কে এই তুফান সরকার?

tufan baguraবগুড়া: বগুড়ায় এক ভয়ঙ্কর নাম তুফান সরকার। বাড়ি থেকে ক্যাডার দিয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন বগুড়ার শহর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক তুফান সরকার। বগুড়ার এই প্রভাবশালী নেতা শুধু ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হননি, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে দলীয় ক্যাডার ও এক নারী কাউন্সিলরকে ধর্ষণের শিকার মেয়েটির পেছনে লেলিয়ে দেন। শুক্রবার বিকেলে তাঁরা কিশোরী ও তার মাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে চার ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চালান। এরপর দুজনেরই মাথা ন্যাড়া করে দেন।

তুফান সরকারের বড় ভাই বগুড়া শহর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন সরকার। তুফানের উত্থানও নাটকীয়। বগুড়ায় জুয়ার আসর দিয়ে তার অবৈধ আয়ের যাত্রা শুরু। এরপর মাদক ব্যবসা। দীর্ঘদিন ধরে তুফান বগুড়ার মাদক রাজ্যের নিয়ন্ত্রক। বড় ভাইয়ের সুবাদে সেও এক সময় রাজনীতিতে আসে। পর্যায়ক্রমে শহর শ্রমিক লীগের সভাপতি হয়। এরপর থেকে শুরু হয় ব্যাটারিচালিত রিকশার লাইসেন্স ব্যবসা। রাস্তায় ব্যাটারিচালিত এই সব রিকশা নামানোর আগে তাকে ফি দিতে হয় ২৫০০ টাকা। বগুড়া শহরে বর্তমান ২০ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা চলছে। প্রত্যেক রিকশা থেকে ২৫০০ টাকা চাঁদা নিলে মোট টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ কোটি টাকা। শুধু তাই নয়, প্রতিদিন এসব রিকশা থেকে ৩০ টাকা করে চাঁদা তোলা হয়। প্রকাশ্যে এসব চাঁদা আদায় করলেও তার বিরুদ্ধে কেউ কোনো কথা বলেনি।

আলোচিত এই ধর্ষণ ঘটনার বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত বের করতে বগুড়া জেলা প্রশাসক নূরে আলম সিদ্দিকী তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যেই গঠন করেছেন। এতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুস সামাদকে প্রধান করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক জানান, ওই কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকারকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তুফানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আওয়ামী লীগের নির্দেশের পর শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি এই সিদ্ধান্ত নেয়। রোববার ধানমন্ডি আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বগুড়া ধর্ষণ নিয়ে কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বগুড়ায় একটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। আমাদের সহযোগী সংগঠন শ্রমিক লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ নিয়ে আমাদের মধ্যে কথা হয়েছে। এটা আমাদের সহযোগী সংগঠন, তাই আমরা সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারি না। তবে সংশ্লিষ্টদের এ ব্যাপারে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে আমরা নির্দেশ দিয়েছি। আওয়ামী লীগের এই নির্দেশের পর তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে শ্রমিক লীগ থেকে তুফান সরকারকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি। শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ বলেন, আমরা তুফানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছি। এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে।

বগুড়া জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি শামছুদ্দিন শেখ হেলালও তুফানকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এসময় তিনি জানান, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেলা ২টার দিকে জরুরি সভায় বসা হয়। সভা থেকে অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে শহর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক তুফান সরকারকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সে অনুযায়ী তাকে দল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ধর্ষিতার পিতা গ্রামীণ বাজারে সামান্য ব্যবসা করেন। আর মা ঢাকায় পোশাক কারখানার শ্রমিক ছিলেন। এতদিন মেয়েটি নানিবাড়ি থেকে পড়াশোনা করতো। কিছুদিন আগে মা বগুড়ায় ফিরে গেলে সে তার মা-বাবার সঙ্গে থাকতে শুরু করে।

বগুড়া জেলা প্রশাসক নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, মা এবং ওই মেয়ের চিকিৎসার ব্যয়ভার জেলা প্রশাসন বহন করবে। সেই সঙ্গে তাকে আইনগত যাবতীয় সহযোগিতা তার পক্ষ থেকে করা হবে বলেও তিনি জানান।

news portal website developers eCommerce Website Design