কে হচ্ছেন রংপুরের মেয়র

ডেস্ক রিপোর্ট: রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) নির্বাচন সামনে রেখে সরগরম হয়ে উঠেছে সিটি এলাকা। সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা পাড়া-মহল্লায় মতবিনিময় করছেন। ভোটারদের ঘরে ঘরে যাচ্ছেন তারা।

রসিকের এবারের নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে বলে মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলের হাইকমান্ডের কাছে দৌড়াদৌড়ি করছেন। তারা নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। তারা নিজেদের যোগ্য প্রার্থী বলে দাবি করলেও তাকিয়ে আছেন কেন্দ্রের দিকে। এখন পর্যন্ত মেয়র পদে ২০ জন প্রার্থী প্রচারণা চালাচ্ছেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আপন ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ স্বতন্ত্র প্রার্থিতা ঘোষণা দেওয়ায় অস্বস্তিকর অবস্থায় আছেন তিনি। বর্তমান মেয়র সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু আওয়ামী লীগের সবুজ সংকেত পাওয়ার কথা দাবি করলেও তা বিশ্বাস করছেন না মনোনয়ন প্রত্যাশী অপর আট নেতা। একইভাবে বিএনপির সম্ভাব্য ছয় নেতার মধ্যে কে পাবেন ধানের শীষ তা নিয়ে চলছে আলাপ-আলোচনা। তবে তিন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মনোনয়ন আদায়ে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেন জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু।
তিনি বলেন, গত বুধবার রাতে দলের হাইকমান্ড থেকে আমাকে ফোন করে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। হাইকমান্ডের নির্দেশ পেয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছি। দলের কেন্দ্রীয় এক সাংগঠনিক সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মেয়র পদে ঝন্টুকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। তফসিল ঘোষণার আগেই তাকে চিঠি দিয়ে মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।
তবে দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্যরা বলছেন, ঝন্টু বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। মনোনয়নের ব্যাপারে দল এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। মনোনয়ন প্রত্যাশী দলের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা চৌধুরী খালেকুজ্জামান শনিবার স্থানীয় একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, দল কাকে মনোনয়ন দেবে সে ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে মেয়র ঝন্টু মিথ্যাচার করছেন। দলের নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। মনোনয়ন আমিই পাব। নৌকা প্রতীক পাওয়ার জন্য আরও যারা দৌড়ঝাঁপ করছেন তারা হলেন, জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবুল কাশেম, আইন বিষয়ক সম্পাদক রথীশ চন্দ্র বাবু সোনা, সদস্য রাশেক রহমান, মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি সাফিউর রহমান সফি, সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল, প্রচার সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিলন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আতাউর জামান বাবু।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ সাত মাস আগে রংপুর মহানগর জাপার সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন। মনোনয়ন পেয়ে ফুরফুরে মেজাজে প্রচারণা চালাচ্ছেন মোস্তফা। গত নির্বাচনে ঝন্টুর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মোস্তফা ২৮ হাজার ৪৫০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন। তবে মোস্তফাকে প্রার্থী করায় বাঁধ সেধেছেন এরশাদের আপন ভাতিজা দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সাবেক এমপি হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ। তিনিও নিজেকে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তাকে পরোক্ষ সমর্থন দিয়েছেন স্থানীয় ও কেন্দ্রের একাধিক নেতা।
আসিফ বলেন, দলের মনোনয়ন চাইব, না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করব। এদিকে আসিফকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য স্থানীয় জাপার অধিকাংশ নেতা এরশাদকে চাপ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। শেষ পর্যন্ত কে হবেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী তা এরশাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
অপরদিকে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম আবদুর রউফ মানিকও মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মাঠে নেমেছেন। তবে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতেও তদবির চালাচ্ছেন।
আওয়ামী লীগ সমর্থক গোষ্ঠীর ব্যানারে প্রচারণাও শুরু করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুর রউফ মানিক বলেন, নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার চেষ্টা করছি। এখনো ফাইনাল হয়নি। আওয়ামী লীগের একটি অংশ আমাকে সমর্থন দিচ্ছে। তারাই আওয়ামী সমর্থক গোষ্ঠীর ব্যানারে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী কে হচ্ছেন এ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা থাকলেও দলের সবুজ সংকেত এখনো কেউ পাননি। প্রচারণায়ও তোড়জোড় নেই মনোনয়ন প্রত্যাশীদের। দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রইচ আহমেদ, মহানগর সভাপতি মোজাফফর হোসেন, সহসভাপতি কাওসার জামান বাবলা, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম ও জেলা যুবদল সভাপতি নাজমুল আলম নাজু। এদের মধ্যে গত নির্বাচনে কাওসার জামান বাবলা মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পঞ্চম স্থানে ছিলেন।

মনোনয়ন প্রত্যাশী রইচ আহমেদ বলেন, দলের জন্য অনেক হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। দলের কাছে মনোনয়ন চাইব। আশা করি দল মূল্যায়ন করবে।

তিন বড় দল ছাড়াও মেয়র পদে ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সদস্য কাজী মাজিরুল ইসলাম, জেলা বাসদের সমন্বয়ক আবদুল কুদ্দুসও প্রার্থী হতে পারেন। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী হিসেবে এ টি এম গোলাম মোস্তফা বাবু, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মজিদ বীরপ্রতীক ও ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান বনি প্রচারণা চালাচ্ছেন।
বৈঠকে বসছে ইসি: রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ বেলা ১১টায় এই নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে বসছে সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটি। বৈঠকে নির্বাচনের সার্বিক বিষয় উপস্থাপন করবে সচিবালয়।

জানা গেছে, আজ বেলা ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এ বৈঠক হবে। আলোচ্যসূচিতে বিগত সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি আলোচনার পর রাখা হয়েছে রংপুর সিটি নির্বাচনের বিষয়টি। এ ছাড়া সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র স্থাপনের নীতিমালা এবং ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত নির্দেশাবলি হালনাগাদ বিষয়েও সভায় আলোচনা হবে। একই সঙ্গে আরও চারটি বিষয় রাখা হয়েছে আলোচ্যসূচিতে।

ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছে, নভেম্বর মাসের মাঝামাঝিতে তফসিল ঘোষণা করে ডিসেম্বরের শেষ দিকে রংপুর সিটিতে ভোটের মাধ্যমে ছয় সিটির ভোট শুরু করতে চায় ইসি। এ ক্ষেত্রে ডিসেম্বরের ২১ বা ২৮ তারিখে ভোটের প্রাথমিক তারিখ রাখা হচ্ছে। তবে তফসিলের ওপর নির্ভর করছে ভোটের তারিখ। যে তারিখেই ভোট হোক, ৪০-৪৫ দিন হাতে রেখেই তফসিল ঘোষণা করবে ইসি।

এ ছাড়া রংপুরের ভোটের দিন একই সঙ্গে ১২ পৌরসভা এবং ৩৪ ইউনিয়ন পরিষদের ভোট করার চিন্তা চলছে। এ ছাড়া রংপুর সিটিতে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি ওয়ার্ডে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন।

news portal website developers eCommerce Website Design
Close ads[X]