গ্রেফতার এড়াতে আত্মসমর্পণ না করেই ফিরে গেলেন লতিফ সিদ্দিকী

abdul lotif

abdul lotifবগুড়া: বগুড়ায় ব্যক্তিস্বার্থে আর্থিকভাবে লাভবান হতে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সরকারের ৪০ লক্ষাধিক টাকার আর্থিক ক্ষতি করায় দুদকের মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করতে এসেও ফিরে গেলেন সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।

গ্রেফতার এড়াতে সোমবার আদালতে এলেও আত্মসমর্পণ না করেই ফিরে যান তিনি।

দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম গত ১৭ অক্টোবর আদমদীঘি থানায় লতিফ সিদ্দিকী ও জাহানারা রশিদ নামে এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।

দুদকের পিপি এসএম আবুল কালাম আজাদ এবং জিআরও মাহবুবুর রহমান জানান, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী আদালতে আত্মসমর্পণ করতে সোমবার বগুড়ায় আসেন। তার আইনজীবীরা এ ব্যাপারে প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন।

তারা জানান, এ মামলায় তার জামিন লাভের সম্ভবনা কম ছিল। হাজির হলে তাকে জেলে যেতে হতো। আর উচ্চ আদালত ব্যতিরেকে নিম্ন আদালত তাকে জামিন দিলে এটি নজীর সৃষ্টি হতো। বিষয়টি আঁচ করতে পেরেই তিনি (লতিফ সিদ্দিকী) আত্মসমর্পণ না করেই ফিরে গেছেন।

এ প্রসঙ্গে বগুড়ার সাবেক পিপি রেজাউল করিম মন্টু জানান, সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী দুদকের মামলার ব্যাপারে তার সঙ্গে পরামর্শ করতে এসেছিলেন। আলোচনা শেষে ফিরে গেছেন।

তিনি আত্মসমর্পণ করলে তার জামিনের সম্ভবনা কম ছিল কী না এমন প্রশ্নের উত্তরে রেজাউল করিম মন্টু বলেন, জামিন দেয়া না দেয়া আদালতের এখতিয়ার।

মামলা সূত্র ও স্থানীয়রা জানান, বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার রানীনগর বাজারে ২ একর ৩৮ শতকের জমিতে বাংলাদেশ জুট করপোরেশনের পাট ক্রয় কেন্দ্র ছিল। বগুড়া শহরের কালিতলা এলাকার মৃত হারুন-অর-রশিদের স্ত্রী জাহানারা রশিদ গত ২০১০ সালের ১৩ মে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় থেকে জমিটি তিন বছরের জন্য লিজ নেন। প্রতি বছর লিজ মানি ধার্য ছিল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

জাহানারা রশিদ এক বছর লিজ মানি পরিশোধ না করেই ওই জমি কেনার জন্য ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। সরকারি জমি স্থায়ীভাবে বরাদ্দ দিতে বা বিক্রি করতে উন্মুক্ত দরপত্র আহবানের নিয়ম থাকলেও সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী তা করেননি।

তিনি তার পরিচিত জাহানারা রশিদের কাছে দরপত্র ছাড়াই বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। লতিফ সিদ্দিকী একক সিদ্ধান্তে ৬৪ লাখ ৬৩ হাজার ৭৯৫ টাকা মূল্যের জমিটি মাত্র ২৩ লাখ ৯৪ হাজার ৭৭৪ টাকায় বিক্রি করেন। এতে সরকারের ৪০ লাখ ৬৯ হাজার ২১ টাকা ১১ পয়সা আর্থিক ক্ষতি হয়।

এ ঘটনায় সংক্ষুব্ধ হয়ে নওগাঁর রানীনগর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হেলাল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজ উদ্দিন ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইসমাইল হোসেন হাইকোর্টে রিট করেন। পরে জাহানারা রশিদ সুপ্রিমকোর্টে রিট করলে তার আবেদন খারিজ হয়ে যায়।

দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০১৪ সাল থেকে তদন্ত শুরু করেন। সর্বশেষ গত ১৭ অক্টোবর দুদকের সহকারী পরিচালক আদমদীঘি থানায় লতিফ সিদ্দিকী ও জাহানারা রশিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

news portal website developers eCommerce Website Design