জেলখানাতেও রাজার হালে তুফান

tufan rumki

tufan rumkiবগুড়া: আদালতের নির্দেশনার বগুড়ার সেই ধর্ষিতা তরুণী ও তার মাকে পাঠানো হয়েছে রাজশাহীতে। সেখানে ‘‘ ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে থাকবে মা’ মুন্নী বেগম আর মেয়ে সোনালী আকতার থাকবে ‘‘সেফ হোম।’’ এই তথ্য নিশ্চিত করে বগুড়ার শিশু আদালতের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট মোঃ আমানুল্লাহ জানিয়েছেন, ওই দু’জনের নিরাপদ বসবাসের জন্যই আদালত এই নির্দেশনা দিয়েছেন। এদিকে তরুণী ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার শ্রমিকলীগের বহিষ্কৃত শহর কমিটির আহ্বায়ক তুফান সরকারের কারাবাস রাজকীয় ভাবেই চলছে বলে জানা গেছে। ম্যাট ও তাদের সহযোগীরা তুফানের সহযোগীরা নগদ লাভের গন্ধে শুরু থেকেই তুফানের সেবা যত্নে কোন ত্রুটি রাখছেনা বলে একটি সূত্রে খবর মিলেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তুফানের মতো পয়সাওয়ালা কারাবন্দীদের কোন অসুবিধা হয়না, কারণ গুরুতর অপরাধে যেসব কয়েদীর দীর্ঘ সাজা হয়, সেসব কয়েদীকে কারাকর্তৃপক্ষ শৃংখলা রক্ষার সাথে তাদের ম্যাট পদে নিয়োজিত করে। আর ম্যাটেরা বন্দীদের সার্বিকভাবে দেখাশোনার নামে নগদ সুবিধার বিনিময়ে নিজেদের পছন্দের অন্যান্য কয়েদী বা হাজতীদের দিয়ে বিশেশ বিশেষ বন্দীদের দিয়ে কারা অভ্যন্তরেই নানা ধরনের বৈধ বা অবৈধ সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকে। তুফান ও তার পরিবারের অর্থের অভাব না থাকায় কারাগারেও সে রাজার হালেই আছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকালে বগুড়ার কারা সুপার মোকাম্মেল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আদালতের নির্দেশে তুফান যেদিন কারাগারে আসে সেদিনই তার নামে পিসিতে ( প্রিজনস ক্যাশ ) ২০ হাজার টাকা জমা হয়েছে। মঙ্গলবারও কেউ একজন ১০ হাজার টাকা পাঠিয়েছে। এই ধরনের ক্যাশ ডিপোজিট কারাবিধিতে বৈধ। কারাগারের ভিতরে এই পিসি থেকে অর্থ উঠিয়ে ক্যান্টিনে খাওয়া দাওয়া করা যায়। খাওয়া দাওয়া ছাড়াও আরও কিছু সুনির্দিষ্ট খরচ করা যায়।

আজ থেকে তুফান ইস্যু ডেড। সবকিছু চলবে আগের মতই …..
গত রোববার বগুড়ার অতিরিক্তি চীফ জুডিশিয়াল আদালতে তুফানকে ৪র্থ বারের মত পুলিশের রিমান্ড বাতিল করলে তুফান গংরা উল্লসিত হয়ে উঠে। গত সোমবার বগুড়ার শিশু আদালতের বিচারক ধর্ষিতা তরুণী ও তার মাকে রাজশাহীর সেফহোম ও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানোর আদেশ দিলেও একই গং খুশি হয়। গতকাল যখন ওই তরুণী এবং তার মাকে রাজশাহীতে পাঠানো হয় তখন তারা বলে, ‘‘ আজ থেকে তুফান ইস্যু ডেড। সবকিছু চলবে আগের মতই …। অর্থাৎ অটোরিক্সা, সবুজ সিএনজিতে আবার চাঁদাবাজী শুরু হবে। চলবে দখল আর মাদক ব্যবসা। তাদের ধারণা এখন থেকে তুফান ইস্যু ডেড হয়ে গেছে, অতএব সাংবাদিকরা আর কিছু লিখবেনা, কারণ লেখালেখির আর কিছুতো নেই। তুফান সরকারের সুবিধা ভোগিরাও বিভিন্ন ভাবে খোঁজ নিচ্ছে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার ঢাকা থেকে আগত প্রতিনিধিরা ঢাকায় ফিরে গেছে কিনা ?

জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গ:
গতকাল এই চাঞ্চল্যকর মামলাটির আইও বগুড়া সদর থানার ওসি ( অপারেশন ) আবুল কালাম আজাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, যেসব আসামী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি দেয়নি, আদালতের নির্দেশিকা মোতাবেক তাদেরকে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে কি না ? জবাবে আইও বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে ৪টার দিকে জেল গেটে রুমকি তুফানকে কিছু সময় জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। কাল বুধবার আবার যাব, কথা বলবো বেশি সময় নিয়ে।

news portal website developers eCommerce Website Design
Close ads[X]