অমর একুশে গ্রন্থমেলা’র আদ্যপান্ত

21 boimalaমোফরাদ হোসেন অলিন্দ: এই সময়ে “টেকসই উন্নয়ন” বা “Sustainable Development” একটি বহুল প্রচলিত শব্দ যা আমরা আবকাঠামো বা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া উন্নয়নের ক্ষেত্রে ব্যবহার করে থাকি। তবে প্রশ্ন হলো একটা জাতীর চিন্তা বা মননের টেকসই উন্নয়ন এর সূচক কি হবে?
এই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে গিয়েছেন আমাদের অগ্রজরা, ১৯৫২ তে। নিজের ভাষাই হতে পারে একটি জাতীর স্বকীয়, টেকসই চিন্তা ও মনন উন্নয়নের মাধ্যম এবং প্রশ্নের উর্দ্ধে থেকে অমর একুশে গ্রন্থমেলা সেই উন্নয়নের সূচকে নির্দেশ করে চলেছে সময়ের ধারাবাহিকতায়।

বিশাল এই ভাষা সংক্রান্ত কর্মযজ্ঞ আজকের রুপে এসেছে বহু চড়াই উতারাই পার করে। অমর একুশে গ্রন্থমেলার গোড়াপত্তন করেন শ্রী চিত্তরঞ্জন সাহা। ১৯৭২ এর ৮ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করা বাংলাদেশি সাহিত্যিকদের লেখা মাত্র বত্রিশ টি বই নিয়ে বাংলা একাডেমীর বর্ধমান হাউসের সামনের বটতলায় চটের ওপরে রেখে বিক্রি শুরু করেন। যেগুলি প্রকাশ করেছিল স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদ যেটি পরে মুক্তধারা প্রকাশনী হয়। উল্লেখ্য এটিও প্রতিষ্ঠা করেন শ্রী চিত্তরঞ্জন সাহা।

১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমি, মুক্তধারা প্রকাশনী, স্টান্ডার্ড পাবলিশার্স এবং আরও কিছু প্রকাশনা সংস্থা নিজ নিজ প্রকাশিত বই নিয়ে এই প্রাণের মেলার একটি কাঠামো প্রদান করতে সামর্থ্য হয়। ১৯৭৫ সালে বাংলা একাডেমি তাদের প্রঙ্গনে চুন দিয়ে দাগ কেটে নির্দিষ্ট স্থান ঠিক করে দেয় এবং সেখানেই চলত বই কেনা বেচা যা আজকের আলো ঝলমলে স্টল এর আদী রুপ। এভাবে চলেছে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত।

১৯৭৮ সালে বাংলা একাডেমির তৎকালিন মহা পরিচালক আশরাফ সিদ্দিকী বাংলা একাডেমিকে সম্পুর্ন রপে মেলার আয়জনে সম্পৃক্ত করেন এবং বাংলা একাডেমি এই মেলার নামকরণ কর একুশে গ্রন্থমেলা। ১৯৮৩-৮৪ সালে বাংলা একাডেমি ভাষা শহীদদের বাংলা ভাষার জন্য তাদের অসামান্য আত্মত্যাগের কথা বিবেচনায় রেখে পুনরায় এর নামকরণ করে ‍‌‌’অমর একুশে গ্রন্থমেলা’।
পরবর্তি সময়ে একুশে বই মেলাকে কেন্দ্র করে নানা ছোট-বড় এবং রক্তপাতের মত ঘটনা এ উৎসবকে কলঙ্কিত করলেও ২০১৪ সালে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’র স্টলের সংখ্যা বাড়িয়ে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ সোহরাওয়ার্দ্দী উদ্যানে এটিকে স্থানান্তরিত করে যাতে করে এটি আরো বৃহৎ রুপ ধারণ করেছে।

বাঙ্গালির এই বই উৎসব, বর্ণের উৎসব, চিন্তা এবং মনন উন্নয়নের উৎসব অমর হউক। অমর হউক ২১। বেঁচে থাকুক বাঙ্গালির প্রানের কথা, মা’এর ভাষায়।

news portal website developers eCommerce Website Design