জমি নিয়ে বিরোধ : দুই সন্তানসহ মাকে কুপিয়ে হত্যা

murderকিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ভাতিজা তার আপন চাচি, চাচাত ভাই ও বোনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। এছাড়াও চাচা গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার সকালে উপজেলার তারাকান্দি পূর্বপাড়া গ্রামের শহর উল্লার বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

নিহতরা হলেন তারাকান্দি পূর্বপাড়া গ্রামের কাঠমিস্ত্রি মোশারফ হোসেনের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার (২৮), পুত্র নিলয় (১০) ও কন্যা রাইসা আক্তার (৮)। এ সময় মোশারফ হোসেন (৩৫) গুরুতর আহত হন। হত্যাকাণ্ডের পরপরই একই গ্রামের শামছুল আলমের পুত্র মবিনকে (২৫) এলাকাবাসী আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। ঘটনার পরপরই পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও কিশোরগঞ্জ র‌্যাব-১৪ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নিহতদের লাশ উদ্ধার করে সুরতহালের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত মোশারফ হোসেন এবং তার চার ভাইয়ের মধ্যে ১০ শতাংশ বসতভিটার বণ্টন নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ৫ ভাইয়ের মধ্যে ২ ভাই সৌদিপ্রবাসী। বাকি ৩ জন এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। জমির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে এর আগে বেশ কয়েকবার গ্রাম্য সালিশ করা হয়। এতে কোনো প্রতিকার হয়নি।

এর মধ্যে প্রবাসী শামছুল আলমের স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যা নিয়ে কিশোরগঞ্জ শহরে ভাড়া বাসায় থাকেন। বড় ছেলে ঘাতক মবিন (২৫) গুরুদয়াল সরকারি কলেজে হিসাববিজ্ঞান বিভাগে অনার্সসহ মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষা শেষ করে।

ঘটনার আগের দিন শুক্রবার রাতে শহর থেকে গ্রামের বাড়ি তারাকান্দি পূর্বপাড়া এসে রাত কাটান। পর দিন শনিবার ভোর ৭টার দিকে মোশারফ হোসেনের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার সকালের নাস্তা তৈরি করতে রান্না ঘরে প্রবেশ করলে আগে থেকেই ওঁত পেতে থাকা ঘাতক মবিন তার চাচি তাসলিমা আক্তারকে মাথার পিছন দিকে দা দিয়ে এলোপাথারী কোপাতে থাকে। তার ডাক চিৎকারে প্রথমে তার শিশু পুত্র নিলয় (১০) এবং পরে রাইসা (৮) এগিয়ে এলে মবিন তাদেরকেও উপুর্যপুরি কুপাতে থাকেন। এই সময় ঘুমের ঘরে থাকা মোশারফ হোসেন এগিয়ে এলে তাকেও মারাত্মকভাবে জখম করা হয়।

এতে ঘটনাস্থলে তাসলিমা আক্তার (২৮), নিলয় (১০) ও রাইসা (৮) নিহত হন এবং আহত মোশারফ হোসেনকে এলাকাবাসী উদ্ধার করে প্রথমে পাকুন্দিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে কিশোরগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।

এই সময় ঘাতক মবিনকে এলাকাবাসী আটক করে গাছের সাথে বেঁধে রেখে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দাসহ ঘাতক মবিনকে আটক করে। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল হোসেন, সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাসুদ আনোয়ার, কিশোরগঞ্জ র‌্যাব-১৪ ডিএডি তাহের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে ঘটানো হয়েছে। ঘাতক মবিনকে আটক করে থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার রহস্য জানা যাবে।
পাকুন্দিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার বিষয়ে মামলা প্রস্তুতি চলছে। তবে প্রাথমিক ভাবে বিষয়টি জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মনে হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

news portal website developers eCommerce Website Design
Close ads[X]