খালেদার রায় ঘিরে সক্রিয় থাকবে বহির্বিশ্ব বিএনপি

ডেস্ক রিপোর্ট: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মামলার রায় নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে দলটি। এনিয়ে সক্রিয় থাকবে বিভিন্ন দেশে থাকা দলটির প্রবাসী নেতাকর্মীরাও। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি মামলার রায়ের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রায়কে কেন্দ্র করে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউরোপ, এশিয়া, আমেরিকা, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিএনপির নেতাকর্মীরা একযোগে বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধনসহ লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করছেন।

বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি প্রবাসে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করবেন। সমাবেশ ও মানববন্ধন শেষে স্মারকলিপি দেয়ারও কথা রয়েছে।

আগামী ১ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচির পর বিক্ষিপ্তভাবে কর্মসূচি চললেও নেতিবাচক রায় হলে আন্দোলন তীব্রতর করার পরিকল্পনা আছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট নেতারা।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, ‘এখন জনগণের কাছে দিবালোকের মতো স্পষ্ট- জালিয়াতি করে বিচারের নামে প্রহসন এবং বিরোধীপক্ষকে দমনের জন্য সরকার আদালতকে ব্যবহার করছে। নির্বাচন বানচালে সরকারের এই নোংরা প্রচেষ্টা দেশের ইতিহাসে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

তিনি বলেন, বিচার বিভাগ ও আইনের শাসন নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আচরণে মানুষ আজ ক্ষুব্ধ এবং ক্রুব্ধ। তারা গণতন্ত্র ধ্বংসের চক্রান্তে লিপ্ত। একই সঙ্গে খালেদা জিয়াসহ কয়েকজন নিরাপরাধ ব্যক্তিকে মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় আইন আদালতের নিয়মনীতি না মেনে সাজা দেয়ার অপচেষ্টা করা হচ্ছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জাতীয় প্রেসক্লাবের এক আলোচনা সভায় বলেছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে আদালত আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারের আদিষ্ট হয়ে কোনো নেতিবাচক সিদ্ধান্ত দিলে, সেদিন থেকেই সরকারের পতনঘণ্টা বাজতে শুরু করবে।

দেশের বাইরে বিএনপির আন্দোলন নিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জাপান প্রবাসী ড. শাকিরুল ইসলাম শাকিল খান বলেন, চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মিথ্যা রায় দেয়া হলে জনগণ তা মেনে নেবে না। ষড়যন্ত্রমূলক রায় হলে তা প্রত্যাখ্যানসহ সরকার পতনে যা করণীয় তা করতে প্রস্তুত জাতীয়তাবদী দল।

সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নি বলেন, বিএনপি দেশে-বিদেশে যে যেখানেই আছে, মূল দল এবং অঙ্গসংগঠন সবারই এখন দেখবার বিষয় রায়টা কী হয়। কারণ আমরাতো জানি আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে না, দেশে আইনের শাসন নেই।

তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায় দেয়ার পর তিনি দেশে থাকতে পারলেন না। অতীতে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলায় নিম্ন আদালতের যে বিচারক রায় দিয়েছিলেন তাকেও দেশ ছাড়তে হয়েছিল।

নাসরিন মুন্নি বলেন, এই মামলাকে বিএনপি রাজনৈতিক এবং আইনগত দু’দিক থেকেই মোকাবেলা করবে। আন্দোলন করার জন্য সাংগঠনিকভাবে আমাদের প্রস্তুতি আছে। দেশের বাইরে আমাদের যে সকল শাখা আছে সেখান থেকে সবাই শক্তিশালী প্রতিবাদ করবে। সূত্র: পরিবর্তন ডটকম।

news portal website developers eCommerce Website Design