শ্রেণীতে ভর্তি করার সুবিধার জন্য প্রশংসা পত্র চেয়ে আবেদন করেছিল। আজ না কাল, দিচ্ছি -দিব বলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম আমাদের হয়রানি করেন। অবশেষে তিনি আমাদের প্রশংসা পত্র না দিয়ে মেয়েকে ৯ম শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে ছাড়পত্র নিতে বলে। ভর্তির সময় চলে যাচ্ছে বিধায় আমি অসুস্থ শরীর নিয়ে গত রবিবার সকালে স্কুলে ভর্তি করে ছাড়পত্র দেওয়ার কথা বললে তিনি ছাড়পত্র দেওয়ার কথাটিও নিষেধ করে দেন। তাই এখন নিরুপায় হয়ে আমাদের চলে যেতে হচ্ছে।

কথাগুলো বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন রহিমা বেগম। এসময় তিনি আরো বলেন, টানা ৮টি বছর আমার মেয়ে এই স্কুলে পড়ালেখা করেছে। এই স্কুল থেকে পরিক্ষা দিয়ে জেএসসি পরিক্ষায় পাশ করেছে। আমার মেয়ে কি স্কুল থেকে একটি প্রশংসা পত্র পাওয়ানা ছিল না?  হেডমাষ্টার কি ইচ্ছে করলে তাকে একটা প্রশংসা পত্র দিতে পারত না?

এসব বিষয় নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমাদের অষ্ঠম শ্রেণীতে কোন প্রশংসা পত্রের ব্যবস্থা নেই। ৯ম শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে ছাড়পত্র নিতে পারে।

এদিকে এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আলমগীর হোসেন জানান, পাবলিক পরিক্ষায় পাশ করার পর অন্য স্কুলে ভর্তি হতে গেলে ছাড়পত্রের কোন প্রয়োজন নেই। স্কুল তাকে প্রশংসাপত্র দিতে পারে।

news portal website developers eCommerce Website Design