নড়াইলে আলোচিত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটি নিয়ে নানা সংশয়

narail map

নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইল সদর উপজেলার ডুমুরতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আলোচিত প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটি নিয়ে নানা সংশয় প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তদন্ত কমিটিতে থাকা শিক্ষা কর্মকর্তারা ধুরন্ধর ওই শিক্ষকের পক্ষের লোক। ফলে বস্তুনিষ্ট তদন্তু নিয়ে নানা প্রশ্নে সৃষ্টি হয়েছে ওই শিক্ষকের বিচার চাওয়া ভুক্তভোগীদের মধ্যে। তারা বিষয়টি সঠিক তদন্তের জন্য শিক্ষা বিভাগের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংশ্লিষ্ঠ সুত্রে জানা গেছে, নড়াইল সদর ডুমুরতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। তিনি কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেন না। জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা এই জাকির হোসেনের কারণে ধ্বংস হতে বসেছে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া। ফলে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা। গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেনের নানা অনিয়মের ফিরিস্তি তুলে ধরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এর পর আলোচিত প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে জেলা শিক্ষা অফিস থেকে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। কেননা তদন্ত কমিটিতে ওই প্রধান শিক্ষকের পক্ষের লোক বেশি রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও জাকির হোসেনের পকেটের লোক। ফলে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ তদন্ত নিয়ে নানা প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা যায়, নড়াইল সদর ডুমুরতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নড়াইল সদর ডুমুরতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেনের বিদ্যালয়ে জাতীয় সংগীতের অনুষ্ঠান করতেন না। বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের চাপে পড়ে দায়সারাভাবে জাতীয় সংগীত অনুষ্ঠান পালন করেন। কিন্তু যথাযথ নিয়মে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন না। বিদ্যালয়ের সামনের গর্ত ভরাট করার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ৩ বার পৃথকভাবে অনুদান দিলেও কোন কাজ না করে তিনি অনুদানের পুরোটাই হজম করে ফেলেছেন।

সরকার ঘোষিত নিয়ম উপেক্ষা করে বাড়িতে একটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করেন প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন। সেখানে শতাধিক শিক্ষার্থৗকে সেখানে পড়ানো হয়। কোচিংয়ের ক্লাসে তিনি আন্তরিকভাবে পড়ালেও ক্লাসের পাঠ্যদানে তিনি অমনোযোগী। কোচিং অংশ না নিলে শিক্ষার্থদের সাথে দু:ব্যবহার করেন। ফলে গত তিন বছর যাবত ডুমুরতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম থেকে ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফল হতাশাজনক।

বিগত ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে সময় জাকির হোসেন সরাসরি একটি পক্ষের লোকদের সাথে হাত মেলান। কিন্তু তার প্রতিপক্ষ বিজয়ী হওয়ায় তিনি ম্যানেজিং কমিটির নেতৃবৃন্দকে মুল্যায়ন করেন না। প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন জামায়াতের উচ্চ পর্যায়ের একজন রোকন সদস্য। তিনি বর্তমানে নড়াইল জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীরের দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এজন্য জাতীয় সংগীত ও শহীদ মিনারের প্রতি তার অনীহা রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

সুত্রগুলো জানিয়েছে, প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন বিদ্যালয়ের স্লিপ কমিটির প্রাপ্ত বার্ষিক চল্লিশ হাজার টাকা দ্বারা কোন দর্শনীয় কাজ করেন নাই। অন্যান্য ফান্ড থেকে প্রাপ্ত অর্থের কোন হিসাব নেই। ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে সব অর্থ খরচ দেখান বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটির একজন সদস্য জানান, ‘প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেন না। শিক্ষা অফিসের উদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায় থাকার সুবাদে তিনি নানা অনিয়ম করেও তিনি পার পেয়ে যাচ্ছেন। ফলে উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষ দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার মারাত্বক ক্ষতি হবে।’

অভিযোগের ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ডুমুরতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়গুলো সঠিক নয়, একটি পক্ষ তাকে ফাঁসাতে নানা ষড়যন্ত্র করছে।’
নড়াইল সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, ‘তিনি শুনেছেন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে,তবে কোন কাগজপত্র এখনো হাতে পাননি।’

অভিযোগের ব্যাপারে নড়াইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো.শাহ্ আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি ওই প্রধান শিক্ষকের পক্ষ অবলম্বন করে বলেন, ‘এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, এর থেকে বেশি কিছু বলা যাবে না।’ কারা আছে সে তদন্ত কমিটিতে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সেটা গোপনীয় বিষয়।’ এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘সদর উপজেলার তিন জন শিক্ষা কর্মকর্তাকে ওই কমিটিতে রাখা হয়েছে। এই মুহূর্তে তাদের নাম মনে পড়ছে না।’

news portal website developers eCommerce Website Design
Close ads[X]