ঘাঁটি বিএনপির, দখলেই রাখতে চায় তরিকত, ছাড়তে রাজি নয় আ’লীগ

lakshmipur

lakshmipurডেস্ক রিপোর্ট: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর-১ রামগঞ্জ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা কৌশলে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনী এলাকায় চলছে গণসংযোগ, শুভেচ্ছা বিনিময়, গ্রুপিং লবিং। এ ছাড়া গত রমজান, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে কাজে লাগিয়েছেন অনেকে। অপরদিকে ভোটারদের মধ্যেও চলছে নানা আলোচনা। কে কোন দলের মনোনয়ন পাচ্ছেন, কে হলে ভালো হয় তা নিয়েও চলছে নানা বিশ্লেষণ। জাতীয় পর্যায়ের ধনাঢ্য ব্যক্তিরা এ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক লাইনে ব্যাপক দান-অনুদান প্রদান করে যাচ্ছেন।

লক্ষ্মীপুর-১ রামগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দল তরিকত ফেডারেশন মনোনীত লায়ন এম এ আউয়াল বর্তমান এমপি। আসনটি দখলে রাখতে চান তিনি। কিন্তু আগামীতে ছাড়তে রাজি নয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তাই আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্যে যারা তৎপর তারা হলেন, ঢাকার আনোয়ার খাঁন মডার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন খাঁন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শিল্পপতি সফিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. সফিক মাহমুদ পিন্টু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. শাহজাহান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক মমিন পাটওয়ারী।

সাবেক উপজেলা সভাপতি মো. শাহজাহান ২ বার নির্বাচন করেও বিজয়ী হতে পারেননি। আনোয়ার হোসেন খাঁন এলাকার সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ, ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দান-অনুদানসহ নানা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তার সহযোগিতায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ব্যাপক জমজমাটভাবে অনুষ্ঠিত হয়। তিনি স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদরাসার ভবন নির্মাণে বড় ধরনের অনুদান এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নেয়ার জন্য প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করে যাচ্ছেন। এ ছাড়া পুলিশের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রামগঞ্জ থানাকে ১টি গাড়ি ও লক্ষ্মীপুর সদর পুলিশের জন্য একটি নতুন গাড়ি অনুদান হিসেবে প্রদান করেন।

তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব বর্তমান এমপি লায়ন এম এ আউয়াল বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং ও জঙ্গিবাদমুক্ত আধুনিক রামগঞ্জ গঠনে আমি কাজ করেছি এবং করে যাচ্ছি। যার সুফল রামগঞ্জবাসী ইতোমধ্যে পাচ্ছে। রামগঞ্জের উন্নয়নের জন্য যা যা প্রয়োজন আমি তাই করার চেষ্টা করেছি। আগামীতে জননেত্রী শেখ হাসিনা জোটের মনোনয়ন দেবে বলে আশাবাদী তিনি।

আনোয়ার খাঁন মডার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন খাঁন বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এখানে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হতে পারেনি। নেত্রী আমাকে দল থেকে মনোনয়ন দিলে দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে নৌকাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করে এ আসন জননেত্রীকে উপহার দিতে পারব।

রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. সফিক মাহমুদ পিন্টু বলেন, আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একজন মাঠকর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। রামগঞ্জবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করবে। জননেত্রী শেখ হাসিনা লক্ষ্মীপুরসহ সারা দেশে ব্যাপক প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে যে উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দিয়েছেন আগামীতে আমাদের দল আবারো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয় অর্জন করবে। নেত্রী যদি মনে করেন আমাকে মনোনয়ন দেবেন তাহলে ইনশাআল্লাহ এ আসনটি আমি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে পারব। এ ছাড়াও নেত্রী আমাকে বা যাকেই মনোনয়ন দেবেন আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকাকে বিজয়ী করব।

বিএনপির এ ঘাঁটিতে দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশায় আছেন নবম জাতীয় সংসদে বিএনপি মনোনীত বিজয়ী এমপি নাজিম উদ্দিন, ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কমিশনার হারুনুর রশিদ, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন আলী। এদের মধ্যে সাবেক এমপি নাজিম উদ্দিন দলীয় নেতাকর্মীদের দুর্দিনে তেমন ভূমিকা রাখতে না পারা এবং দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারায় তার প্রতি আস্থার সংকট রয়েছে। ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কমিশনার হারুনুর রশিদ সার্বিকভাবে বেশ জনপ্রিয়, সদালাপি হিসেবে এলাকায় তার সুনাম রয়েছে ও এলাকার বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানেও তার আসা যাওয়া রয়েছে। তবে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোসহ দলের শৃঙ্খলার জন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন আলী এলাকায় নম্র-ভদ্র হিসেবে পরিচিত। তিনিও বিএনপির মনোনয়নের ব্যাপারে আশাবাদী।

এ ছাড়া এখানে মনোনয়ন প্রত্যাশায় কেন্দ্রীয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন ২০ দলীয় জোটের শরিক দল এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব সাহাদাত হোসেন সেলিম। তারা মার্কা নিয়ে প্রার্থী রয়েছেন জেএসডি (রব) কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাবেক এমপি এম এ গোফরান।

ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কমিশনার হারুনুর রশিদ বলেন, সরকার বিরোধী আন্দোলনে দলের নিবেদিত কর্মী হিসেবে কাজ করেছি এবং নিজ এলাকা রামগঞ্জের জনগণের সঙ্গে সব সময় আছি এবং থাকব। আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি এলাকার উন্নয়ন ও জনসেবায় আরো বেশি সুযোগ পাব। আমি আশা করি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির মনোনয়ন আমাকেই দেবেন।

এলডিপির যুগ্ম মহাসচিব সাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, আমার নিজ এলাকার মাটি ও মানুষের সঙ্গে আমার সম্পর্ক আছে। জোটে ও এলাকায় আমার একটি সুন্দর অবস্থান আছে। আমি এক সময় এলাকায় বিএনপির সংগঠন করতাম। জোটগতভাবে নির্বাচন হলে আমার মনোনয়ন নিশ্চিত ইনশাআল্লাহ। সূত্র: মানবকণ্ঠ।

news portal website developers eCommerce Website Design
Close ads[X]