চিকিৎসক ও লোকবল সংকটে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল

Lakshmipur Hospital

Lakshmipur Hospitalলক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে হতদরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র নির্ভরস্থল জেলা সদর হাসপাতাল। প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকায় সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসক ও স্টাফদের। ১’শ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালে ১২৪টি পদের মধ্যে নির্ধারিত ৫৫ পদেই লোকবল নেই। দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল সংকটে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অসহায় দুস্থ রোগীরা।

তাছাড়া শীতের শুরুতে ডায়রিয়াসহ ঠান্ডা জনিত রোগের প্রকোপ দেখা দেওয়ায় হাসপাতালে রোগীর চাপ মাত্রাতিরিক্ত। তবুও জীবন বাঁচানোর তাগিদে বাধ্য হয়ে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে সেবা নিতে হয় তাদের। কিন্তু রাতের বেলা হাসপাতালে চিকিৎসকদের তেমন একটা দেখা পাওয়া যায় না। তবে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ আনোয়ার হোসেনকে সার্বক্ষণিক হাসপাতালে মনিটরিং করতে দেখা গেছে ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১০০ শয্যা বিশিষ্ট লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ১২৪ টি পদের মধ্যে মাত্র ৬৯টি পদে লোকবল নিয়োজিত রয়েছে। বাকি ৫৫টি পদ এখনও শূণ্য। শূণ্য পদ গুলো হলো, সিনিয়র কনসালটেন্ট (ইএনটি) ১টি, জুনিয়র কনসালটেন্ট অর্থপেডিক্স, চক্ষু, সার্জারী, প্যাথলজী ১টি করে, সিনিয়র স্টাফ নার্স ২২টি, স্টাফ নার্স ১৮টি, হেলথ এডুকেটর ১টি, সহকারি সেবক ২টি, ড্রাইভার ১টি, বাবুর্চি ২টি এবং অফিস সহায়ক (এলএমএসএস) ৪টি।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, সদর হাসপাতালে শুধু মাথা ব্যথা, পেট ব্যথা, দুর্ঘটনায় সেলাই ছাড়া কোনো চিকিৎসায় পাওয়া যায় না। একটু জটিল সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক নোয়াখালী বা ঢাকা রেফার্ড করা হয়। যা গ্রামাঞ্চলের একজন অসহায় মানুষের পক্ষে যাওয়া সম্ভব হয় উঠে না। জীবন বাঁচানোর জন্যই মানুষের কাছে ধার দেনা করে সুস্থ হওয়ার জন্য বাধ্য হয়ে যেতে হচ্ছে। তাই লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে সব চিকিৎসা সেবা পাওয়ার দাবি জানিয়েছে অসহায় রোগী ও স্বজনরা।

চিকিৎসা নিতে আসা মো. রাজিব হোসেন নামে এক কলেজ ছাত্র বলেন, প্রচন্ড পেট ব্যাথা নিয়ে আমি লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যাই। দীর্ঘক্ষণ সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে টিকিট নিয়ে ডাক্তার দেখাতে গেলে জানতে পারি সার্জারী বিভাগে ডাক্তার নেই। পরে অন্য ডাক্তারকে দেখাই।

জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা ফাহিম নামে এক শিশুর অভিভাবক বলেন, ‘রাতে মোটরসাইকেল দুঘর্টনায় আহত হয়ে পড়ে আছি। হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন নাকি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। তাই টাকা যোগাড় করে বাইরের প্যাথলজিতে এক্স-রে করাতে হচ্ছে।

হাসপাতালে দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স নাজনীন সুলতানা জানান, বিভিন্ন পদে লোকবল শূণ্য থাকায় মাত্রাতিরিক্ত চাপে থাকতে হয় কর্মরত চিকিৎসকসহ অন্যান্য স্টাফদের। ফলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনিচ্ছা সত্ত্বেও দারুণ ভোগান্তীর সম্মুখীন হতে হয় রোগী ও স্বজনদের। এছাড়া ১শ শয্যা হাসপাতাল হলেও শুধু গাইনী ওয়ার্ডে ১২০জন ও পুরুষ ওয়ার্ডে ৫১জন রোগী আছে বলে তিনি জানান।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আনোয়ার হোসেন জানান, লোকবল সংকটে মাত্রাতিরিক্ত চাপে রয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবুও সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকসহ অন্যান্যরা।

সিভিল সার্জন ডা. মোস্তফা খালেদ জানান, লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে লোকবল সংকট রয়েছে। লোকবল সংকট নিরসনে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং মন্ত্রণালয়েও এ বিষয়ে আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণির শূণ্য পদে জনবল নিয়োগ বন্ধ থাকায় কাজে বিঘœ দেখা দিয়েছে। অচিরেই চিকিৎসক ও লোকবলের শূণ্য পদ পূরণের আহবান জানান তিনি।

news portal website developers eCommerce Website Design