ভারত থেকে আসছে জঙ্গিদের বিস্ফোরক

ওয়ান নিউজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের দুইদিনের জঙ্গিবিরোধী অভিযানে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের মধ্যে ছিল সাড়ে ৫২ কেজি এক্সপ্লোসিভ পাওয়ার জেল, ৪২০টি টিউবের প্রতিটিতে ১২৫ এমএল করে এই  বিস্ফোরকের গায়ে লেখা ছিল Explosive power Gel (Indian Explosive Pvt. Ltd)।  সীমান্ত পেরিয়ে আসছে বিস্ফোরকের যোগান। অন্যদিকে বিভিন্ন ছদ্মবেশে জঙ্গিরা তাদের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এমন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।

দুইদিনের জঙ্গিবিরোধী অভিযানের বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম শুক্রবার বিকেলে তার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রেস বিফিং করেন। দুইদিনের অভিযানে সাড়ে ৫২ কেজি পাওয়া জেল ছাড়াও উদ্ধার করা হয়, সাড়ে ৪ কেজি গান পাউডার ও ২২টি জিহাদি বই।

প্রেস বিফিং এ জানানো হয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ জঙ্গিবিরোধী সচেতনা সৃষ্টির লক্ষে লিফলেট বিতরণ ও ভাড়াটিয়া তথ্য সংগ্রহের সময় জঙ্গিদের সম্ভাব্য অবস্থানে অভিযান শুরু করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম জানান, প্রথমে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে গুঠইল গ্রামের তাইফুর রহমানের ছেলে, হারুন অর রশিদের(২৫) বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। ছিট কাপড়ের ব্যবসার আড়লে জেএমবির দাওয়াতের কাজ করত সে। এরপর তার তথ্যের ভিত্তিতে তার সহযোগী মোস্তাফার ছেলে কামাল উদ্দীনকে গ্রেফতার করা হয়। সেও ছিট কাপড়ের ব্যবসা করে। এছাড়াও নাচোল উপজেলার বেড়াচকি গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে নাসিম রেজা(২০) ও শ্রীরামপুর গ্রামের কেতাবুল ইসলামের ছেলে ফিরোজ (২২)। নাচোলের অভিযানে সাড়ে কেজি গান পাউডার ও ২২টি জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম আরো জানান, নাচোলে গ্রেফতার হওয়া চারজনের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ গোদাগাড়ির জঙ্গি আস্তানার সন্ধান মেলা। পরে সেখানে গিয়ে অবস্থান নেওয়ার পর আমরা রাজশাহী পুলিশের কাছে হস্তান্তর করি। আমাদের কাছে আরো তথ্য ছিল, এরপর আমরা চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শিবনগর কাইঠা পাড়া গ্রামের এসলামের বাড়িতে অভিযান চালায়, সেখান থেকে একটি মাটিতে পুঁতে রাখা একটি ড্রামের ভেতর থেকে ৪২০টি টিউবে ভরা সাড়ে ৫২ কেজি এক্সপ্লোসিভ পাওয়ার জেল উদ্ধার করা হয়। এ সময় বাবুকে আটক করা হয়। বাবু অটো চালানার পাশাপাশি জঙ্গি তৎপরতার সাথে জড়িত বলে জানান পুলিশ সুপার।

তিনি আরো জানান, বাবুর ভাই জুয়েলের বাড়িতেও বৃহস্পতিবার আমরা অভিযান চালাই। তবে তারা আগেই বাড়ি থেকে সবকিছু সরিয়ে ফেলে। বুহস্পতিবার সকালে খোঁড়াখুঁড়ি করেও আমরা কিছু পায়নি। এছাড়াও বুধবার রাতেই অভিযানে গ্রেফতার করা হয় শিবগঞ্জের রাবঘপুর গ্রামের নেশ মোহাম্মদের ছেলে আজিজুলকে (৩৮)।

পুলিশ সুপার বলেন, অভিযানের ধারাবাহিকতায় আমরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দূর্গম চর দেবীনগরে য়ায়। ফাটাপাড়া গ্রামে আব্দুল হাকিমের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করি। কিন্তু দিনের আলো ফুটে যাওয়ার কারণেই তার ভাই খাইরুলকে গ্রেফতার করতে পারেনি আমরা। খাইরুল সম্পর্কে পুলিশ সুপার বলেন, জঙ্গি দলের গ্রেনেড সরবরাহকারী ছিল খাইরুল।

পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম বলেন গ্রেফতার হওয়া সাতজনই জেএমবির মধ্যম পর্যায়ের। গ্রেফতার হওয়াদের সম্পর্কে আরো তথ্য অনুসন্ধান চলছে, সেই সাথে পলাতক থাকা অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলবে বলে জানান পুলিশ সুপার।