নেতাকে মারধরের অভিযোগে রাঙামাটিতে ছাত্রলীগের হরতাল

rangamatiরাঙামাটি: জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সুপায়ন চাকমাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ কর্মীদের বিরুদ্ধে। সোমবার সন্ধ্যায় এই হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাঙামাটি জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগ। এদিকে এ ঘটনার জেরে শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে প্রধান সড়ক বন্ধ করে দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ চাকমা বলেন, ‘জেলা ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক সুপায়ন চাকমা রাঙামাটি স্টেডিয়ামে ফুটবল খেলে বাসায় ফেরার সময় স্টেডিয়াম এলাকায় একদল পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) কর্মী তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় সুপায়ন চাকমাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই ঘটনার প্রতিবাদে আমরা রাঙামাটি শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করি।’

এদিকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুল জব্বার সুজন বলেন, ‘ছাত্রলীগ নেতার ওপর হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করা হবে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি প্রশাসন এসব হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করে তবে লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানান, ছাত্রলীগ নেতার ওপর হামলা প্রতিবাদে ছাত্রলীগ যে হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তার সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগ একাত্মতা ঘোষণা করেছে।

এদিকে ছাত্রলীগের সড়ক অবরোধের পর দোকানপট বন্ধ হয়ে যায়। পুরো শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শহরের বনরূপা থেকে হ্যাপির মোড় এবং কলেজগেইট এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে ছাত্রলীগ কর্মীরা। এ সময় ক্ষুদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মীরা রাঙামাটির পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসানের গাড়িতে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে।

পরে পুলিশ ছাত্রলীগ কর্মীদের ধাওয়া করে সরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশ ব্যাপক রাবার বুলেট ও ফাঁকা গুলি করে। শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বন্ধ হয়ে গেছে সকল দোকানপাট।

এদিকে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ রাঙামাটি জেলা কমিটির সভাপতি রিন্টু চাকমা বলেন, ‘এই হামলার ঘটনার সঙ্গে পিসিপি’র কোনও সম্পর্ক নেই। আমরা খবর নিয়ে জেনেছি, মাঠের খেলার বিরোধকে কেন্দ্র করে এটি হয়েছে। পিসিপি এই ধরনের কোনও ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।’

রাঙামাটির পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান বলেন, ‘খেলা নিয়ে দুই পক্ষের মারামারি হয়। পরে মারামারি ছড়িয়ে পড়ে শহরে। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।’

news portal website developers eCommerce Website Design