দুর্গ পুনরুদ্ধারে মরিয়া এরশাদ

ডেস্ক রিপোর্ট: আগামীকাল অনুষ্ঠেয় রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে বিজয়ী করে রংপুরের দলীয় রাজনৈতিক দুর্গ পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছেন সাবেক এ রাষ্ট্রপতি। নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে ‘রংপুরের পল্লী নিবাস’ থেকে তিনিই সিটি নির্বাচন তদারকি করছেন। দিচ্ছেন প্রয়োজনীয় নির্দেশনা। এ উপলক্ষে পার্টির কো-চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের ছোট ভাই জি এম কাদের, মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, মশিউর রহমান রাঙ্গা, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাসহ পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ, জাতীয় শ্রমিক পার্টি, জাতীয় ছাত্রসমাজ, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, সিলেটসহ সারা দেশ থেকে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী বৃহত্তর রংপুরে অবস্থান করছেন।

জানতে চাইলে এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার রংপুর থেকে জানান, সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের প্রার্থী হিসেবে রংপুরে লাঙ্গলের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। কারণ রংপুরের যেদিকে তাকাবেন সেদিকেই এরশাদের উন্নয়ন দেখা যাবে। এ উন্নয়নকে পুঁজি করেই আমরা নির্বাচনী বৈতরণী পার হব। কারচুপি না হলে এ নির্বাচনে আমরাই জিতব। আশা করি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। রংপুর সিটি করপোরেশন হওয়ার পর প্রথম নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর ভরাডুবিতে হাতছাড়া হয়ে যায় রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ। এতে দলের ভাবমূর্তির পাশাপাশি বৃহত্তর রংপুরে সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে এরশাদের ইমেজ ও জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এবার নির্বাচনে জিতে সেই ইমেজ পুনরুদ্ধার করতে চান সাবেক রাষ্ট্রপতি। যে কোনো মূল্যে এবার ক্ষমতাসীন দল থেকে ‘মেয়র’ চেয়ারটি ছিনিয়ে নিতে চান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ।

এ নির্বাচনে জিতে পাঁচ বছর আগে পরাজয়ের জ্বালা মেটাতে চান তিনি। পুনরুদ্ধার করতে চান হারানো ভাবমূর্তি। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকেই রংপুরে অবস্থান নেওয়া কয়েক হাজার নেতা-কর্মী পার্টির চেয়ারম্যানের নির্দেশে পালন করে ছুটছেন শহরের অলিগলি এবং লাঙ্গলের পক্ষে ভোট চান। দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করতে চষে বেড়ান নির্বাচনী মাঠ। ভোটারদের কাছে তুলে ধরেন এরশাদ আমলের উন্নয়ন। নির্বাচনী ফল নিয়ে তারা ঢাকায় ফিরবেন। মেয়র প্রার্থী মোস্তফাকে সঙ্গে নিয়ে লাঙ্গলের পক্ষে অলিগলি চষে বেড়াচ্ছেন জি এম কাদের।

গতকাল প্রচারণার শেষ দিনে রংপুর সদরের শাপলা চত্বরে মোস্তফার পক্ষে বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখেন। এ সময় তারা বলেন, রংপুরের উন্নয়নের জন্য এরশাদের প্রার্থীর বিকল্প নেই। কারচুপি হলে সরকার পতনের আন্দোলনের হুমকিও দেন নেতারা। জি এম কাদের বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হলে আমাদের প্রার্থীই জিতবে। রংপুরের মাটি ও মানুষের সঙ্গে এরশাদের সম্পর্ক। আশা করছি নির্বাচন কমিশন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবে। সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিয়ে তারা গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবে।

জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, নির্বাচনে যাতে কোনো ধরনের কারচুপি না হয় সে জন্য আমাদের নেতা-কর্মীরা কেন্দ্র পাহারা দেবে। সর্বস্তরের নেতা-কর্মীকে সকাল থেকে বিকাল ভোটগ্রহণ পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রার্থীর জয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রংপুর ছাড়ব না আমরা।

জানা গেছে, স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে ভোটের কৌশল নির্ধারণ করছেন এইচ এম এরশাদ। পার্টির চেয়ারম্যানকে কাছে পেয়ে নেতা-কর্মী-সমর্থকরাও খুব খুশি। যেসব এমপি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে রংপুরে অবস্থান করছেন তারা নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে প্রচারণায় অংশ নিতে পারছেন না, তবে তারা নির্বাচনী এলাকার পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থান নিয়ে নির্বাচন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। নেতা-কর্মীদের লাঙ্গলের পক্ষে করণীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন।

সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা গতকাল রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, শাপলা চত্বর মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে লাঙ্গলের পক্ষে গণসংযোগ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর কারমাইকেল কলেজ ছাত্রসমাজের সভাপতি আরিফুল ইসলাম, জাপা কদমতলী সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মাঈনুদ্দিন বাবু, যুবসংহতির সভাপতি আলমগীর হোসেন, দক্ষিণ যুবসংহতির সম্পাদক মো. মামুন প্রমুখ।

বাবলা বলেন, রংপুর সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মোস্তফার বিকল্প নেই। তিনি পৌরসভা মেয়র হিসেবে অতীতে উন্নয়নের স্বাক্ষর রেখেছেন। অন্য প্রার্থীদের তুলনায় সবদিক দিয়ে যোগ্য ও অভিজ্ঞ।

এ ছাড়াও নির্বাচনী প্রচারণায় ইতিমধ্যে অংশ নেন পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, কাজী মামুনুর রশিদ, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, জহিরুল ইসলাম জহির, গোলাম মোহাম্মদ রাজু, ইসহাক ভূইয়া, ফকরুল আহসান শাহজাদা, এ কে এম আশরাফুজ্জামান খান, সুজন দে, সৈয়দ ইফতেখার আহসান, মিজানুর রহমান মিরু, মিয়া আলমগীর, শেখ মোহাম্মদ শান্ত প্রমুখ। এইচ এম এরশাদের উপদেষ্টা কাজী মামুনুর রশিদ জানান, রংপুরে লাঙ্গলের বিজয় সুনিশ্চিত। যেদিকে যাচ্ছি এরশাদের প্রার্থীর জয়জয়কার অবস্থা। ভোটাররা কেন্দ্রে যেতে পারলে আমরাই জিতব। বাংলাদেশ প্রতিদিন।

news portal website developers eCommerce Website Design