শিবগঞ্জে অপারেশন ‘ঈগল হান্ট’, মুহুর্মুহু গুলির শব্দ

ওয়ান নিউজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুরে শিবনগর গ্রামের ‘জঙ্গি আস্তানায়’ দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান চলছে। শুনা যাচ্ছে মুহুর্মুহু গুলির শব্দ। এছাড়া গ্রেনেড বিস্ফোরণের একটি বিকট আওয়াজও শুনা গেছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় দ্বিতীয় বারের মতো এ অভিযান শুরু হয়।

এর আগে বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ঢাকা থেকে সোয়াত টিম শিবগঞ্জ আসার পর আস্তানাটির দেয়াল ভেঙে অভিযান শুরু করে আইনশৃংখলা বাহিনী। সে সময় এর নাম দেয়া হয় অপারেশন ‘ঈগল হান্ট’।

এরপর রাত সাড়ে ৮টায় ওই দিনের জন্য অপারেশন ‘ঈগল হান্ট’ স্থগিত ঘোষণা করেন জেলা পুলিশ সুপার মুজাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, কাল (বৃহস্পতিবার) অভিযান ফের শুরু হবে।

সে অনুযায়ী আজ ভোর ৬টা থেকে বাড়িটি ঘিরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। অপারেশনের অংশ হিসেবে আনা হয় মহিলা পুলিশের একটি টিম।

বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঢাকা থেকে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছেন বোমা নিষ্ক্রিয় দল ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা।

এদিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় তিনশ’ গজ দূরে সাংবাদিকদের একটি স্থানে অবস্থানের নির্দেশ দেয় আইনশৃংখলা বাহিনী।

গণমাধ্যমকর্মীদের অবস্থান থেকে শুধু মুহুর্মুহু গুলির শব্দ শুনা যাচ্ছে। বেলা ১১টার পর বিকট আওয়াজে একটি গ্রেনেড বিস্ফোরণের শব্দ শুনা গেছে।

এর আগে বুধবার ভোর ৫টা থেকেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের শিবনগর গ্রামের বাড়িটি জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে ফেলেন কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা।

ওই বাড়িটি স্থানীয় জেন্টু হাজির। তিনি পাশের আরেকটি বাড়িতে পরিবার নিয়ে থাকেন। দু’মাস আগে একই গ্রামের মশলা ব্যবসায়ী আবু (৩০) তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ওই বাড়িতে ভাড়া উঠেন।

আইনশৃংখলা বাহিনীর ধারণা, বাড়িটিতে আবুর পরিবার ছাড়াও আরো বেশ কয়েকজন থাকতে পারেন।

পুলিশ সুপার মুজাহিদুল ইসলাম জানান, বুধবার সন্ধ্যায় অভিযান ‘ঈগল হান্ট’ শুরুর আগে আবুকে আত্মসমর্পণের জন্য তার মা ও পরিবারের সদস্যদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, বিকালে আবুর চাচি চামেলি বেগম, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রুনা বেগমকে নিয়ে তার মা ওই বাড়ির দরজার সামনে পর্যন্ত যান। এ সময় মাইকে তারা আবুকে বাড়ির বাইরে বের হয়ে আসার আহ্বান জানান। বেশ কয়েকবার আহ্বান জানানোর পরও ভেতর থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। এসময় তাদের সঙ্গে পুলিশ ছিল।

এদিকে জঙ্গি আস্তানা ঘিরে বুধবার সকাল ১১টা থেকে জারি করা ১৪৪ ধারা বলবৎ রয়েছে। আশপাশের এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।