ঈদের আমেজ নেই রাঙ্গামাটিতে

ওয়ান নিউজ, রাঙামাটি : জেলা সদর উপজেলার রূপনগরের বাসিন্দা আনোয়ারা বেগম। আশা ছিলো, ছয়মাস আগে কোলজুড়ে আসা সন্তানের খুশিতে, এবার পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঈদের আনন্দ উদযাপন করবেন। কিন্তু গত দশদিন ধরে শিশু সন্তানকে নিয়ে দিন কাটছে আশ্রয় কেন্দ্রে।

ঈদ উদযাপন দূরে থাক, প্রথম সন্তানের জন্য এখনো কেনা হয়নি কিছুই। ভয়াবহ পাহাড় ধসে সব হারিয়ে এখন দিন কাটছে চরম অনিশ্চয়তায়। শুধু আনোয়ারা বেগম নয়; রাঙ্গামাটির পাহাড়ে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষের গল্প একই।

ঈদের কোন আমেজ নেই পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি সাত শতাধিক পরিবারে। ভয়াবহ পাহাড় ধসে বসতভিটা ও স্বজনহারা মানুষের সামনে শুধু দুশ্চিন্তা আর হতাশা। আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে বাড়ি ফেরার ইচ্ছা থাকলেও, সম্ভব না হওয়ায় কাটছেনা অনিশ্চয়তা। অর্থ সঙ্কটে সন্তানদের জন্যও কেনা হয়নি নতুন কাপড়। তবে, আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানরতদের জন্য ঈদে নতুন কাপড় বিতরণের পাশাপাশি বিশেষ খাবার সরবরাহের কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

রোজার শুরুতে ঈদ নিয়ে যাদের ছিলো নানা পরিকল্পনা, এখন তাদের ভাবনায় বসতভিটায় ফেরা। সময় ঘনিয়ে এলেও, নিঃস্ব এসব মানুষের কাছে ঈদের আনন্দ মানে শুধুই দুশ্চিন্তা। প্রতিটি শিশুর কাছে ঈদ মানে অন্য রকম আনন্দ। প্রতিবছর এই সময় নতুন জামাকাপড় কেনা নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও এবার ভিন্ন চিত্র। রাঙ্গামাটির আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা শিশুদের মুখগুলো এখন মলিন।

তবে আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা মানুষগুলোর ঈদ উদযাপনে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রবল বর্ষণের গত ১৩ই জুন ভয়াবহ পাহাড় ধসে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়িসহ ৫ জেলায় নিহত হয়েছে ১শ ৭০ জন। এর মধ্যে শুধু রাঙ্গামাটিতে প্রাণ হারায় ১২০ জন। আর বসত বাড়ি হারিয়েছে ৫ হাজারের বেশি মানুষ। এদের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার মানুষ ১৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাঁই পেলেও বাকিরা রয়েছেন আত্মীয়-স্বজনদের বাসাবাড়িতে।

news portal website developers eCommerce Website Design
Close ads[X]