মৌলভীবাজারে জোড়া খুনের নেপথ্যে

ডেস্ক রিপোর্ট: তারা একই দলের কর্মী। সমবয়সীও। ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে আছেন একই গ্রুপে। মূলত দ্বন্দ্ব নিজ গ্রুপে নিজেদের আধিপত্য নিয়ে। সিনিয়র জুনিয়র নিয়ে মনস্তাত্ত্বিক এ দ্বন্দ্ব চলছে প্রায় ৩-৪ মাস আগে থেকে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে দ্বন্দ্ব বহিঃপ্রকাশ হচ্ছিল না। নিজ গ্রুপের বড় ভাইদের কাছেও এ বিষয়টি জানায়নি তারা। কিন্তু একপর্যায়ে জেনে যান গ্রুপের বড় ভাইরা। তারা প্রায় মাস দিন আগে বিষয়টি সমাধান করে দেন। এরপর থেকে অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে যায় বিষয়টা। কিন্তু যাদের মধ্যে এ দ্বন্দ্ব তারা আগের মতো আর একে-অন্যের সঙ্গে মিশতো না। আর এ কারণেই পুরনো দ্বন্দ্বের রেশ থেকে যায়। ধীরে ধীরে তা প্রকট হতে থাকে।

দলের কর্মী, সহপাঠী, স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়- নিহত নাহিদ আহমদ মাহি ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দিবা শাখার একজন নিয়মিত ছাত্র। ৯ম শ্রেণি থেকে সে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। দলের বড় ভাইদের সঙ্গে সু-সম্পর্ক গড়ে ওঠায় বয়সের কারনে সে ছাত্রলীগের পদ পদবিতে না থাকলেও ছিল একজন সক্রিয় কর্মী। নিজগ্রুপের কর্মী ও একই স্কুলের ৯ম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী মাহিসহ অনান্য সিনিয়রদের নাম ধরে ডাকতো। এবিষয়টি পছন্দ হয়নি গ্রুপের উঠতি কয়েকজন নেতার। বিষয়টি পছন্দ না হওয়ায় ওদের সঙ্গে মাহিও নালিশ দিয়েছিল গ্রুপের বড় ভাইদের কাছে। নালিশ করার কারণে জুনিয়ররা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এবং প্রতিশোধ নিতে ফন্দি আঁটে। স্কুল কর্মীদের ওই গ্রুপটি দেখভাল করতেন নিহত ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ আলী শাবাব। শাবাব ছিল মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ ও সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনির্ভাসিটির শিক্ষার্থী। ছাত্রলীগের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রনির অনুসারী ও সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের নেতা। শাবাব জুনিয়র-সিনিয়র নিয়ে ওদের মধ্যে দ্বন্দ্বের এ ঘটানাটি শুনে দু’ পক্ষকে ডেকে বিষয়টি মিটমাট করে দেন। এরপর থেকে মাহি সামনে এসএসসি পরীক্ষা থাকায় দলে ও গ্রুপে বেশি সময় দিতে পারত না। এটা যাদের সঙ্গে আগে দ্বন্দ্ব হয়েছিল তারা ও গ্রুপের অন্যরা খুব সহজ ভাবে মেনে নিতে পারেনি।

এরই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সারাদিন কোচিং ও প্রাইভেট পড়া শেষে বাড়ি ফেরার পথে ছাত্রলীগ কর্মী বেরির চরের রুবেল তাকে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠের পশ্চিম প্রান্তের নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে যায়। রুবেল ও তার সহযোগীরা ওখানে নিয়ে তাকে মারধর করে। এ সময় মুঠোফোনে শাবাবকেও ওই স্থানে নেয়া হয়। শাবাব ওখানে পৌঁছালে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রুবেলসহ অন্যরা তাদের দু’জনকেই ছুরিকাঘাত করে। পরে আহত অবস্থায় তাদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নেয়ার পর কর্মরত চিকিৎসক রক্তশূন্যতায় তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।

মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুহেল আহমদ জানান, শুক্রবার ভোর রাতে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে রুবেল নামের একজনকে রাজনগর উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে। তার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও ধরতে চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। প্রাথমিক তদন্তে এই ঘটনার অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রুবেলের কাছ পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করা যাচ্ছেনা বলে তিনি জানান। তবে এ পর্যন্ত নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো মামলা হয়নি।

এদিকে নিহত নাহিদ আহমদ মাহির মামা মো: গোলাম মো: ইমরান আলী জানান, তারা মামলা করতে আগ্রহী নয়। কারণ কোনো রাজনৈতিক মামলা কখনো আলোর মুখ দেখে না। তাই মামলা চালিয়ে ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে সন্দিহান থাকায় তারা মামলায় জড়াতে চান না। অপরদিকে শাবাবের মামা রাফাত ছৌধুরী জানান, পারিবারিক সিদ্ধান্তের পর মামলা করা হবে। সূত্র: মানবজমিন।