কৃষিমন্ত্রীসহ ছয়জনকে শোকজের সিদ্ধান্ত

aওয়ান নিউজ, শেরপুর : শেরপুরে জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী পরিষদের পর পর ৪ সভায় অনুপস্থিত থাকায় শোকজ নোটিশ পাচ্ছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী ও সংসদ সদস্য প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক চাঁনসহ দলের ৬ নেতা।

শনিবার রাতে শহরের চকবাজারস্থ দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী পরিষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় উপস্থিত দলীয় নেতৃবৃন্দ সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

শোকজ নোটিশ পাচ্ছেন অন্য নেতারা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামছুন্নাহার কামাল, নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউল হক মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক ও নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ।

তবে ওই সভায় এবারই প্রথম হাজির হয়ে শোকজের আওতা থেকে নিজেদের রক্ষা করেছেন জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে বিজয়ী, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর রুমান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ছানুয়ার হোসেন ছানু।

সভা সূত্রে জানা যায়, আগামী জাতীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দলের বাইরে ভিন্ন অবস্থান গড়ে তোলা থেকে বিরত হয়ে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে তথা দলের পক্ষে এক প্লাটফর্মে দৃঢ় অবস্থান নিশ্চিতকরণসহ মূল দলকে পাশ কাটিয়ে সহযোগী সংগঠনের কমিটির অনুমোদন দেয়া থেকে বিরত থাকতে কেন্দ্রের প্রতি অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত হয়।

এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অধ্যক্ষ গোলাম হাসান খান সুজনের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। ৭১ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাহী পরিষদের ওই সভায় ৬১ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুইপ আতিউর রহমান আতিকের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল পিপি, জাতীয় পরিষদ সদস্য মো. খোরশেদুজ্জামান, সিনিয়র সদস্য কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রুমান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ছানুয়ার হোসেন ছানু, পৌর মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন, বশিরুল ইসলাম শেলু, অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম আধার, রফিকুল ইসলাম চেয়ারম্যান, প্রকাশ দত্ত, মোতাহারুল ইসলাম লিটন, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, এডিএম শহীদুল ইসলাম প্রমুখ।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় ৬ নেতাকে শোকজের সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ ব্যাপারে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক চাঁন বলেন, আমি শোকজ নোটিশের কথা শুনিনি। তবে জেলা আওয়ামী লীগের সভার কথা জানি।

তিনি জানান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুইপ ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল আমরা এমপি থাকা সত্ত্বেও কমিটিতে এলাকার প্রতিনিধি মনোনয়নের ক্ষেত্রে কোনোরকম আলাপ-আলোচনা করেননি। তারা কার্যনির্বাহী কমিটিতে তাদের মনগড়া নেতার নাম দিয়েছেন। এ জন্য জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি পুনর্গঠনের জন্য সভানেত্রী বরাবরে আবেদন করেছি। সেই আবেদনের বিষয়ে আজ অবধি আমাদেরকে কিছু জানানো হয়নি। যে কারণে ব্যক্তিগতভাবে আমি এই কমিটির কোনো সভায় হাজির হইনি।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৯ মে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন এবং পরের বছর ১১ অক্টোবর নির্বাহী পরিষদের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়।

news portal website developers eCommerce Website Design