ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার দ্বারা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার দ্বারা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে,দিরাই উপজেলা কমিটিতে প্রয়াত এমপি সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের প্রতিনিধি হিসেবে সামসুল হক মংলাকে সভাপতি,উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সদস্য-সচিব,কমান্ডার আতাউর রহমান,একেএম জুবায়ের,সোনা মিয়া,বিধুভূষন রায় ও জেলা কমান্ডের প্রতিনিধি বিনোদ রঞ্জন দাস তালুকদারকে সদস্য করে যাচাই বাছাই কমিটি গঠন করা হয়।

এ কমিটির সদস্য বিধুভূষন রায় তার গ্রামের ৫ জন মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অন্যদিকে প্রতিপক্ষরা বলছেন বিধুবাবু নিজেই অমুক্তিযোদ্ধা। এছাড়া সুনামগঞ্জে ইতিপূর্বে আগত মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হকের কাছে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধার উপস্থিতিতে প্রকাশ্য সভায় জেলা কমান্ডের প্রতিনিধি বিনোদ রঞ্জন তালুকদারকে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা বলে অভিহিত করেছেন ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের টেকেরঘাট সাবসেক্টরের কোম্পানী কমান্ডার জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট আলী আমজাদ। তিনি বলেন,বিনোদ রঞ্জন তালুকদার একজন প্রতারক,অর্থলোভী ও ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা।

তিনি স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর হঠাৎ করে অর্থের লোভে প্রতারণামূলকভাবে ২০১৪ সালে মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভূক্ত হইয়াছেন। তাকে যাচাই-বাছাই কমিটিতে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি একজন ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা বলে প্রমাণিত হবে। ৪৪ বছর আগে তিনি কোনদিন নিজেকে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রকাশ করেন নাই।

মুক্তিযোদ্ধা তালিকা হতে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার নাম বাতিলের জন্য এডভোকেট আলী আমজাদ মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রীর পাশাপাশি জেলা প্রশাসক ও দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও অভিযোগের অনুলিপি প্রেরন করেছেন। উক্ত যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য উপজেলা কমান্ডার আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা বানানো,এমনকি মুক্তিযোদ্ধার ভূয়া উত্তরাধিকার সনদ প্রদানসহ ঘুষ দুর্নীতির অনেক অভিযোগ রয়েছে। জানতে চাইলে বিনোদ রঞ্জন তালুকদার বলেন,১৯৭১ সালে আমি সুনামগঞ্জ বুলচান্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলাম।

৭২ সালে এসএসসি পাশ করেছি। মুক্তিযুদ্ধের সময় ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে বিএলএফ মজিব বাহিনীর সাথে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেই। ইউসুফ আল আজাদ,সুনীল সমাজপতি,নুরুল ইসলাম ও আব্দুর রশীদসহ মুজিব বাহিনীর আমার সহযোদ্ধারাই প্রমান করবেন আমি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। আমার বিরুদ্ধে আলী আমজাদ বড় ভাইয়ের অভিযোগটি আসলেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও দু:খজনক। দিরাই উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন,অনলাইনে প্রায় ১০০টি আবেদন পড়েছে।

আমরা এখনও যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।  দিরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুজ্জামান পাভেল এর বক্তব্য জানতে চেয়ে তার মুঠোফোনে কল করলে,তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সাধারন মুক্তিযোদ্ধারা বলেন,যে কমিটির ৭জনের মধ্যে ২জনই বিতর্কিত সেই কমিটি দিয়ে কখনও সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম হতে পারেনা। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি কোনদিকে মোড় নেয় সেদিকে দৃষ্টি এখন সকলের।

news portal website developers eCommerce Website Design