নির্বাচন কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরে আওয়ামী লীগ

awami league logo - lig logo

ডেস্ক রিপোর্ট: রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচন কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং ও সমন্বয় করবে আওয়ামী লীগ। ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীরা নির্বাচনে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারেন, সে ব্যাপারেও কঠোর নজরদারি করা হবে। মাঠের বিরোধী দল বিএনপি ফলাফল নিয়ে অযথা সহিংসতার পথ বেছে নিতে পারে এমন আশঙ্কা নিয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে দলীয় নেতা-কর্মীদের।

সভানেত্রীর ধানমন্ডির কার্যালয়ে বসে আগামীকাল সকাল থেকে দল মনোনীত প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুর পক্ষে নির্বাচন মনিটর ও সমন্বয় করবে আওয়ামী লীগ।

দলীয় সূত্রমতে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এ নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা। এ জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে।

ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা বলছেন, এখানে জাতীয় পার্টির শক্তিশালী ভোটব্যাংক থাকলেও সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন ও সদ্য সাবেক মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুর অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করার জন্য নৌকা মার্কায় ভোট দেবে মানুষ। দল ও ব্যক্তি হিসেবে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। অন্যদিকে এ নির্বাচনে ফলাফল বিএনপির পক্ষে না এলে তারা মাঠ ঘোলা করার চেষ্টা করবে। আবার নির্বাচনে জিতলে বলবে সরকারের জনপ্রিয়তা নেই তাই আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পরাজয় হয়েছে। আর হারলে বলবে যে, সরকার ভোট কারচুপি করে বিএনপি প্রার্থীর জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। তবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিএনপিকে আন্দোলন করার কোনো সুযোগ দিতে চায় না ক্ষমতাসীনরা।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মতো রংপুরেও সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে সুন্দর ও উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ বিরাজ করছে। এ কারণে নির্বাচনের আকর্ষণ আরও বেড়েছে। বিএনপির নানা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন এলেই অভিযোগ করা বিএনপির পুরনো অভ্যাস।

জানা গেছে, ভোটের দিন সকাল থেকেই ধানমন্ডি আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়ে দলের সিনিয়র নেতারা নির্বাচনী খোঁজখবর নেবেন। রংপুর সিটি নির্বাচনের মূল সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। এ ছাড়া নির্বাচনের শুরু থেকেই মাঠে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন। এমপি হওয়ার কারণে নির্বাচনী এলাকায় যেতে না পারলেও সৈয়দপুরে বসে রংপুরের নেতাদের নিয়ে বৈঠক করে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন জাহাঙ্গীর কবির নানক, বি এম মোজাম্মেল হক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আশিকুর রহমান, টিপু মুন্সীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। আগামীকাল নির্বাচনের দিন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা ভোটের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ওয়ার্ড নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করবেন।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করা। দ্বিতীয় টার্গেট উন্নয়নের ধারাবাহিকতার জন্য স্থানীয় পর্যায়েও জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করা। সরকারের ব্যাপক উন্নয়নের ফলে এবং মেয়র প্রার্থী ঝন্টুর শুরু করা উন্নয়ন কাজগুলো সমাপ্ত করতে মানুষ নৌকাকেই বিজয়ী করবে।

দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী সজীব ওয়াজেদ জয়ের বাড়ি রংপুরে। টানা দুই মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার রংপুরে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। মানুষ উন্নয়নে বিশ্বাসী বলেই নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুকে বিজয়ী করবে।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের দিন সকাল থেকে রাতে ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটর করব।’ বাংলাদেশ প্রতিদিন।

news portal website developers eCommerce Website Design