হিন্দু মন্দিরে মুসলমান দেবী!

mondir

mondirডেস্ক রিপোর্ট: ডোলা মাতা’র মন্দির, রয়েছে গুজরাতের আমদাবাদের প্রত্যন্ত একটি গ্রাম ঝুলাসানে। শহর থেকে দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। গ্রামের বাসিন্দারা সবাই হিন্দু। কিন্তু এই মন্দিরে যে মানবী পূজিতা হন দেবী রূপে, তিনি ছিলেন একজন মুসলমান।

প্রচলিত কিংবদন্তি অনুসারে, প্রায় ২৫০ বছর আগে, ঝুলাসানের ওই মহিলা গ্রাম রক্ষা করতে যুদ্ধ করেছিলেন অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে। গ্রাম ও বাসিন্দারা রক্ষা পেলেও, লুটতরাজ করতে আসা লোকদের হাতেই মৃত্যু হয় তার। মৃত্যুর পরে মহিলার মরদেহ একটি ফুলে রূপান্তরিত হয়। এবং ওই স্থানেই একটি মন্দির উঠে আসে মাটি থেকে। খবর এবেলার।

সত্যি-মিথ্যের তর্ক ছাপিয়ে এখানে বিশ্বাসই জায়গা করে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দীনেশ রাওয়াল। যিনি এক সময়ে ছিলেন আমদাবাদের মিউনিসিপাল স্কুলের চেয়ারম্যান। সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথপোকথনের সময়ে দীনেশ রাওয়াল আরও বলেন, ডোলা দেবীর আসল নাম কেউই জানে না। কিন্তু, গ্রামের সবাই বিশ্বাস করেন, যে কোনো সংকটেই তিনি সবাইকে রক্ষা করবেন।

প্রসঙ্গত, ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন মহাকাশচারী সুনিতা উইলিয়মসের আত্মীয় হন দীনেশ রাওয়াল। ফলত, তিনি যখন মহাকাশে বিচরণ করছিলেন, তখন গ্রামবাসী তার কুশল কামনায় ডোলা মাতার মন্দিরে ‘অখণ্ড দিয়া’ জ্বালিয়ে রেখেছিলেন। ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে সুনিতা তার গ্রামের এই জাগ্রত মন্দিরে গিয়ে পুজোও দিয়েছিলেন।

ডোলা মাতার মন্দিরকে অনেকেই ‘ডলার মাতা’ বলেও অভিহিত করেন। কারণ ছোট্ট গ্রামটির প্রায় ২০ শতাংশ মানুষই থাকেন বিদেশে। গ্রামবাসীর বিশ্বাস, যারা বিদেশ যেতে চায় তাদের মনোকামনা পূরণ করেন ডলার মাতা।

গ্রামের বর্ধিষ্ণুরা প্রায় ৪ কোটি টাকা খরচ করে বিশাল এক মন্দির স্থাপন করেন ডোলা মাতার। মন্দিরে কোনো মূর্তি নেই, একটি পাথরের গায়ে রঙিন শাড়ি জড়ানো। এটাই প্রমাণ যে, ভক্তির জন্য মূর্তি বা ছবির প্রয়োজন হয় না। এবং ভক্তি ধর্মও মানে না।

news portal website developers eCommerce Website Design
Close ads[X]