পাতার চেয়ে পাখি বেশী

birds

চঞ্চল বাবু, কালাই (জয়পুরহাট): দিনে যে গাছটি পাতায় ভরা, সন্ধা নামলে সেখানে লাখো পাখির কলকাকলি। সেই পাইকর গাছটি যেন পাখিদের একমাত্র অভয়ারণ্য। শুধু পাইকর গাছই নয়, আশেপাশে ছোট-বড় মেহগনি ও কড়ই গাছেও লাখো পাখির বসবাস। পাখির কিচিরমিচির শব্দে সবার মনকে নিয়ে যায় অজানা এক জগতে।

সরেজমিনে কালাই উপজেলার সদর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার উত্তরে বৈরাগীহাট নামক স্থানে পাখি পাড়াতে গিয়ে দেখা গেছে, বেসরকারী একটি প্রতিষ্ঠান সাউথপোল কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড অফিস কক্ষের সামনে মাঝারি বয়সের একটি পাইকর গাছসহ বেশ কয়েকটি ছোট-বড় কড়ই ও মেহগনি গাছ রয়েছে। সেই গাছে লাখো লাখো চড়ুই পাখির বসবাস করে। রাত যাপনের জন্য পাখিদের কাছে ওই কয়েকটি গাছই যেন হয়ে উঠেছে নিরাপদ আশ্রয়স্থল। দিনের বেলায় পাখিদের তেমন কোন সাড়া-শব্দ না পাওয়া গেলেও সন্ধা নামলে ওই কয়েকটি গাছের দিকে তাকালে মনে হয় শুধু পাখি আর পাখি। সবার উপস্থিতি এক সাথে দেখে কেউই মনে করতে পারবেনা যে, তাদের উপস্থিতি লাখো পাখির নিচে। ওই গাছ কয়েকটির পাতার সবুজ রং ছাপিয়ে ফুটে ওঠে পাখিদের মেলা। মনে হয় গাছের ডালে পাতা হয়ে ফুটে আছে লাখো লাখো পাখি। ভোর বেলা পাখিগুলো চলে যায় খাদ্যের সন্ধানে। দিনভর খাবার সংগ্রহ শেষে পড়ন্ত বিকেলের আবার ঝাঁকে ঝাঁকে ওই গাছগুলোতে আসতে থাকে লাখো পাখির দল। রাতের বেলায় যখন এক সাথে ওইসব পাখিগুলো গাছের ডালগুলোতে অবস্থান নেয়, তখন ডালগুলো নীচে দিকে নুঁয়ে পড়ে। প্রতিবেশীরা অনেকে আদর করে পাখির গায়ে হাত বুলিয়ে দিলেও তখন একটি পাখিও নড়ে না। ওই এলাকায় কয়েকটি গাছে লাখো পাখির একত্রিত্তে বর্তমানে প্রতিদিন সন্ধায় বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত উৎসুক জনতা ও পাখি প্রেমীরা পাখির কলকাকলিতে মন ভরাতে উপস্থিত হয়। পুরো উপজেলাতে চড়ুই পাখির একমাত্র আশ্রয়স্থল হিসেবে এখন ওই স্থানের কথা সবার মুখে মুখে। বর্তমানে ওই স্থানকে সবাই পাখি পাড়া হিসেবে চিনেন।

birdsপাখি পাড়ার আফজাল হোসেন বলেন, এক সাথে এত পাখি দেখে আমরা খুবই আনন্দিত ও গর্বিত। প্রতিদিন বিকালে বিভিন্ন জায়গা থেকে শত শত উৎসুক জনতা ও পাখি প্রেমীরা পাখিগুলো দেখার জন্য ভিড় করেন। লাখো পাখি এক সাথে দেখতে বেশ সুন্দর লাগে। তাছাড়া পাখিগুলোকে যাতে কেউ শিকার করতে না পারে, সে কারণে আমরা স্থানীয়রা তাদের দেখভাল করি।

বৈরাগীহাট সাউথপোল কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক তারিকুল ইসলাম তারিক বলেন, প্রতি বছর শীতের আগে থেকে লাখো লাখো চড়ুই পাখি ওই গাছগুলো নিরাপদ আশ্রয় মনে করে এখানে আসে, আমি প্রায় ১৪ বৎসর থেকে এখানে চাকুরী করছি। সে সময় থেকে পাখিগুলোকে দেখছি।

এছাড়া প্রতিদিন সন্ধায় ও ভোরে পাখিগুলোর কিচিরমিচির শব্দ শোনতে আমাদের বেশ ভালোই লাগে। আমরা যে যার মত করে অনেক সময় পাখিদের খাবারও দিয়ে থাকি।

উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জহুরুল ইসলাম বলেন, চড়ুই পাখি পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষা ও কৃষি ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা রাখে ফসলের শত্রু পোকামাকড় খেয়ে ফেলে। যথেষ্ট উপকার করে ওই পাখিগুলো। চড়ুই পাখি আমাদের বন্ধু। তাদেরকে রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।

news portal website developers eCommerce Website Design
Close ads[X]