আতঙ্কে লক্ষাধিক বাংলাদেশি

maldives

ডেস্ক রিপোর্ট: চলমান রাজনৈতিক সংকটের কারণে মালদ্বীপে অবস্থানরত লক্ষাধিক বাংলাদেশি আতঙ্কে রয়েছেন। সার্কভুক্ত দেশটির মোট জনসংখ্যার এক নবমাংশই বাংলাদেশি।

রাজধানী মালের পাঁচতারা হোটেল কুরুম্বা ভিলেজ। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত বাংলাদেশি মুকুল মোস্তাফিজ জানান, মালদ্বীপে এ মুহূর্তে আতঙ্কে আছেন বাংলাদেশিরা। বেসরকারি হিসাবে লক্ষাধিক বাংলাদেশি এখানে কর্মরত। তাদের বেশিরভাগেরই কাজের জন্য বৈধ নিবন্ধন নেই। চলমান সংকটের ফলে তারা ঠিকমতো কাজে যেতে পারছেন না। আর জীবনের শঙ্কা তো আছেই। বিদেশি হিসেবে এখানে বাংলাদেশিরাই সবচেয়ে বেশি। তাদের অনেকেই প্রতি শুক্রবার মালের কবুতর পার্কে আসেন। গত শুক্রবারে তাদের দেখা মেলেনি।

তবে মালদ্বীপে বাংলাদেশ দূতাবাসের দূতালয় প্রধান ডক্টর মোহাম্মাদ হারুন-অর-রশীদ গতকাল সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে জানান, এখানকার সেনাবাহিনী-পুলিশ সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাংলাদেশিরা ভালো আছেন। এখনো কারো কোনো সমস্যার কথা শোনা যায়নি। তবুও দূতাবাসের পক্ষ থেকে বাংলাদেশিদের সুরক্ষার জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দূতালয় প্রধান জানান, মালদ্বীপে চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও জরুরি অবস্থা জারির পর বাংলাদেশিদের সতর্ক করা হয়েছে। গত সোমবার এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশিদের কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কাজকর্ম ছাড়া অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরা না করার জন্য বলা হয়েছে। অবসর সময়ে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না থাকার কথাও বলা হয়েছে। রাজধানী মালে বা অন্যত্র কোনো সভা, মিছিল বা সমাবেশে অংশ না নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে একটি হটলাইন (০০৯৬০৩৩২০৮৫৯) দেওয়া হয়েছে। সহায়তার জন্য সেখানে যোগাযোগ করতে পারবেন বাংলাদেশিরা।?

এর আগে কিছু বাংলাদেশি নাগরিক দেশটিতে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশ নিয়ে সমালোচিত হয়েছিলেন। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নিহত হন। ২০১৫ সালের ৩০ মার্চ দেশটিতে বিক্ষোভকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হলে ওই সময় মালদ্বীপ সরকার বাংলাদেশকে সতর্ক করে জানায়, বিক্ষোভকারীরা তাদের ভিসা হারানোর ঝুঁকি নিচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশিরা দেশটির বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে অংশ নিতে পারে, এমন আশঙ্কায় দূতাবাসের পক্ষ থেকে জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রাজধানী মালে বা অন্যত্র কোনো সভা, মিছিল বা সমাবেশে অংশ না নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, ১৯৭৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর মালদ্বীপ এবং বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। ২০০৪ সালে মালদ্বীপ বাংলাদেশে দূতাবাস চালু করে। মালদ্বীপের সরকার ২০০৯ সালে ১৬ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিকদের অভিবাসন অবস্থা নিয়মিত করেছে। মালদ্বীপে বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই আতিথেয়তা ও পর্যটন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

জানা গেছে, মালদ্বীপে বাসযোগ্য প্রতিটি দ্বীপেই বাংলাদেশি শ্রমিক রয়েছেন, যারা মাছ ধরা, কৃষি কাজ ও ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট মেরামতসহ অবকাঠামো উন্নয়নে, অফিস-আদালত, দোকান, বাসাবাড়িতে কাজ, গাড়ি ও ধোনী (নৌকা) চালনা ছাড়াও হোটেল, রেস্তোরাঁ ও রিসোর্টে কাজ করেন। এদের একটি বড় অংশ বর্তমানে কাজে যেতে না পেরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। বাংলাদেশি কর্মীরাই মূলত মালদ্বীপের দ্বীপগুলোতে প্রথম কৃষি কাজ শুরু করেন। মালদ্বীপবাসী অকপটে স্বীকার করেন যে, তাদের রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বাংলাদেশিদের অবদান প্রায় ৬০ ভাগ। রাজধানী মালে, আধুনিক শহর হলুমালে, হুলহুলে বিমানবন্দর, বিলিংগিলি, ধোনীদো, আড্ডুসহ বড় বড় শহর, হাসপাতাল, অবকাশযাপন কেন্দ্রগুলোতে (রিসোর্ট) বাংলাদেশি শ্রমিকদের আধিক্য। সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিশেষজ্ঞসহ প্রায় ৫ শতাধিক বাংলাদেশি ডাক্তার কর্মরত রয়েছেন। আমাদের সময়।

news portal website developers eCommerce Website Design
Close ads[X]